লিওনেল মেসিকে যারা বার্সেলোনাতেই দেখতে চান তাদের জন্য সুখবর বয়ে আনল ক্লাবের নির্বাচন। হোয়ান লাপোর্তা বার্সার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী তিনি কথা রাখলে মেসিকে ন্যু ক্যাম্পে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টাই করবেন ৫৮ বছর বয়সী লাপোর্তা।
বার্সেলোনার ১ লাখ ৯ হাজার ৫৩১ জন বৈধ ভোটারের মধ্যে ৫৫ হাজার ৬১১ জন রোববারের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। এতে ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন লাপোর্তা। ৩০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ভিক্তর ফন্ত, আর তৃতীয় স্থানে থাকা টনি ফ্রেইক্সা ছিলেন অনেক দূরে। নির্বাচন গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে এটি পিছিয়ে যায়।
এর আগে ২০০৩ থেকে ২০১০ পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন লাপোর্তা। ওই সময় পেপ গার্দিওলাকে হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন তিনি। গার্দিওলা বার্সায় দুর্দান্ত সফলতা পান। এবার তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে মারিয়া হোসেপ বার্তোমেউর স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি গত অক্টোবরে পদত্যাগ করেন।
ব্রাজিলিয়ান গ্রেট রোনালদিনহো, ক্যামেরুনিয়ান ফরোয়ার্ড স্যামুয়েল এতোর মতো সুপারস্টারকে বার্সায় নিয়ে আসেন লাপোর্তা। তার সময় বার্সা দুটি চাম্পিয়ন্স লিগ, চারটি লা লিগা আর একটি কোপা ডেল রে জিতেছে।
এবার দ্বিতীয় মেয়াদে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে লাপোর্তা। প্রথমত ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তারকাকে ধরে রাখা, এরপর ক্লাবকে আবার শিরোপার ধারায় ফেরানো। ১১ বছর পর বার্সার শীর্ষ পদে ফেরা লাপোর্তার বিশ্বাস, মেসি ন্যু ক্যাম্পে থাকবেন। রোববার নির্বাচনে জয় শেষে লাপোর্তা বলেন, আজ থেকে ২০ বছর আগে লিও মেসি নামের একটি ছেলের অভিষেক ঘটে বার্সেলোনার অনূর্ধ্ব ১২-১৩ দলে। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কে যখন সন্তানসহ ভোট দিতে দেখেছি তখনই আসলে বুঝে নেয়া যায় আমরা কী বলেছি। সে বার্সেলোনাকে ভালোবাসে। ভোট দেয়াটা তারই প্রতিফলন। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়টি বার্সেলোনাকে ভালোবাসে। আশাকরি, এটাই তাকে বার্সেলোনায় থাকতে সাহায্য করবে এবং আমরাও সেটাই চাই।
বুধবার প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের মাঠে বার্সার ‘মিশন ইম্পসিবল’। ন্যু ক্যাম্পে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শেষ ষোলোর প্রথম লেগে কাতালানরা হেরে গেছে ১-৪ গোলের বিশাল ব্যবধানে। বার্সার আশা কম, তবু আশা করতে দোষ কোথায়। নির্বাচনে জয় শেষে সমর্থকদের চাঙ্গা করতেই হয়তো লাপোর্তা বললেন, চলো এবার প্যারিসে এবং দেখি আমরা আরেকটি স্মরণীয় প্রত্যাবর্তন ঘটাতে পারি কিনা।
সূত্র: মার্কা ও বিবিসি










