খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে চার চারটি বিশ্বকাপ জয়
করা ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি মারিও জাগালো আর নেই। কোচ হিসেবে ‘প্রফেসর’ খ্যাত জাগালো
৯২ বছর বয়সে অনন্তলোকের পথ ধরেছেন। ৫ জানুয়ারি তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জাগালোর
ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট থেকে এক পোস্টে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিল টানা দুটি বিশ্বকাপ
শিরোপা জয় করে। ওই দুটি আসরেই ব্রাজিল দলের অপরিহার্য সদস্য ছিলেন জাগালো,
ফাইনালেও খেলেছেন মূল একাদশে।
১৯৭০ সালে বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলটিকে মনে
করা হয় ইতিহাসেরই সেরা ফুটবল দল। সেই দলে ছিলেন পেলে, জার্জিনহো আর কার্লোস
আলবার্তোর মতো গ্রেট। ওই দলটির কোচ ছিলেন জাগালো। সর্বশেষ তিনি বিশ্বকাপ জিতেছেন
১৯৯৪ সালে কার্লোস আলবার্তো পেরেরার সহকারী কোচ হিসেবে। ওই আসর শেষে তিনি পুনরায়
ব্রাজিলের হেড কোচের দায়িত্ব পান এবং ১৯৯৮ সালে তার দল উঠে যায় ফাইনালে। যদিও
সেবার জিনেদিন জিদানের জাদুকরি পারফরম্যান্সের কাছে হেরে যায় জাগালোর ব্রাজিল।
জাগালোই প্রথম ব্যক্তি যিনি খেলোয়াড় ও কোচ
হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করেন। পরে এই কীর্তি গড়েন জার্মানির ফ্রাঞ্জ
বেকেনবাওয়ার ও ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশম।
পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাসের সেরা দল ব্রাজিল। এই পাঁচটি বিশ্বকাপের চারটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে মারিও জাগালোর নাম। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে মারাকানা স্টেডিয়ামে ২ লাখ দর্শকের মধ্যে ছিলেন টিনএজ জাগালোও। যদিও সেদিন অন্যদের মতো তিনিও চোখের জলে মাঠ ছেড়েছিলেন। সেই স্মৃতিচারণ করে ২০১৩ সালে বিবিসিকে জাগালো বলেছিলেন, ‘সেই দিনটি কখনই আমার মনের আড়াল হয়নি।’
১৯৫৮ বিশ্বকাপের কিছুদিন আগেই জাতীয় দলে তার
অভিষেক। এরপর তিনি হয়ে ওঠেন ব্রাজিল দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। যে দলের প্রাণভোমরা
ছিলেন ১৭ বছর বয়সী পেলে। সেবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারিয়ে
প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় সেলেসাওরা। এরপর সতীর্থ এবং গুরু-শিষ্য হিসেবে
ব্রাজিলকে একাধিক বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন জাগালো ও পেলে।
জাগালো ছিলেন ১৯৫৮ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা শেষ
জীবিত ব্যক্তি। তার প্রয়াণে এখন দলটির আর কেউই জীবিত নেই।
ক্লাব ফুটবলে জাগালো খেলেছেন আমেরিকা,
ফ্লোমেঙ্গো ও বোটাফোগোর হয়ে। ১৯৬৫ সালে ক্লাব ফুটবল থেকে অবসর নেন। দেশের হয়ে
খেলেছেন ৩৩ ম্যাচ।
কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন বোটাফোগো দিয়ে।
১৯৭০ বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব
পান। তিনি এ সময় দলে পান পেলে, জার্জিনহো, গারসন, টোস্টাও ও রিভেলিনহোর মতো মেধাবী
এক ঝাঁক খেলোয়াড়। সেবারের আসরে ছয়টি ম্যাচেই জয়লাভ করে ব্রাজিল এবং ফাইনালে
ইতালিকে হারায় ৪-১ গোলে।
কোচিং ক্যারিয়ারে ট্যাকটিক্যালি মেধাবী হওয়ায়
তিনি ‘প্রফেসর’ ও ‘ওল্ড উলফ’ উপাধি পান।










