ঘরের মাঠ লা বোমবোনেরায় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ার আশা করছিল আর্জেন্টিনা। যদিও ব্রাজিলিয়ান রেফারি বিতর্কিত এক সিদ্ধান্তে লিওনেল মেসির গোল বাতিল করে দিলে জয়বঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা। আরো কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ম্যাচ শেষে আলোচনায় রেফারি রাফায়েল ক্লস।
১-১ গোলে ড্র থাকা অবস্থায় ৫৬ মিনিটে দলগত প্রচেষ্টায় দ্বিতীয় গোল করে আর্জেন্টিনা। কিন্তু এ গোলের পথে প্যারাগুয়ের অ্যাঞ্জেল রোমেরোকে ফাউল করেন আর্জেন্টিনার নিকোলাস গঞ্জালেস। পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সাহায্য নিয়ে গোলটি বাতিল করে দেন ক্লস। ভিডিওতে দেখা যায়, ৫৬তম মিনিটের ৩৫ সেকেন্ডের সময় ফাউল করেন গঞ্জালেস। গোল হয় এর ২৭ সেকেন্ড পর। মাঝের এই সময় আর্জেন্টাইনরা আরো আটটি পাস খেলে গোল আদায় করে নেয়। এই সময় প্যারাগুয়ের কোনো খেলোয়াড় বলটি স্পর্শ করলে গোলটি নাকি বৈধই হতো!
আর্জেন্টিনার এজেকিয়েল প্যালাসিওসকে মারাত্মক ফাউল করেন প্যারাগুয়ের রোমেরো, তাকে হাসপাতালে নিতে হয়। এই চোটে প্রায় মাসখানেক মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে প্যালাসিওসকে। এ সময় ভিএআর এর কোনো সাহায্য নেয়ার প্রয়োজন মনে করেননি ক্লস। এমনকি তিনি রোমেরোকে কোনো কার্ডও দেখাননি! তাই তাকে ঘিরে সৃষ্টি হয় বিতর্ক। আবার আর্জেন্টিনার বক্সে নিকোলাস ওতামেন্দি ‘হ্যান্ডবল’ করলেও তা দেখেননি রেফারি।
ম্যাচ শেষে রেফারি ক্লস ও ভিএআর নিয়ে ক্ষোভ ঝারলেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি, আমি মনে করি ভিএআর ইস্যুতে সঠিক দিকনির্দেশনা থাকা উচিত। খেলার মাঝে আরো অনেক মুহূর্ত ছিল যখন ভিএআর ব্যবহার করা যেত। কিন্তু তা করা হয়নি। আমি ভালো কিংবা খারাপ নিয়ে বলছি না, তবে এ নিয়ে সঠিক নির্দেশনা থাকা উচিত। আমরা একজন খেলোয়াড়কে মাসখানেকের জন্য হারিয়েছি। সেখানে আঘাত করা হলো, অথচ ভিএআর দেখলই না। আমাদের বাতিল হওয়া গোলটিকে আমি বৈধই মনে করি।
ধীরগতিতে শুরু করলেও প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনাই কর্তৃত্ব করে। যদিও এ পথে ২১ মিনিটে পেনাল্টিতে একটি গোল হজম করে বসে মেসিদের দল। রোমেরোই স্পট-কিক থেকে গোল করে এগিয়ে দেন দলকে। ৪১ মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে সমতা আনেন নিকোলাস গঞ্জালেজ।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বাছাই পর্বে সর্বশেষ আট ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে জিততে সমর্থ হয় আর্জেন্টিনা। যদিও আজকের ম্যাচে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে খুশি আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনি। তিনি বলেন, প্রথম মিনিট দল তেমন সাড়া দেয়নি। কিন্তু সত্য বলতে কী, পেনাল্টি গোলের পর সবকিছুই আমাদের দখলে ছিল। দল সাড়া দিয়েছে, গোলের সুযোগ তৈরি করেছে এবং যা কিছু করার প্রয়োজন ছিল তা করেছেও। আমরা ড্র করতে সমর্থ হয়েছি। আমরা সব সময় জয়েই বিশ্বাস করি, কিন্তু এখানে দলের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতাকেও মূল্য দিতে হবে।
টানা তিন জয়ের আশায় খেলা আর্জেন্টিনা মাঠ ছাড়ল ড্র নিয়ে। পরের ম্যাচে তাদের সামনে কঠিন পরীক্ষা। বাছাই পর্বে মঙ্গলবার পেরুর রাজধানী লিমা খেলবেন মেসি ও তার সতীর্থরা।
সূত্র: গোল ডটকম










