গত ২ জুলাই ইয়াঙ্গুনের থুউন্না স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মিয়ানমারকে ২-১ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশের হয়ে ইতিহাস গড়েন ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, আফঈদা খন্দকাররা। তারা প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেন নারীদের এশিয়ান কাপ ফুটবলে। তাদের মতোই প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে খেলার হাতছানি অনূর্ধ্ব-২০ দলের মেয়েদের সামনেও। এ স্বপ্নপূরণে আজ ভিয়েনতিয়েনের নিউ লাওস ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ন্যূনতম ড্র করতে হবে লাল-সবুজ জার্সিধারী কিশোরীদের।
কাজটা অবশ্য কঠিনই। দক্ষিণ কোরিয়া দুইবারের সাবেক এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন। তারা ২০০৪ ও ২০১৩ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের শিরোপা জয় করে। এছাড়া ২০১০ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট। এই দলটির সামনে আজ বাংলাদেশ, যারা কখনই এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলেনি।
স্বাগতিক লাওসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ সালের এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে শুভসূচনা করে বাংলাদেশ। পিটার বাটলারের দলটি শুক্রবার পূর্ব তিমুরকে (তিমুর-লেস্তে) হারিয়ে দেয় ৮-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে। বাংলাদেশের হয়ে হ্যাটট্রিক করেন তৃষ্ণা রানী। প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করা সাগরিকাও লক্ষ্যভেদ করেন। এছাড়া একটি করে গোল পান সিনহা জাহান শিখা, শান্তি মার্ডি, নবীরন খাতুন ও মুনকি আক্তার। এ জয়ে ‘এইচ’ গ্রুপে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যায় বাংলাদেশ।
৬ আগস্ট পূর্ব তিমুরকে ৯-০ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। যেহেতু গ্রুপে বাংলাদেশের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণ কোরিয়া, তাই পূর্ব তিমুরকে বড় ব্যবধানে হারানোর পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ দলেরও এবং এ পরিকল্পনায় তারা দারুণ সফল। পূর্ব তিমুরকে ৮-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ টপার হওয়ার রেসে থাকে বাংলাদেশ। শুক্রবার পরের ম্যাচে স্বাগতিক লাওসের বিপক্ষে দক্ষিণ কোরিয়া মাত্র ১-০ গোলের ব্যবধানে জেতায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বাংলাদেশের মেয়েরা। কেননা দুই রাউন্ড শেষে বাংলাদেশই থাকছে গ্রুপের শীর্ষে।
২ রাউন্ড শেষে দুই দলই সমান ২টি করে জয় নিয়ে সমান ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। দুই দলের গোল ব্যবধানও সমান ১০। তাহলে কীভাবে আলাদা করা যাবে দুই দলকে? কে কতটি গোল করেছে, সেই হিসাবে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের জালে বাংলাদেশ ১১ গোল করেছে, আর হজম করেছে ১টি গোল। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার মেয়েরা প্রতিপক্ষকে দিয়েছে ১০ গোল, যদিও তারা কোনো গোল হজম করেনি। দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়ে প্রতিপক্ষকে ১ গোল বেশি দেয়ার বিবেচনায় গ্রুপের শীর্ষস্থান পেয়েছে বাংলাদেশ!
এ ১টি গোলের কল্যাণে গ্রুপের শীর্ষস্থানে থাকা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের কিশোরীদের সামনে এবার এশিয়া কাপে খেলার হাতছানি। যদি আজকের ম্যাচটি বাংলাদেশ জিতে যায় তাহলে তো কোনো কথাই নেই, সরাসরি উঠে যাবে মূল পর্বে। ড্র করলেও বাংলাদেশ গ্রুপের এক নম্বর দল হিসেবে মূল পর্বের টিকিট পাবে। যেকোনো ব্যবধানেই ড্র হোক না কেন, বাংলাদেশকে আর টপকানো কোরীয়দের পক্ষে সম্ভব নয়। বাংলাদেশ হেরে গেলে অবশ্য অন্য কথা। সেক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া গ্রুপসেরা হিসেবে মূল পর্বে উঠে যাবে।
হারলে কি বাংলাদেশের সব সম্ভাবনা শেষ? নিশ্চয়ই না। হারলেও গ্রুপ রানার্সআপ তো হবেই বাংলাদেশ এবং সেটা নিশ্চিতই। কেননা লাওস ও পূর্ব তিমুর টানা দুই ম্যাচ হেরে এরই মধ্যে বিদায় নিয়েছে। আজ এ দুটি দলও মুখোমুখি হবে। তবে এ ম্যাচের ফলাফল বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
তাহলে রানার্সআপ হয়ে কীভাবে মূল পর্বে উঠতে পারে বাংলাদেশ? আটটি গ্রুপের আটটি রানার্সআপ দলের মধ্য থেকে সেরা তিনটি দল পাবে মূল পর্বের টিকিট। যেহেতু বাংলাদেশের গোল ব্যবধান বেশ ভালো (+১০), তাই রানার্সআপ দলগুলোর মধ্যে সেরা তিনে থাকার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ১, ২ কিংবা ৩ গোলে হারলেও রানার্সআপ দলগুলোর মধ্যে সেরা তিনে থাকা খুবই সম্ভব।
আগামী বছর এপ্রিলে থাইল্যান্ডে বসবে ১২তম এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ। স্বাগতিক হিসেবে মূল পর্বের টিকিট পেয়েছে থাইল্যান্ড। বাছাইপর্ব খেলে আসবে আর ১১টি দল। ৩৩টি দল ৮টি গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দল সরাসরি উঠবে মূল পর্বে। এরপর দ্বিতীয় হওয়া ৮ দলের মধ্যে সেরা ৩টিও পাবে মূল পর্বে খেলার টিকিট। বাংলাদেশের সামনে গ্রুপসেরা হয়ে কিংবা রানার্সআপ হয়েও মূল পর্বে ওঠার সুযোগ রয়েছে।
সিনিয়র এশিয়া কাপের বাছাইপর্বে আলো ছড়ানো জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় রয়েছেন অনূর্ধ্ব-২০ দলেও। অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার দলের প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে অনূর্ধ্ব-২০ দলেরও নেতৃত্বে রয়েছেন। তার যোগ্য নেতৃত্বে গত মাসেই সাফ শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল। এবার প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের মূল পর্বে ওঠার হাতছানি। এছাড়া সিনিয়র দল থেকে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে খেলছেন সাগরিকা, মুনকি আক্তার, উমেলা মারমা, স্বপ্না রানী।
এদিকে ‘ডি’ গ্রুপ থেকে ভারতেরও এশিয়া কাপের মূল পর্বে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ইয়াঙ্গুনে আজ স্বাগতিক মিয়ানমারের মুখোমুখি হবে ভারত। এ ম্যাচের বিজয়ী সরাসরি উঠে যাবে এশিয়ান কাপে। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ভারতের জন্য ড্র-ই যথেষ্ট, আর মিয়ানমারকে জিততে হবে।
এছাড়া ‘এ’ গ্রুপে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া, ‘বি’ গ্রুপে তিনবারের রানার্সআপ ভিয়েতনাম, ‘সি’ গ্রুপে বিশ্বকাপে দুইবারের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট অস্ট্রেলিয়া, ‘ই’ গ্রুপে একবারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন ও দুইবারের বিশ্বকাপ রানার্সআপ চীন, ‘এফ’ গ্রুপে ছয়বারের এশিয়ান ও একবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জাপান, ‘জি’ গ্রুপে উজবেকিস্তান ফেভারিট।










