বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে বর্তমানে খেলেন রুপনা চাকমা, রিতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, আনাই মগিনি, আনুচিং মগিনি। তারা দলের অপরিহার্য সদস্যও। বাংলাদেশ সিনিয়র-জুনিয়র উভয় দলে রয়েছেন পার্বত্য অঞ্চলের বেশ কয়েকজন ফুটবলার। গত কয়েক বছর আন্তর্জাতিক অঙ্গন দাপিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে খেলেছেন তারা, দেশের সাফল্যে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ২০২২ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের মিশনে সেরা গোলকিপার হন রুপনা চাকমা। এছাড়া মধ্যমাঠের ভরসা রিতুপর্ণা চাকমা ও মনিকা চাকমা।
পার্বত্য অঞ্চল থেকে এভাবেই বছরের পর বছর কৃতী নারী ফুটবলার উঠে এসেছেন। যদিও তাতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের বড় কোনো অবদান ছিল না। অবশেষে এ অঞ্চল নিয়ে কাজ করতে চলেছে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। পার্বত্য জেলাগুলো থেকে সম্ভাবনাময় নারী ফুটবলার তুলে আনতে নেয়া হয়েছে বিশেষ প্রকল্প।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সামাজিক প্রকল্পের আওতায় বাফুফে পার্বত্য তিন জেলার নারী ফুটবল নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১ জানুয়ারি বাফুফের নারী ফুটবল কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এরই মধ্যে এ প্রকল্পের জন্য অর্থও পেয়েছে বাফুফে। আগামী মাসে বান্দরবানে পাঁচদিনের একটি কর্মসূচি করা হবে। পার্বত্য অঞ্চলের যেকোনো নাগরিক (বাঙালি কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সবার জন্য উন্মুক্ত) এতে অংশগ্রহণ করতে পারবে।
প্রথম দিন পার্বত্য তিন জেলার স্থানীয় কোচদের ফুটবলের প্রাথমিক জ্ঞান দেয়া হবে। এরপর আগ্রহী ফুটবলারদের সেই কোচরা অনুশীলন করাবেন। পরে দুইদিন ক্যাম্পে আসা ফুটবলাররা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে ম্যাচ খেলবেন। সেখান থেকে ১৫ জন বাছাই করবেন বাফুফের প্রতিনিধিরা। এ ১৫ জনের এক বছরের পড়াশোনার ব্যয় বহন করবে ফুটবল ফেডারেশন। তাদের মধ্যে কারো মান বেশ ভালো হলে সরাসরি বাফুফের ক্যাম্পে ডাক পেতে পারে।
সোমবারের বৈঠকে আসন্ন সাফ অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের নানা দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অবশ্য সভায় বাজেট নিয়েই বেশি সময় ধরে পর্যালোচনা হয়েছে।
আলোচনা হয়েছে নারী ফুটবল দলের কোচ নিয়েও। গোলাম রব্বানী ছোটন বিদায় নেয়ার পর নারী ফুটবল দলের হেড কোচের দায়িত্ব পান সাইফুল বারী টিটু, গত ৩১ ডিসেম্বর যার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফুটবল ফেডারেশনের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ জানিয়েছেন, বিদেশী কোচ চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সাইফুল বারী টিটু দায়িত্ব পালন করে যাবেন।










