ভুটানকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে ১৪ বছর পর সাফের সেমিফাইনালে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। আজ বুধবার ( ২৮ জুন) ভারতের বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে ভুটানকে হারিয়ে বাংলাদেশ গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে জায়গা করে নেয় শেষ চারে। বাংলাদেশ আগামী ১ জুলাই সেমিফাইনাল খেলবে কুয়েতের বিপক্ষে। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে লেবানন ও ভারত।

সর্বশেষ ফাইনাল ২০০৫ সালে এবং শেষ সেমিফাইনাল ২০০৯ সালে। এরপর কোনো আসরের সেমিফাইনালে উঠতে না পারা বাংলাদেশ অবশেষে ১৪ বছর পর সেই স্বাদ পেল। তবে ম্যাচের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না জামাল ভূঁইয়াদের। কিছুটা আত্মবিশ্বাস ও আগোছালো খেলার সুযোগ নিয়ে লিড নিয়েছিল ভুটান। পিছিয়ে পড়ার পরই বদলে যায় লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

মালদ্বীপের বিপক্ষে ১৮ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরেছিল ৪২মিনিটে। তবে ভুটানের বিপক্ষে প্রত্যাবর্তনটা আরো দুর্দান্ত। ১২ মিনিটে সেন্দা দর্জির গোলে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরে ২১ মিনিটে। প্রথমবারের মতো একাদশে জায়গা করে নেয়া মোরসালিনের আরেকটি দুর্দান্ত গোল দেখেছেন দর্শক। ৩১ মিনিটে ফুনস্তো জিগমের আত্মঘাতি গোলে লিড নেয় বাংলাদেশ। মোরসালিনের কাছ থেকে উড়ে আসা বল জামালকে দিতে শট নিয়েছিলেন রাকিব। তবে সেই বল ভুটানের জিগমের গায়ে লেগে জড়িয়ে যায় নিজেদের জালে। বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে।

৩৪ মিনিটেই ব্যবধান বাড়িয়ে নিতে পারতো বাংলাদেশ। এবারও সুযোগ এসেছিল রাকিবের সামনে। মোরসালিনের বাড়ানো বল যখন ধরেন রাকিব তখন তার সামনে একা ভুটানের গোলরক্ষক। রাবিক গোলকিপারের পাশ দিয়ে শট নিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় পোস্ট ঘঁষে বল চলে যায় বাইরে।

গোল পেতে এবং ব্যবধান বাড়াতে বেশি সময় নেননি রাকিব। দুই মিনিট পর বক্সের বাইরে ভুটানের ডিফেন্ডার শেরুব দর্জিকে কাটিয়ে রাকিব একাই ঢুকে পড়েন প্রতিপক্ষের বিপদ সীমানায়। ডান পোস্টের কাছ থেকে দুরহ অ্যাঙ্গেলে শট নেন রাকিব। বল দ্বিতীয় পোস্টে লেগে জড়িয়ে যায় জালে। এতে প্রথমার্ধেই বাংলাদেশ  ৩-১ গোলে এগিয়ে যায়।

বিরতির পরপরই দলে জোড়া পরিবর্তন আনেন কোচ। সোহেল রানার জায়গায় জনি ও রাকিবের জায়গায় রফিকুলকে নামান। এর পর মোরসালিনকে তুলে প্রথমবারের মতো সিনিয়র ফরোয়ার্ড আমিনুর রহমান সজীবকে মাঠে নামান ক্যাবরেরা। এর পর চতুর্থ পরিবর্তন করেন সোহেল রানার জায়গায় রবিউলকে। দ্বিতীয়ার্ধে ভুটান বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ রক্ষণে হানা দওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে  কিছু করতে পারেনি তারা। 

বাংলাদেশ একাদশ : আনিসুর রহমান জিকো (গোলরক্ষক), তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষ, রহমত মিয়া, শেখ মোরসালিন (আমিনুর রহমান সজীব), মোঃ হৃদয়, জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা (জনি), ইশা ফয়সাল (আলমগীর মোল্লা), সোহেল রানা-২(রবিউল) ও রাকিব হোসেন (রফিকুল)।