ভারতের বিপক্ষে আজ শনিবার সিরিজ
নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ফারজানা হক পিংকির সেঞ্চুরিতে ভর করে ৫০ ওভারে ৪
উইকেটে ২২৫ রান তোলে বাংলাদেশ। এদিন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে ইতিহাস গড়েন ৩০ বছর
বয়সী ফারজানা। এর আগে ৫৬ ওয়ানডের ইতিহাসে বাংলাদেশের কেউ সেঞ্চুরি করতে পারেননি। পরে
রান তাড়া করতে নেমে ৪৯.৩ ওভারে ২২৫ রানে অলআউট ভারত। বৃষ্টিতে ম্যাচের সময় নষ্ট
হওয়ায় সুপার ওভারের কোনো সুযোগও ছিল না। ফলে ম্যাচটি টাই হিসেবেই গণ্য হচ্ছে। এতে
তিন ম্যাচ সিরিজটা ১-১-এ সমতায় থাকল। ট্রফি ভাগাভাগি করে দুই দল।
নাটকীয় ম্যাচে রান তাড়া করতে নেমে ৩২
রানে ২ উইকেট হারায় ভারত। কিন্তু এরপর স্মৃতি মন্ধানা (৫৯) ও হারলিন দেওলের (৭৭)
ব্যাটে ভর করে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করে অতিথিরা। একটি পর্যায়ে ৪১.১ ওভারে তাদের
সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯১/৪। কিন্তু এই ম্যাচটি তারা জিততে পারেনি। শেষ ৩৪ রানে পড়েছে
তাদের ৬ উইকেট।
৩ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ১৮ বলে ১০ রানের
প্রয়োজন ছিল ভারতের। ৪৮তম ওভারে সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তার স্নেহ রানা ও দেবিকা
বৈদ্যকে সাজঘরে ফেরালে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।
সমীকরণ দাঁড়ায়—শেষ ১২ বলে ৯ রান, হাতে ১
উইকেট। সুলতানা খাতুন দিলেন ৬ রান। শেষ ৬ বলে প্রয়োজন ৩ রান। বাঘিনী মারুফা
আক্তারের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা। তিনি পরপর দুই বলে দুই রান দিলে
ম্যাচ টাই হয়ে যায়। কিন্তু আশা ছাড়ছিল না বাংলাদেশ। মারুফাকে নিয়ে ছোট্ট মিটিং সারেন
নিগার ও নাহিদা। ফলও হলো। ১৮ বছর বয়সী পেসার অফসাইডে লেংথ বল দিলে মেঘনা সিং
দুর্বল কাট করতে গেলে ধরা পড়েন উইকেটকিপার নিগারের হাতে। অলআউট ভারত, ম্যাচ টাই!
অবিশ্বাস্য, অভাবনীয়। যে ভারতকে ওয়ানডেতে
কখনই হারাতে পারেনি বাংলাদেশ, সেই দলটিকে একই সিরিজে একবার হারানোর পাশাপাশি একবার
ম্যাচে টাইও করল বাংলাদেশের নারীরা।
এর আগে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়োমে আজ
সকালে টস জিতে ব্যাটিং নেয়া বাংলাদেশ ফারজানা ও শামীমা সুলতানার ওপেনিং জুটিতেই
পায় ৯৩ রান। শামীমা ৭৮ বলে ৫২ রান করে স্নেহ রানার শিকার হয়ে ফেরার পর দ্বিতীয়
উইকেটে অধিনায়ক নিগার সুলতানার সঙ্গে বোর্ডে আরো ৭১ রান তোলেন ফারজানা।
নিগার (৩৬ বলে ২৪) ও রিতু মনি (২) খুব
দ্রুততম সময়ের ব্যবধানে আউট হয়ে যান (১৬৯/৩)। নিগারকে রানা ও রিতু মনিকে আউট করেন
দেবিকা বৈদ্য। এরপর বাকি ৮.১ ওভার সোবহানা মোস্তারিকে নিয়ে কাটিয়ে দেন ফারজানা।
ইনিংসের শেষ বলে রানআউটের শিকার হন এই সেঞ্চুরিয়ান ব্যাটার। তিনি ১৬০ বলে ৭ বাউন্ডারির
সাহায্যে ১০৭ রান করেন। আর মোস্তারি ২২ বলে ২৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। অতিরিক্ত
খাত থেকে বাংলাদেশ পেয়েছে ১৭ রান।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ
দলীয় সংগ্রহ এটি, আর দেশের মাঠে সর্বোচ্চ। গত বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে করা ২৩৪
রানই ওয়ানডেতে নারীদের সর্বোচ্চ স্কোর।
ওয়ানডেতে ফারজানার সেঞ্চুরির আগে আগের
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৫ রানের ইনিংস ছিল সালমা খাতুন ও রুমানা আহমেদের। ২০১৩
সালে দুজনই ইনিংস দুটো খেলেন ভারতের বিপক্ষে।
ওয়ানডে সিরিজের প্রথম
ম্যাচটি বাংলাদেশ জিতেছে ডিএলএস মেথডে ৪০ রানে, আর দ্বিতীয় ম্যাচে ভারত ১০৮ রানের জয়
পায়। শেষ ম্যাচটি টাই হওয়ায় যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন দুই দল।
এর আগে তিন ম্যাচের টি২০
সিরিজটা ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় ভারত।
৫৭ ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ
জিতেছে ১৫টি, হেরেছে ৩৬টি, আর ফলহীন ছিল ৬টি। ১৫২টি টি২০ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের জয়
৫৬টি, হার ৯৩টি, আর ফলহীন ৩টি।










