সংযুক্ত আরব আমিরাত যেন সত্যিকারের ‘হোম ভেন্যু’ হয়ে উঠেছে আফগানিস্তানের কাছে। মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটিতে তারা দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডে সিরিজে হারাল বাংলাদেশকে। আবুধাবিতে গতকাল রাতে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ১৯১ রানের টার্গেট পেয়েও জিততে পারেনি মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ঘূর্ণি জাদুকর রশিদ খান ৮.৩ ওভার বোলিং করে মাত্র ১৭ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে অলআউট করেন ১০৯ রানে। ৮১ রানের এ জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজও নিশ্চিত করল আফগানরা।
এ নিয়ে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে হারাল আফগানিস্তান। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের মাটিতে এবং ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আরব আমিরাতে টানা দুটি সিরিজে বাংলাদেশকে হারাল তারা। দুই দলের পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজে ৩-২-এ এগিয়ে থাকলেন রশিদ খানরা। বাংলাদেশ ঘরের মাঠে দুটি সিরিজে আফগানদের হারালেও বিদেশে পারেনি। আবার আফগানরা একবার বাংলাদেশের মাঠ থেকে সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে।
১৯১ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই তানজিদ হাসান তামিম শিকার হন আজমতুল্লাহ ওমরজাইয়ের। ব্যর্থতার বৃত্তেই থাকলেন সাবেক অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম ওয়ানডেতে ২ রানে আউট হওয়ার পর আজ সাজঘরে ফিরলেন ৭ রানে! স্বভাবসুলভ মারমুখী খেলতে গিয়ে ২২ রান করে আউট হয়েছেন সাইফ হাসান, যিনি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের নায়ক। সাইফের বিদায়ের পর ছিল কেবলই আসা-যাওয়া। মিরাজও শিকার হন ওমরজাইয়ের।
বাংলাদেশ ইনিংসের শেষটা মুড়িয়েছেন রশিদ খান। তার ঘূর্ণির কোনো জবাব ছিল না বাংলাদেশের ব্যাটারদের কাছে। আফগানরা জেনে যায়, এ উইকেটে ব্যাট করা সহজ না; যদিও উইকেট বুঝতে ব্যর্থ হন শান্ত, মিরাজরা। তাতেই কাল হলো। রশিদের ঘূর্ণিতে একে একে উইকেট বিলিয়ে দিলেন তারা। তাওহীদ হৃদয়কে (২৪ রান) দিয়ে রশিদের ম্যাজিক শুরু। এরপর নুরুল হাসান, তানজিম হাসান, তানভীর ইসলাম ও রিশাদ হোসেনকে নিয়ে ছেলেখেলায় মেতে ওঠেন রশিদ। এছাড়া ওমরজাই ২৭ রানে ৩টি উইকেট নেন।
এর আগে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া আফগানদের বাঁচিয়েছেন ইব্রাহিম জাদরান। তার লড়াকু ব্যাটিংয়ে আফগানরা ৪৪.৫ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯০ রানের পুঁজি পায়। ১৪০ বলে ৯৫ রান করেন জাদরান। রহমত শাহ রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে যান। মিরাজ ৪৩ রানে ৩টি এবং সাকিব ৩৫ রানে ও রিশাদ ৩৭ রানে ২টি করে উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর—
আফগানিস্তান: ৪৪.৫ ওভারে ১৯০/৯ (জাদরান ৯৫, নবি ২২, গজনফর ২২; মিরাজ ৩/৪২, সাকিব ২/৩৫, রিশাদ ২/৩৭)। বাংলাদেশ: ২৮.৩ ওভারে ১০৯ (হৃদয় ২৪, সাইফ ২২; রশিদ ৫/১৭, আজমতুল্লাহ ৩/২৭)। ফল: আফগানিস্তান ৮১ রানে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: ইব্রাহিম জাদরান (আফগানিস্তান)।










