ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের একসময়ের পরাশক্তি, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে দুইবারের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। দলটির বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের রেকর্ড ঈর্ষণীয়ই। ৪৭ বারের মোকাবেলায় জয় প্রায় সমানে সমান। ক্যারিবীয়রা জিতেছে ২৪টি, বাংলাদেশের জয় ২১টি। টি-টোয়েন্টিতেও দুই দল প্রায় সমানে সমান। ১৯ বারের মোকাবেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯টি ও বাংলাদেশ ৮টি জিতেছে, দুটি ম্যাচ ছিল ফলহীন।
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ আবারো মুখোমুখি। সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ সফরে এসেছে মেরুন রাঙারা। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সফরে এসে ওয়ানডে সিরিজে ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ হয় ক্যারিবয়ীরা। সেবার দুটি ম্যাচ হয়েছিল মিরপুরে, তৃতীয়টি চট্টগ্রামে। এবার তিনটি ম্যাচই মিরপুরে। ১৮ অক্টোবর থেকে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর ২৭ অক্টোবর থেকে চট্টগ্রামে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে ক্যারিবীয় ও টাইগার বাহিনী।
এখন পর্যন্ত ১২টি ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ। উভয় দল সমান ছয়বার করে সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২৫ বছরের ওয়ানডে দ্বৈরথের শুরুটা ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের, আর শেষটায় দাপট দেখিয়েছে ক্রমে উন্নতি করা বাংলাদেশ। দুই দলের প্রথম পাঁচটি সিরিজের মধ্যে চারটিই জিতেছে ক্যারিবীয়রা। ১৯৯৯ সালে ঢাকা সফরে এসে দুটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে দুটিই দাপটে জিতে নেয় দ্বীপবাসীরা। প্রথম ম্যাচে ৭৩ রানে ও দ্বিতীয় ম্যাচে ১০৯ রানের জয় তুলে নেয় অতিথিরা। ব্রায়ান লারা দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন। ৬২ বলে ১১৭ রানের রাজসিক ইনিংস খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তিনি এনে দেন ৩১৪ রানের পুঁজি। জবাবে বাংলাদেশ ২০৫ রানে গুটিয়ে যায়।
এরপর ২০০২ সালে বাংলাদেশ সফরে ২-০তে, ২০০৪ সালে নিজেদের মাঠে ৩-০তে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে হারায় ক্যারিবীয়রা। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথমবারের মতো সিরিজে হারানোর কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। মাশরাফি বিন মর্তুজার চোটের কারণে সেবার সিরিজে নেতৃত্বের ভার পড়ে সাকিব আল হাসানের ওপর। তরুণ সাকিবের নেতৃত্ব বাংলাদেশ সেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়ে। সেবার এক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটা জিতেছিল স্বাগতিক ক্যারিবীয়রা।
এর পরের তিনটি সিরিজের মধ্যে ক্যারিবীয়রা দুটি জিতলেও তারপর ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজে কর্তৃত্ব করে টাইগাররা। ২০১৮ সালে দুটি এবং ২০১৯, ২০২১ ও ২০২২ সালে টানা পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজে ক্যারিবীয়দের হারায় বাংলাদেশ। দুই দলের সর্বশেষ সিরিজে বিজয়ী ক্যারিবীয়রা। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে ৩-০তে হেরে এসেছে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ।
গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠ থেকে ওয়ানডে সিরিজে হারলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে এসেছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল।
২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই দলের প্রথম দেখা। ওই ম্যাচে মোহাম্মদ আশরাফুলের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ১৬৫ রান তাড়া করে ক্যারিবীয়দের হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ২৭ বলে ৬১ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে আশরাফুল হয়েছিলেন ম্যাচসেরা খেলোয়াড়।
এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পরাশক্তি হয়ে উঠলেও বাংলাদেশ তাদের ছেড়ে কথা বলেনি এবং পরিসংখ্যানই সে সাক্ষ্য দেয়। এমনকি দুই দলের সর্বশেষ দেখায় একপেশেভাবে জয় পায় লিটন দাসের দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদেরই মাঠে হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব দেখায় লিটন দাসের দল। সেন্ট ভিনসেন্টে অনুষ্ঠিত হয় তিনটি ম্যাচ।
বিশ্বকাপের বাইরে এখন পর্যন্ত ৮টি টি-টোয়েন্টি মুখোমুখি হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চারবার ও বাংলাদেশ তিনবার জিতেছে, অমীমাংসিত ছিল একটি সিরিজ।
এবার এমন এক সময়ে বাংলাদেশের মুখোমুখি হচ্ছে ক্যারিবীয়রা, যখন সদ্যই আইসিসির সহযোগী দেশ নেপালের কাছে ১-২ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হেরেছে দলটি। ফল বিপর্যয়ের পর নেতৃত্বে এসেছেন শাই হোপ। নেপাল সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন স্পিনিং অলরাউন্ডার আকিল হোসেন। তাকে সরিয়ে নেতৃত্বে ফেরানো হয়েছে শাই হোপকে। বাংলাদেশ সফরের ওয়ানডে দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন ব্যাটসম্যান আকিম অগাস্ট। ওয়ানডে দলে ফিরেছেন খারি পিয়েরে। টি-টোয়েন্টি দলে রাখা হয়েছে নেপাল সিরিজে অভিষিক্ত বামহাতি পেসার র্যামন সিমন্ডস ও ব্যাটসম্যান আমির জাঙ্গুকে।
১৮ অক্টোবর ঢাকায় প্রথম ওয়ানডে। এরপর একই মাঠে ২১ ও ২৩ অক্টোবর পরের দুটি ওয়ানডে। চট্টলায় তিনটি টি-টোয়েন্টি যথাক্রমে ২৭, ২৯ ও ৩১ অক্টোবর।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে দল: শাই হোপ (অধিনায়ক), অলিক আথানেজ, আকিম অগাস্ট, জেদিয়া ব্লেডস, কেসি কার্টি, রোস্টন চেজ, জাস্টিন গ্রিভস, আমির জাঙ্গু, শামার জোসেফ, ব্রেন্ডন কিং, গুড়াকেশ মোতি, খারি পিয়েরে, শেরফান রাদারফোর্ড, জেইডেন সিলস ও রোমারিও শেফার্ড।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি দল: শাই হোপ (অধিনায়ক), অলিক আথানেজ, আকিম অগাস্ট, রোস্টন চেজ, জেসন হোল্ডার, আকিল হোসেন, আমির জাঙ্গু, শামার জোসেফ, ব্রেন্ডন কিং, গুড়াকেশ মোতি, রোভম্যান পাওয়েল, শেরফান রাদারফোর্ড, জেইডেন সিলস, রোমারিও শেফার্ড ও র্যামন সিমন্ডস।










