ফুটবলকে এখনই বিদায় জানাচ্ছেন না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে কবে নাগাদ অবসর নেবেন, সেই পরিকল্পনা তিনি করে ফেলেছেন। অবসর পরিকল্পনাটা বর্তমান ক্লাব আল নাসের এবং পর্তুগালের কর্তাদের জানিয়ে দিয়েছেন ৩৮ বছরের ফুটবল সুপারস্টার। তার মানে, লিওনেল মেসির সঙ্গে তার ফুটবল দ্বৈরথ দেখার সুযোগ এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। 

রোনালদোর বয়স এখন ৩৮ বছর। এ বয়সে একজন ফুটবলারের অবসর নেয়ারই কথা। যদিও রোনালদো এখনো পাল্লা দিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলে যাচ্ছেন। দেশকে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা এনে দিলেও বিশ্বকাপ অধরাই থেকে গেছে তার কাছে। তাই এখনই ফুটবলকে বিদায় জানাতে চান না সিআরসেভেন। ২০২৬ সালে আর একবার চেষ্টা করতে চান বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারটি। তাই পেশাদার ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী ফরোয়ার্ড।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ আসর বসবে উত্তর আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায়। ওই আসরে খেলতে চান রোনালদো, যখন তার বয়স হয়ে যাবে ৪১ বছর। তবে সেখানেই শেষ নয়। ২০২৭ সাল পর্যন্ত খেলতে চান আল নাসেরে, যখন তার বয়স গিয়ে ঠেকবে ৪২-এ! তবে বর্তমান ফর্ম-ফিটনেস দেখে কেউ তাকে বাতিল করে দিতে পারেন না। তিনি চলতি সৌদি পেশাদার লিগে নয় ম্যাচে সর্বোচ্চ ১০ গোল করেছেন। সৌদি আরবের ক্লাব কর্তাদের রোনালদো বলেছেন, ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি করতে আগ্রহী তিনি। আগামী বিশ্বকাপেও পর্তুগালের হয়ে খেলতে চান।

এর আগে একবার ২০২৪ সাল পর্যন্ত পেশাদার ফুটবল খেলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন রোনালদো। সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছেন। আরো তিন বছর খেলতে চান তিনি। এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে ২০২টি ম্যাচ খেলে রেকর্ড ১২৫টি গোল করেছেন সিআরসেভেন।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপে আর খেলতে চান না মেসি। গত বছর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নিজেই সে কথা জানিয়েছেন একাধিকবার। তবে রোনালদো এখনই থামতে চান না। ৪১ বছর বয়স পর্যন্ত তাই খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাহলে বিশ্বকাপে মেসি ও রোনালদোর দ্বৈরথ দেখার সম্ভাবনা ক্ষীণ। 

দুজন আবার একই লিগেও খেলেন না। কাজেই এখন দুজনের দ্বৈরথ হতে পারে দুটি ক্লাবের মধ্যে আয়োজিত কোনো প্রীতি ম্যাচে। 

পর্তুগিজ সুপারস্টার এরই মধ্যে জানিয়েছেন, বর্তমান ক্লাবেই তিনি অবসর নিতে চান এবং সৌদি আরবে তার নতুন জীবন নিয়ে সুখী তিনি। রোনালদোর কথায়, ‘বয়স হয়ে গেলেও আমি এখনো ফু্টবলটা ভালোবাসি, আমি এখনো খেলতে ভালোবাসি, গোল করি ও দলের হয়ে ম্যাচ জিতি। এ কারণে আমি খেলাটা ততদিন চালিয়ে যাব যতদিন না আমার শরীর বলে, “‍ক্রিস্টিয়ানো, এখন থামো।” কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত ভালো লাগে ততক্ষণ আমি দলকে সাহায্য করে যাব। আমার কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো এ মুহূর্তে আমরা সামগ্রিক লিগ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছি।’

অবসরের পর রোনালদো কী করবেন, সেটি এখনো অজানা। তবে তিনি অবসর গ্রহণের পর দ্রুতই একটি ফুটবল ক্লাবের মালিক হবেন, সেটি আগেই জানিয়েছেন। অবসরের দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে তিনি ক্লাবের মালিক হতে চান। 

কিছুদিন আগে স্পেনের মাদ্রিদে নিজের বোতলজাত পানির ব্যবসায়িক কর্মসূচিতে রোনালদো বলছিলেন, ‘ক্লাব মালিক হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না। এ বিষয়টি আমি গত কয়েক বছর ধরেই ভাবছি। আমি একটি ফুটবল ক্লাবের মালিক হতে চাই। আমি আমার ক্যারিয়ারের শেষ দিকে আছি। দু-তিন বছর হয়তো খেলব।’

যদিও এ দু-তিন বছরকে এখন আরেকটু বাড়িয়েছেন তিনি। ২০২৭ সাল পর্যন্ত খেলতে চান ইতিহাসের অন্যতম সেরা এ ফুটবলার। 

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে জানুয়ারিতে আল নাসেরে নাম লেখান রোনালদো। তার দেখাদেখি সৌদি লিগে নাম লেখান করিম বেনজেমাও, যিনি রিয়াল মাদ্রিদে খেলেছেন। এছাড়া নেইমার, সাদিও মানের মতো সুপারস্টাররা সৌদি আরবের ক্লাবে নাম লেখান। যদিও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ না করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান মেসি। আল হিলাল তাকে বছরে ৪০ কোটি ডলার পারিশ্রমিক দিতে চেয়েছিল। যদিও সেই আকর্ষণীয় প্রস্তাবে রাজি না হয়ে তিনি যোগ দিয়েছেন ইন্টার মিয়ামিতে।

গত জুনে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ইউরো বাছাইপর্বে প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ২০০তম ম্যাচ খেলেন এবং গোল করে সেই মাইলফলক উদযাপন করেন তিনি। গত মার্চে কুয়েতের ফরোয়ার্ড বাদের আল মুতাওয়ার ১৯৬ ম্যাচের রেকর্ড টপকে যাওয়া রোনালদো এবার দুশর চূড়ায় উঠে পান গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের স্বীকৃতি। অভিষেকের ২০ বছরের মাথায় তিনি ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়লেন। এ রাতে গোলের রেকর্ডটা আরো সংহত করেন সিআরসেভেন। পর্তুগালের জার্সিতে তার গোলসংখ্যা এখন রেকর্ড ১২৩।

শুক্রবার রাতে ইউরো বাছাইপর্বে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে পর্তুগালকে ৩-২ গোলে জিততে সাহায্য করেন রোনালদো। ওই জয়ে পর্তুগাল উঠে গেছে আগামী বছরের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে। দেশের জার্সিতে ২০২ ম্যাচে এখন তার গোলসংখ্যা ১২৫।