ঢাকার মাঠে টেস্টে যখন দর্শক
খরা তখন এজবাস্টনের গ্যালারি টইটম্বুর। পুরো পাঁচদিনের লড়াই মন্ত্রমুগ্ধের মতো
দেখেছেন দর্শক। অ্যাশেজের প্রথম টেস্টের লড়াই বুঝিয়ে দিল, দেশটিতে ক্রিকেট
অনুরাগীরা কেন মাঠে যান। এজবাস্টনে ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলানো দুই দলের ক্ল্যাসিকে মাত্র
২ উইকেটে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত তীরে এসে তরি
ডুবল ইংলিশদের। কিন্তু এই লড়াইয়ে জিতেছে ক্রিকেট।
অ্যাশেজের
প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরা উসমান খাজা। কিন্তু ম্যাচের ‘হিরো’
প্যাট কামিন্স। স্নায়ুর চাপ সামলে নবম উইকেটে ৫৫ রান যোগ করে অজিদের জেতান অধিনায়ক
কামিন্স ও স্পিনার নাথান লায়ন। কামিন্স ৪৪ ও লায়ন ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
৩ উইকেটে ১০৭ রান নিয়ে পঞ্চম
দিন শুরু করা অজিদের ৯০ ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৭৫ রান, হাতে ৭ উইকেট। কিন্তু
বৃষ্টির বাগড়ায় মাত্র দুই সেশন খেলার সুযোগ পায় অতিথি দল। এটা চাপ তৈরি করলেও শেষ
অবধি ২৭ বল বাকি থাকতে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে তারা।
২৮১
রানের লক্ষে খেলতে নামা অজিরা ১৮ বছর আগে এই মাঠে দুই রানে হারের প্রতিশোধ নিল।
সেবার লক্ষ্য ছিল ২৮২ রান। আর ১৯০৭ সালের পর অ্যাশেজে এটা অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ছোট
ব্যবধানে জয়।
এই টেস্ট অস্ট্রেলিয়ার জন্য
যেমন অর্জনের, ইংল্যান্ডের জন্য তেমনি হতাশার। বেন স্টোকস অধিনায়ক হওয়ার পর
আগ্রাসী ক্রিকেট খেলা ইংল্যান্ড ১৪ টেস্টে ও ২৭ ইনিংসে এই প্রথম প্রতিপক্ষকে অলআউট
করতে ব্যর্থ হলো।
হারের কষ্ট ভুলে বেন স্টোকস বরং ম্যাচের প্রতি ক্ষণে যে রোমাঞ্চকর লড়াই হয়েছে সেটিকেই
বড় করে দেখছেন। তার কথায়, ‘এভাবে ম্যাচের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াইটা নিতে পেরে ও এর অংশ
হতে পেরে আমরা খুবই গর্বিত। অনেক উত্থান-পতন ছিল ম্যাচে। এটি এমনই এক ম্যাচ, যা
আমরা বহুদিন পর্যন্ত ভুলতে পারব না। আমরা এমন ম্যাচই খেলতে চাই, যা দর্শককে মাঠে
ধরে রাখতে শেষ পর্যন্ত। আশাকরি আমরা এমন ক্রিকেট খেলতে পেরেছে যা অ্যাশেজের পরের
চারটি টেস্টেও দর্শখকে আকৃষ্ট করবে।’
২৮ জুন লর্ডসে শুরু হবে
সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড: ৩৯৩/৮ডি. ও ২৭২।
অস্ট্রেলিয়া: ৩৮৬ ও ২৮২/৮ (খাজা ৬৫, কামিন্স ৪৪*, লায়ন ১৬*; ব্রড ৩/৬৪, রবিনসন ২/৪৩)।
ফল: অস্ট্রেলিয়া ২ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: উসমান খাজা (১৪১ ও
৬৫)। সিরিজ: পাঁচ ম্যাচের সিরিজে
অস্ট্রেলিয়া ১-০তে এগিয়ে।










