এক সময় পায়ের তুলিতে ক্যাম্প ন্যুয়ের সবুজ গালিচা রাঙিয়েছেন জাভি হার্নান্দেজ। কাতালান ক্লাবটি ছেড়ে যাওয়ার ছয় বছর পর আবারো ক্লাবটিতে ফিরলেন স্পেনের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার। তবে এবার খেলোয়াড় হিসেবে নয়, ফিরছেন ক্লাবটির প্রধান কোচ হয়ে। এক সময়ের সতীর্থ সার্জিও বুসকেটস ও জেরার্ড পিকেদের গুরু হিসেবে দেখা যাবে তাকে। চলতি মৌসুম এবং তারপর আরো দুই মৌসুমের জন্য তাকে চুক্তিবদ্ধ করেছে বার্সেলোনা।

শুক্রবার ক্লাবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে জাভির কোচ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বার্সা। ২০১৯ সাল থেকে কাতারি ক্লাব আল সাদের কোচ ছিলেন জাভি। বার্সা তাকে নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করার পর আল সাদের সঙ্গে সমঝোতা করে। কাতারি ক্লাবে রিলিজ ক্লজের অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে জাভিকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিতে পারছে বলে শুক্রবার রাতেই কাতালান ক্লাবটি জানিয়ে দেয়।

ডাচ কোচ রোনাল্ড কোমানকে বরখাস্ত করার পর গুঞ্জন ওঠে জাভিকে নিয়ে। ২০২০ সালে কুইক সেতিয়েনকে বরখাস্ত করার পরও জাভিকে নিয়ে গুঞ্জন উঠেছিল। কিন্তু সেবার তিনি আল সাদ ছেড়ে আসতে চননি। তিনি জানিয়েছিলেন, আরেকটু সময় নিয়ে তিনি বার্সায় ফিরতে চান। এরপর গত বছর আগস্টে ডাচ কোচ কোমানকে নিয়োগ দিয়েছিল কাতালান ক্লাবটি। কিন্তু দলের ধারাবাহিক বাজে পারফরম্যান্সে গত মাসে তাকে বরখাস্ত করে বার্সেলোনা। এ নিয়ে গত দেড় বছরে চারজন কোচ বরখাস্ত করে বার্সা।

আজ কিংবা আগামীকাল জাভি বার্সেলোনায় আসবেন এবং সোমবার ক্যাম্প ন্যুয়ে দর্শকদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে। যদিও বার্সার এই কিংবদন্তি খেলোয়াড়কে কাতালান দর্শকদের চেয়ে কে আর ভালো চেনে? গোটা ক্যারিয়ারই এখানে কাটিয়ে দিয়েছেন তিনি। বার্সেলোনার ফুটবল একাডেমি লা মাসিয়া থেকে উঠে এসেছিলেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। ১৯৯৮ সালে সালে বার্সেলোনার জার্সিতে অভিষেক হয় তার। খেলেছেন ২০১৫ সাল অবধি। বার্সেলোনার হয়ে খেলেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৬৭ ম্যাচ।

বার্সার হয়ে ২৫টি বড় শিরোপা জিতেছে। ৮টি লা লিগা, ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ৩টি কোপা দেল রে, ২টি ক্লাব বিশ্বকাপ, ২টি ইউরোপিয়ান সুপার কাপ ও ৬টি স্প্যানিশ সুপার কাপ তার শোকেসে। ২০১৫ সালে খেলোয়াড় হিসেবে আল সাদে যোগ দেন, ২০১৯ সালে ক্লাবটির কোচ হন তিনি।

এছাড়া স্পেনের হয়ে ২০১০ সালে বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ ও ২০১২ সালে ইউরো জেতেন জাভি।