আফগানিস্তানের সঙ্গে টি২০ ফরম্যাটে বাংলাদেশের রয়েছে ১০ ম্যাচের ইতিহাস। এর মধ্যে ৬ ম্যাচ জিতে এগিয়ে রয়েছে আফগানিস্তান। বাংলাদেশ জিতেছে ৪টি। সিরিজ জয়েও এগিয়ে আফগানরা। আগে খেলা তিন সিরিজের মধ্যে আফগানিস্তান একটি জিতেছে, বাকি দুটি ১-১-এ অমীমাংসিত ছিল। সিরিজ জয়ে সমতা আনার সুযোগ এসেছে বাংলাদেশের সামনে। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচটি জিতলেই ২-০-তে সিরিজ নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের। কিংবা ম্যাচটি পরিত্যক্ত হলেও টাইগাররা ১-০-তে সিরিজ জিতে নেবে। ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়। 

টি২০-তে প্রথম দেখা ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ৯ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। ২০২২ সালে শারজায় এশিয়া কাপে মুখোমুখি হয় দুটি দল। ওই ম্যাচে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারায় আফগানরা। 

এর বাইরে ২০১৮ সাল থেকে তিনটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে দুটি দল। ২০১৮ সালে ভারতের দেরাদুনের প্রথম কোনো সিরিজে মুখোমুখি হয় তারা। সেবার বাংলাদেশকে ৩-০-তে গুঁড়িয়ে দেয় আফগানরা। ২০১৯ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের সিরিজটা ১-১-এ শেষ হয়, তৃতীয় ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছিল বৃষ্টিতে। 

২০২২ সালে বাংলাদেশের মাটিতে আরেকবার দ্বিপক্ষীয় টি২০ সিরিজে মুখোমুখি হয় দুটি দল। দুটি ম্যাচই হয়েছিল মিরপুরে। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৬১ রানে ও দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানরা ৮ উইকেটের জয় তুলে নেয়। 

টি২০-তে আফগানদের রয়েছে সমীহ জাগানো একটি দল। রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, মুজিব উর রহমান বিশ্বের ঘরোয়া টি২০ লিগগুলোতে আকাঙ্ক্ষিত নাম। রহমানউল্লাহ গুরবাজ সর্বশেষ আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সে আলো ছড়ান। উঠে আসছেন আরো একঝাঁক তরুণ। এ দলটি বাংলাদেশকে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে। চোখ রাঙাচ্ছিল টি২০ সিরিজেও। যদিও তরুণ তৌহিদ হৃদয় ও শামীম হোসেন দৃঢ়তা দেখিয়ে এক বল বাকি থাকতে ২ উইকেটের জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। স্বাগতিক দলের সামনে এখন সিরিজ জয়ের হাতছানি। 

শুক্রবার সিলেটে জমজমাট লড়াই হয়। শেষ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৬ রান। প্রথম বলেই চার মারলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সমীকরণ নেমে যায় পাঁচ বলে ২ রানে। এরপর হ্যাটট্রিক করে বসলেন পেস বোলার করিম জানাত। এটা টি২০ ক্রিকেটের পঞ্চাশতম হ্যাটট্রিক। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, টি২০ ক্রিকেটের প্রথম হ্যাটট্রিকের শিকার বাংলাদেশ, পঞ্চাশতমটিরও। ২০০৭ সালের টি২০ বিশ্বকাপে ১৭তম ওভারে বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজা ও অলক কাপালিকে পরপর আউট করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান গতি বোলার ব্রেট লি। সব মিলিয়ে টি২০-তে মোট পাঁচবার বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক হয়েছে। 

এ দুজনের বাইরে ২০১৭ সালে শ্রীলংকার লাসিথ মালিঙ্গা, ২০১৯ সালে ভারতের দিপক চাহার ও ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার নাথান এলিস বাংলাদেশের বিপক্ষে টি২০-তে হ্যাটট্রিক করেন। টি২০-তে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চারটি হ্যাটট্রিক হয়েছে শ্রীলংকার বিপক্ষে।

এদিন ম্যাচে জানাতের হ্যাটট্রিকে আকস্মিকই ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। মিরাজ, তাসকিন ও নাসুমের মতো শরিফুলও যদি আউট হয়ে যান! সেই শঙ্কায় গ্যালারিতে তখন পিনপতন নীরবতা। যদিও তরুণ পেস বোলার শরিফুলের সাহসী এক শটে বল চলে যায় সীমানার বাইরে। টাইগারদের সব উৎকণ্ঠাও যেন এক হল্কায় উধাও। জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। 

৬৪ রানে ৪ উইকেট পতনের পর ৪৩ বলে ৭৩ রান যোগ করে বাংলাদেশকে জেতান তৌহিদ ও শামীম। যদিও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। এর পরও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে তারা। 

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ দলনায়ক সাকিব আল হাসান বলেন, ‘কিছুটা নার্ভাসনেস কাজ করেছে। তবে আমাদের মধ্যে বিশ্বাস ছিল। আমাদের শেষের দিকের ব্যাটসম্যানরা সবাই ব্যাটিং করতে পারে। আজকে (শুক্রবার) শরিফুলের সুযোগ ছিল ম্যাচ শেষ করার। তবে আমি চাইছিলাম, মিরাজের সামনে যখন সুযোগ ছিল, সে-ই ম্যাচটি শেষ করে আসতে পারত।’

বিশ্বে টি২০ ক্রিকেটের অন্যতম বড় তারকা সাকিব শেষ ওভারের নাটকীয়তাকে টি২০ খেলার অবিচ্ছেদ্য এক অংশ হিসেবে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ফানি। তবে এভাবেই টি২০ ম্যাচ এগোয়। এসবের কারণেই দর্শকদের জন্য টি২০ ম্যাচ দেখা আরো রোমাঞ্চকর হয়। শেষ পর্যন্ত জয়ী দলে থাকতে পেরে খুশি।’

জয় শেষে তৌহিদ হৃদয়ের অনুভূতি ঝরল এভাবে, ‘‌আমার মনে হয়, আজকের ম্যাচটিতে সবাই অবদান রেখেছি। শুধু আমি, শরিফুল, শামীম, আমরা নই। আমরা তিনজন একসঙ্গে বিশ্বকাপ (যুব) খেলেছি, এজন্যই নয়। শুরু থেকে যদি দেখেন, তাসকিন ভাই ও প্রতিটি বোলার, সাকিব ভাই থেকে শুরু করে সবাই খুব ভালো শুরু এনে দিয়েছে। সবার অবদান ছিল। ফিল্ডিংয়ে হোক বা সব দিক থেকে অবদান রেখেছে। বিশেষভাবে যদি আমাদের কথা বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করি দলে অবদান রাখতে এবং প্রতিটি খেলোয়াড় সেটিই করে। আমরা দেশের জন্য খেলছি। সবসময় এটাই মাথায় থাকে যে দেশের জন্য খেলব, দেশকে ভালো ফল এনে দেব।’

ম্যাচে বাংলাদেশের পরিকল্পনা নিয়ে হৃদয় বলেন, ‘আমাদের একটা পরিকল্পনা ছিল। বিশ্বের সেরা স্পিন দল ওরা। ওদের সঙ্গে রান করাটা কঠিন। তার পরও আমরা চেষ্টা করেছি, যতটুকু সম্ভব ক্যালকুলেটিভ রিস্ক নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে। আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি ম্যাচই চ্যালেঞ্জিং থাকে। যেকোনো প্রতিপক্ষের কারো না কারো ভালো দিক থাকেই। আমরা যেভাবে পরিকল্পনা করেছিলাম, তা বাস্তবায়ন করেছি।’