আর্জেন্টাইন মহাতারকা দিয়েগো ম্যারাদোনা চলে গেলেন গত মাসে। এবার অনন্তলোকের পথ ধরলেন আরেক বিশ্বকাপ হিরো, ইতালির কিংবদন্তি ফুটবলার পাওলো রোসি। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ৬৪ বছর বয়সে মারা যান তিনি। 

ইতালির ‘রাই স্পোর্ট’ আজ ভোরে রোসির মৃত্যুর খবর দেয়। এই চ্যানেলের হয়েই সর্বশেষ ফুটবল বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছিলেন রোসি।   

রাই স্পোর্ট এর প্রেজেন্টার এনরিকো ভ্যারিয়ালে আজ ভোরে এক আবেগঘন টুইটে বলেন, খুবই দুঃখের খবর: পাওলো রোসি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। অবিস্মরণীয় পাবলিতো, যে কিনা বিরাশির গ্রীষ্মে আমাদের সবাইকে প্রেমে ফেলেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাই স্পোর্টে মূল্যবান আর খুবই কর্মদক্ষ এক সহকর্মী হয়ে উঠেছিলেন তিনি। শান্তিতে ঘুমাও পাওলো।

এই খবর প্রকাশের পরপরই রোসির স্ত্রী ক্যাপেলেত্তি ফেদেরিকা দুজনের একটি ফাইল ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে লিখেছেন-চিরতরে। অবশ্য স্বামীর মৃত্যুর কারণ তিনি জানাননি। 

ক্লাব পর্যায়ে জুভেন্টাস ও এসি মিলানের হয়ে খেলা রোসি ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে প্রায় একাই চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন ইতালিকে। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে তিনটি গোলই করেছিলেন তিনি। সেমিফাইনালে প্যোলান্ডের বিপক্ষেও করেন জোড়া গোল। ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে আজ্জুরিরা জয় পায় ৩-১ গোলের জয়, দলের প্রথম গোলটি রোসিরই করা। 

৬ গোল করে সেবার গোল্ডেন বুট জয় করেন রোসি। সঙ্গে টুর্নামেন্টসেরার গোল্ডেন বলও ওঠে তারই হাতে। বিশ্বকাপ তো রয়েছেই। বিশ্বকাপ, গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুট—এই তিনটাই এক আসরে জেতার নজির রোসি ছাড়া আর একজনেরই আছে, তিনি ব্রাজিলের রোনালদো। ২০০২ বিশ্বকাপে এমন কীর্তি গড়েছিলেন রোনালদো। 

১৯৭৭ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত ইতালি জাতীয় দলের জার্সিতে খেলে ২০ গোল করেন রোসি। ক্লাব ফুটবলে ৩৩৮ ম্যাচে করেন ১৩৪ গোল। ভিনসেনজা, পেরুজিয়া হয়ে ১৯৮১ সালে নাম লেখান জুভেন্টাসে। তুরিনের বুড়িদের হয়ে ৮৩ ম্যাচে করেন ২৪ গোল। ১৯৮৫ সালে যোগ দেন এসি মিলানে, খেলেন এক বছর। দুটি সিরি-এ ও একটি ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছেন রোসি। 

সূত্র: গার্ডিয়ান