আগামী গ্রীষ্মে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। এবার প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে ৪৮ দল এবং যোগ হচ্ছে ‘রাউন্ড অব ৩২’। মোট ১২ গ্রুপে চারটি করে দল লড়বে গ্রুপ পর্বে। বড় দলগুলোর মুখোমুখি দেখা হওয়ার আগে দীর্ঘ সময় চলা গ্রুপ পর্ব গুণগতভাবে কিছুটা দুর্বলই হয়ে পড়েছে হয়তো—এমনই মত বিশ্লেষকদের।
শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ড্র। এ ড্রর ফল প্রকাশের পরই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। গ্রুপ পর্বে শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ম্যাচ বলতে থাকছে ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া। ২০১৮ সালের সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি হবে এ ম্যাচে। এটাই একমাত্র গ্রুপ ম্যাচ যেখানে দুই দলই আছে বিশ্ব র্যাংকিংয়ের শীর্ষ দশে। এর পরের বড় লড়াই ব্রাজিল (পঞ্চম) বনাম মরক্কো (১১তম)।
গ্রুপ ‘আই’-এর একটি ম্যাচের দিকে চোখ থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের। সেটা র্যাংকিংয়ের জন্য নয়, দুই দলের দুই ট্যালিসম্যানিক আইকনের জন্য। বাছাইপর্বে ১৬ গোল করে নরওয়েকে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে টেনে এনেছেন ম্যানসিটির গোলমেশিন আর্লিং হাল্যান্ড। গ্রুপ ‘আই’তে নরওয়ের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা—কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স। বিশ্ব ফুটবল দেখবে প্রিমিয়ার লিগ ও লা লিগার শীর্ষ গোলদাতার প্রথম হেড টু হেড দ্বৈরথ।
২০১০ বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে এবারের আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে লড়বে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। থাকছে আরেকটি আকর্ষণীয় লড়াই—ফ্রান্স বনাম সেনেগাল। ২০০২ সালে সেনেগাল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল, আবার দেখা হচ্ছে দুই দলের।
র্যাংকিং অনুযায়ী সবচেয়ে কঠিন গ্রুপে পড়েছে নেদারল্যান্ডস। জাপান, তিউনিসিয়া ও প্লে-অফ জয়ীর সঙ্গে খেলবে ডাচরা। অন্যদিকে, সবচেয়ে সহজ গ্রুপে জার্মানি। তাদের সঙ্গী একুয়েডর, আইভরি কোস্ট ও নবাগত কুরাসাও।
ধরে নেয়া যাক, টুর্নামেন্টের সব বড় দলই নিরাপদে তাদের গ্রুপ পর্ব পেরোতে সক্ষম হবে। অনুমানটা বিপজ্জনক হলেও সেই সাপেক্ষে শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে দেখা হয়ে যাওয়ার জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। ড্র অনুযায়ী, শেষ ১৬-তেই দেখা হতে পারে দুই সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও ফ্রান্সের।
২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল। সেবার ম্যাট হামেলসের হেডে পাওয়া গোলেই জার্মানি এগিয়ে যায় এবং ম্যাচ জিতেও নেয়। ড্র বলছে, জার্মানি যদি এবারো ইতিহাসের সেই ধারা বজায় রাখতে পারে, তার পরও ফাইনালে যাওয়ার পথে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে নেদারল্যান্ডস ও স্পেনের মতো শক্ত প্রতিপক্ষ। সবচেয়ে সহজ গ্রুপে থেকেও নকআউট পর্বে জার্মানির পথ হবে সবচেয়ে দুর্গমগুলোর অন্যতম।
ড্রর অন্য অর্ধে নজরে থাকবে আরেক সম্ভাবনা—লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা বনাম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। যদি দুই দলই নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে থেকে শেষ ৩২ এবং শেষ ১৬ পার হতে পারে, তবে কোয়ার্টার ফাইনালেই মুখোমুখি হতে পারেন দুই মহাতারকা।
সবকিছুই নির্ভর করছে গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্সের ওপর। তবে নিশ্চিত একটাই—এ বিশ্বকাপে উত্তেজনা শুরু হবে অনেক আগেই, শেষ হবে শেষ বাঁশির সঙ্গে।
মেক্সিকোয় এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আসর বসছে। ১১ জুন মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচ। সব মিলিয়ে ১৩ ম্যাচ আয়োজন করবে দেশটি। কানাডাও সমান ১৩টি ম্যাচ আয়োজন করবে। ১২ জুন টরন্টো স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ আয়োজন করবে কানাডা।
১৯৯৪ সালে সফলভাবে বিশ্বকাপ আসর আয়োজনের ৩২ বছর পর আবার আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। ১২ জুন লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ম্যাচ। ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এ ফুটবল আসরের।
কে কোন গ্রুপে
গ্রুপ ‘এ’ মেক্সিকো, দ. আফ্রিকা, দ. কোরিয়া, প্লে-অফ জয়ী দল
গ্রুপ ‘বি’ কানাডা, কাতার, সুইজারল্যান্ড, প্লে-অফ জয়ী দল
গ্রুপ ‘সি’ ব্রাজিল, মরক্কো, হাইতি, স্কটল্যান্ড
গ্রুপ ‘ডি’ যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া, প্লে-অফ জয়ী দল
গ্রুপ ‘ই’ জার্মানি, কুরাসাও, আইভরি কোস্ট, একুয়েডর
গ্রুপ ‘এফ’ নেদারল্যান্ডস, জাপান, তিউনিসিয়া, প্লে-অফ জয়ী দল
গ্রুপ ‘জি’ বেলজিয়াম, মিসর, ইরান, নিউজিল্যান্ড
গ্রুপ ‘এইচ’ স্পেন, কেপ ভার্দে, সৌদি আরব, উরুগুয়ে
গ্রুপ ‘আই’ ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে, প্লে-অফ জয়ী দল
গ্রুপ ‘জে’ আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান
গ্রুপ ‘কে’ পর্তুগাল, উজবেকিস্তান, কলম্বিয়া, প্লে-অফ জয়ী দল
গ্রুপ ‘এল’ ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা, পানামা









