আর্লিং হালান্ড ও কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল, লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকের পর অপেক্ষা ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। কিন্তু পর্তুগিজ মহাতারকা আলো ছড়াতে পারলেন না নিজের শেষ বিশ্বকাপ অভিযানের প্রথম ম্যাচে। একাধিক সুযোগ পেয়েও গোলের ঠিকানা খুঁজে নিতে পারেননি ৪১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। ফলে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে পঞ্চম স্থানে থাকা পর্তুগাল ৪৬তম স্থানে থাকা ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে।

হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আধিপত্য দেখিয়েও জয় তুলে নিতে পারেনি রবার্তো মার্তিনেজের দল। বরং ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ডিআর কঙ্গোর কাছে পয়েন্ট খুইয়ে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।

ম্যাচের শুরু থেকেই পর্তুগাল এগিয়ে যায়। মাঝমাঠে ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনিয়া ও জোয়াও নেভেসের সমন্বয়ে বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে তারা। ফলও আসে দ্রুত। ষষ্ঠ মিনিটে পেদ্রো নেতোর নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ হেডে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন জোয়াও নেভেস। ১ দশমিক ৭৪ মিটার উচ্চতার এই মিডফিল্ডার ডিআর কঙ্গোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে প্রায় বাধাহীনভাবে বল জালে পাঠান।

গোলের পরও পর্তুগালই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। বল দখলে আধিপত্য থাকলেও গোলের দেখা পায়নি দলটি। রোনালদোকে ঘিরে গ্যালারিতে প্রতিবারই উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও আল-নাসরের এই ফরোয়ার্ডকে খুব বেশি কার্যকর অবস্থানে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ডিআর কঙ্গো ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে। অ্যারন ওয়ান-বিসাকা ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে গতি আনেন, আর সেদ্রিক বাকাম্বু ও ইয়োয়ান উইসা নিয়মিতই পর্তুগিজ রক্ষণকে ব্যস্ত রাখেন। ১০ মিনিটে উইসার একটি শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। এরপরও আফ্রিকান দলটি সীমিত বল দখলকে কার্যকর আক্রমণে রূপ দিতে থাকে।

প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে তাদের প্রচেষ্টার পুরস্কার আসে। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে কর্নার থেকে ছোট পাসে বল পান আর্থার মাসুয়াকু। বাঁ পায়ের নিখুঁত ক্রসে পেছনের পোস্টে ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা উইসা শক্তিশালী হেডে গোল করে সমতায় ফেরান ডিআর কঙ্গোকে। গোলটি ম্যাচের গতিপথই বদলে দেয়।

বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়াতে বার্নার্দো সিলভার পরিবর্তে ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওকে নামান মার্তিনেজ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পর্তুগাল কিছুটা বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও ডিআর কঙ্গো পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত আর কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।

ফলে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করার সুযোগ হাতছাড়া করল পর্তুগাল। রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম ধাক্কাটা দিয়ে দিল আফ্রিকার ‘লিওপার্ডস’রাই।