গত চার-পাঁচ বছর যেকোনো দলবদল উইন্ডো এলেই সর্বাগ্রে চলে আসে কিলিয়ান এমবাপ্পের নাম। জানুয়ারির শীতকালীন দলবদল সামনে রেখে আবারো আলোচনায় তিনি। গুঞ্জন রয়েছে, মোহাম্মদ সালাহ আগামী মৌসুমে লিভারপুল ছেড়ে চলে যাবেন এবং অ্যানফিল্ডে তার জায়গা নেবেন এমবাপ্পে। যদিও তাকে পাওয়ার রেসে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে লিভারপুলকে। 

লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর এমবাপ্পেকেই মনে করা হয় বিশ্বের সেরা ফুটবলার। কয়েক মৌসুম ধরেই তাকে কেনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রতিবার তিনি যেতে চাইলেও শেষ মুহূর্তে তাকে ধরে রাখতে সমর্থ হয় প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। এবার পরিস্থিতিটা ভিন্ন। আগামী গ্রীষ্মেই পিএসজির সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। জানুয়ারিতে তিনি চাইলে কোনো ক্লাবের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। সেই ক্লাবটি কি রিয়াল, নাকি লিভারপুল?

সংবাদমাধ্যমের খবর, এমবাপ্পে এরই মধ্যে প্যারিস জায়ান্টদের বলে দিয়েছেন, তিনি আগামী মৌসুমে চলে যাবেন। ধারণা করা হয়, তার পরের গন্তব্য রিয়াল মাদ্রিদ। যদিও একাধিক সূত্র টিমটককে নিশ্চিত করেছে, এমবাপ্পেকে পেতে চায় একাধিক ক্লাব। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম প্রিমিয়ার লিগ জায়ান্ট লিভারপুল। এমবাপ্পের মতো বিশ্বমানের একজন স্ট্রাইকারকে নিজেদের তাঁবুতে নিতে মরিয়া অল রেডরা। এজন্য বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। তবে সেই বিনিয়োগের সুযোগও গ্রীষ্মে তৈরি হতে পারে তাদের। সালাহ চলে গেলে তাকে বিক্রি করে যে অর্থের সংস্থান হবে তা দিয়ে এমবাপ্পেকে কেনার কাজটি সহজ হবে। 

লিভারপুলের সবচেয়ে বড় তারকা সালাহ গত অর্ধ দশক অল রেডদের অসংখ্য সাফল্য এনে দিয়েছেন। তিনি চলতি মৌসুমেও দারুণ ফর্মে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত করেছেন ১০ গোল। 

সৌদি আরবের পেশাদার লিগের টার্গেটে রয়েছেন সালাহ। রোনালদো, নেইমার, করিম বেনজেমার পর সালাহর মতো আরেক সুপারস্টারকে উড়িয়ে নিতে চায় তারা। সালাহ যদি সত্যিই সৌদি আরবের কোনো ক্লাবে নাম লেখান, তবে তাকে ছেড়ে দিয়ে বড় অংক ঘরে তুলবে লিভারপুল। সেক্ষেত্রে তাদের এমবাপ্পেকে কিনতে খুব অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

এ মৌসুম শুরুর আগে আল-ইত্তিহাদ মিসরীয় ফরোয়ার্ডকে ২০ কোটি পাউন্ডের প্রস্তাব দিয়েছিল, সঙ্গে লিভারপুলকে ১৫ কোটি পাউন্ড দিত তারা। যদিও ইংলিশ জায়ান্টরা অর্থের প্রলোভনে না পড়ে খেলোয়াড়টিকে বিক্রির প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। ২০২৪ সালে মন পাল্টাতে পারেন লিভারপুল কর্মকর্তারা। তাদের টার্গেট যে এখন এমবাপ্পে। 

ফরাসি সুপারস্টারকে অ্যানফিল্ডে আনতে হলেও বিরাট অংক লাগবে। হয়তো ‘ফ্রি এজেন্ট’ হিসেবে তাকে আনতে ট্রান্সফার ফি লাগবে না, তার পরও খরচের অংকটি নেহাত কম নয়। তাকে দলভুক্ত করলেও বেতন কাঠামোতেও বিরাট পরিবর্তন আসবে অল রেডদের। ২৪ বছর বয়সী বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পিএসজিতে খেলে বছরে ৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড বেতন পান। এখন তাকে আনতে হলে এর কাছাকাছি বেতনের প্রস্তাব দিতে হবে লিভারপুলকে। 

পিএসজি এরই মধ্যে জানতে পেরেছে, চলতি মৌসুম শেষে মাদ্রিদে যোগ দেয়া নিয়ে ক্লাবটির সঙ্গে এমবাপ্পের নীতিগতভাবে সমঝোতা হয়েছে। তাই পিএসজিতে এখন রাজ্যের হতাশা। খেলোয়াড়টি পিএসজির সঙ্গে আর কিছুতেই চুক্তি নবায়ন করবেন না এবং গ্রীষ্মে চলে যেতে চান। 

বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়টিকে বিনা ফিতে চলে যেতে দেয়াটাই পিএসজির জন্য চরম হতাশাজনক। তবে কাতারি মালিকপক্ষ এখন বিষয়টি আর সামনে এগোতে চায় না। তারা এমবাপ্পে ও তার এজেন্টকে বলে দিয়েছেন, সে চাইলে চলে যেতে পারে। এ খবরে নড়েচড়ে বসেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কর্মকর্তারা। সেসঙ্গে ক্ষীণ আশা জেগেছে লিভারপুলেও। 

টিমটকের আরেক খবরে বলা হয়, সালাহ ছাড়াও সেভিয়ার স্প্যানিশ ডিফেন্ডার সার্জিও রামোস ও ম্যানচেস্টার সিটি বেলজিয়ান মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইনাও আছেন আল-ইত্তিহাদের রাডারে। এ খবরে লিভারপুলের পাশাপাশি সিটিতেও ঝড় উঠবে। কেননা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিটির সাফল্যের অন্যতম রূপকার এই ডি ব্রুইনা। 

রোনালদো, নেইমার, সাদিও মানি, রবার্তো ফিরমিনো, বেনজেমার পর এবার আরো একঝাঁক খেলোয়াড়কে টানতে চায় সৌদি প্রো-লিগ। আল-নাসের, আল-ইত্তিহাদ, আল-হিলাল ও আল-আহলির মালিক দ্য সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড তাদের পছন্দের খেলোয়াড়গুলোকে যেকোনো অংকে পেতে চায়। 

গত গ্রীষ্মে সালাহকে প্রস্তাব দিয়েছিল আল-ইত্তিহাদ। যদিও সেই প্রস্তাবে রাজি হননি মিসরীয় তারকা। কিন্তু আগামী মৌসুমে তিনি সৌদি লিগে নাম লেখাতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। আল-ইত্তিহাদ প্রেসিডেন্ট আনমার আল-হাইলি সমর্থকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সালাহকে তিনি নিয়ে আসবেন। 

এদিকে, বেলজিয়ান তারকা কেভিন ডি ব্রুইনাকেও দেখা যেতে পারে সৌদি লিগে। তিনিও আল-ইত্তিহাদের রাডারে রয়েছেন। 

এছাড়া কিংবদন্তি স্প্যানিশ ডিফেন্ডার সার্জিও রামোসকেও চায় সৌদি লিগ। গত বুধবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে ১০ হাজারতম গোলটি করেন রামোস। সেভিয়া, রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসজি ঘুরে তিনি এখন খেলেন শৈশবের ক্লাব সেভিয়ায়। ওই ক্লাবটির হয়ে বুধবার রাতে ডাচ ক্লাব আইন্দহোফেনের বিপক্ষে গোল করেন রামোস। যদিও তার দল সে ম্যাচে হেরেছে ৩-২ গোলে। 

স্প্যানিশ আউটলেট এএসকে আল-হাইলি বলেছেন, ‘আমি নীরবই ছিলাম...কিন্তু সালাহ, রামোস ও ডি ব্রুইনাকে নিয়ে ট্রান্সফার মার্কেটে কী ঘটছে, তা নিয়ে শিগগিরই কথা বলব।’

আল-ইত্তিহাদের সঙ্গে ৩২ বছর বয়সী ডি ব্রুইনার চুক্তিটা ২০২৫ সাল পর্যন্ত। সিটির হয়ে গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন ডি ব্রুইনা। সিটির হয়ে সব ধরনের ট্রফি জেতায় এখন তিনি সিটিজেনদের বিদায় বলতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। সৌদি লিগের পক্ষ থেকে যে আর্থিক অংকের প্রস্তাব করা হবে, তা ফিরিয়ে দেয়াও তার জন্য কঠিন। 

ব্রুইনার মতো ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে লিভারপুলের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে সালাহর। তার মতো মেধাবী এক খেলোয়াড়কে হারাতে চাইবে না লিভারপুল। যদিও কোটি কোটি পাউন্ডের কাছে হার মানতে পারে অল রেডরা। 

টিমটক, ফুটবল ট্রান্সফার