চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে টানা হেরে যায় বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার হারলেই সাড়ে ৯ বছর পর ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ হতো টাইগাররা। যদিও বোলাররা সেই লজ্জা থেকে বাঁচালেন দেশকে। আফগানিস্তানকে ১২৬ রানে অলআউট করে বোলাররাই ভিত গড়ে দেন, যার ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকে সাত উইকেটের সহজ জয় এনে দেন ব্যাটাররা। ১৫৯ বল বাকি থাকতে বাংলাদেশ যখন লক্ষ্য অতিক্রম করে যায়।

 

আজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা আফগানিস্তানকে মাত্র ১২৬ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। একাদশে ফিরেই দুর্দান্ত পারফর্ম করেন তরুণ পেসার শরিফুল ইসলাম (৪/২১) ও অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদ (২/২৩)। দুজন নতুন বলে টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন আফগানদের। সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে বাকিরাও অনবদ্য বোলিং করেন। 

 

শরিফুল ও তাসকিন গতির ঝড় তুলে আফগানদের এলোমেলা করে দেয়ার পর সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতেও বিভ্রান্ত হয় আফগানরা। অভিজ্ঞ সাকিব ১০ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে তুলে নেন ১টি উইকেট। এছাড়া তাইজুল ৩৩ রানে ২টি ও মিরাজ ৩৫ রানে একটি উইকেট নেন।

 

ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ব্যবধান গড়েছেন মূলত শরিফুল। শর্ট বলে তিনি বারবার বিপদে ফেলেছেন আফগান ব্যাটারদের। আগেও দুবার ৪ উইকেট শিকার করলেও রান খরচের হিসেবে এটাই তার সেরা বোলিং ফিগার (৯-১-২১-৪)। প্রথম স্পেলে ৫ ওভারে ৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট ও দ্বিতীয় স্পেলে ৪ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ১ উইকেট তুলে নেন দীর্ঘদেহী এই পেসার।

 

আফগানদের হয়ে দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন মাত্র চারজন। ঢাকায় লিগ খেলা আজমতউল্লাহ ওমরজাই ৭১ বলে ৫৬ রান করেন। এছাড়া হামশতউল্লাহ শহিদি করেন ২২ রান।

 

এরপর লিটন দাস (৬০ বলে ৫৩*), সাকিব (৩৯ বলে ৩৯) ও তৌহিদ হৃদয়ের (১৯ বলে ২২*) ব্যাট ভর করে সহজ জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। ফজলহক ফারুকি ২৬ রানে ২টি ও মোহাম্মদ নবি ৭ রানে ১টি উইকেট নেন।

 

এর আগে টানা দুই জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে আফগানিস্তান। প্রথম ওয়ানডেতে হারের পর তামিম ইকবালের অবসর গ্রহণ ও ইউ-টার্ন নিয়ে সরগরম ছিল দেশের ক্রিকেট। এরপর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরানের সেঞ্চুরিতে বড় হারের মুখে পড়ে বাংলাদেশ।

 

হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্যে খেলতে নামা বাংলাদেশ এই এই ম্যাচে তিনটি পরিবর্তন নিয়ে নামে। এবাদত হোসেন চোটের কারণে সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন। এছাড়া মুস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদকে দেয়া হয়েছে বিশ্রাম। তাদের জায়গায় এসেছেন তাসকিন, শরিফুল ও তাইজুল ইসলাম।