প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিট করার কৃতিত্ব দেখালেন।
শনিবার রাতে নিজেদের মাঠে কাজাখস্তানের বিপক্ষে চার চারটি গোল করেন তিনি। ১৯৫৮ সালে জাস্ট ফন্টেইনের করা চার গোলের পর এই প্রথম ফ্রান্সের কোনো খেলোয়াড় এক ম্যাচে চার গোল করলেন।
এমবাপ্পের কীর্তিময় রাতে ফ্রান্স জিতেছে ৮-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে। এ জয় ফ্রান্সকে এনে দিয়েছে কাতার বিশ্বকাপের টিকিট।
এছাড়া শনিবার রাতে বিশ্বকাপে উত্তীর্ণ হয় বিশ্বের শীর্ষ র্যাংকধারী দল বেলজিয়াম। আর মন্টেনিগ্রোর সঙ্গে ড্র করায় ঝুলে আছে নেদারল্যান্ডসের ভাগ্য।
‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে কাজাখদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে ফরাসিরা। তাদের ৮ গোলের অর্ধেকই করেন এমবাপ্পে এবং তার চার গোলের তিনটিই এসেছে ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে। বিরতির পর ফরাসিরা পায় আরো পাঁচ গোল। ৮৭ মিনিটে এমবাপ্পে করেন নিজের চতুর্থ গোল। এছাড়া রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা দুটি এবং আদ্রিয়ান রাবিও ও আতোয়াঁ গ্রিজম্যান একটি করে গোল পান। চার গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে অ্যাসিস্টও করেন এমবাপ্পে।
প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৯৮৫ সালের পর কোনো ফরাসি খেলোয়াড় হ্যাটট্রিক করলেন। তার আগের কীর্তিটি ডমিনিক রচেতিউর। আর এক ম্যাচে চার গোলের কীর্তিটি ঘটল ৬৩ বছর পর। সর্বশেষ ফ্রান্সের জার্সিতে এটি করেছিলেন ন্টইন।
২০০০ সাল থেকে ফ্রান্সের হয়ে এটা তৃতীয় হ্যাটট্রিক। ২০০০ সালে ডেভিড ত্রেজেগে ও ২০১৭ সালে অলিভিয়ার জিরু ব্লুজদের হয়ে হ্যাটট্রিক করেন।
শনিবারের জয়ের পর ‘ডি’ গ্রুপে ফ্রান্সের শীর্ষস্থান নিশ্চিত হয়। তাদের সংগ্রহ ১৫ পয়েন্ট, দুইয়ে থাকা ফিনল্যান্ডের ১১। বাকি এক ম্যাচে তাদের ধরে ফেলা আর কারো পক্ষেই সম্ভব নয়।
এদিকে ‘ই’ গ্রুপে এস্তোনিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কাতারের টিকিট নিশ্চিত করেছে বেলজিয়াম। গোল করেন ক্রিস্টিয়ান বেন্টেকে, ইয়ান্নিক কারাসকো ও থরগান হ্যাজার্ড। ৭ ম্যাচ শেষে বেলজিয়ামের সংগ্রহ ১৯ পয়েন্ট, দুইয়ে থাকা বেলজিয়ামের পয়েন্ট ১৪, যারা শনিবার ৫-১ গোলে হারায় বেলারুশকে।
এদিকে শেষ মুহূর্তে দুই গোল হজম করে বিপদে পড়েছে নেদারল্যান্ডস। মেম্ফিস ডিপাই ২৫ মিনিটে পেনাল্টিতে গোল করার পর ৫৪ মিনিটে ব্যবধান ২-০ করেন। যদিও মন্টেনিগ্রো ৮২ ও ৮৪ মিনিটে দুই গোল করে ম্যাচ ড্র করতে সমর্থ হয়। এ রাতে জিব্রাল্টারকে ৬-০ গোলে হারিয়ে ‘জি’ গ্রুপ থেকে সরাসরি কাতারের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রেখেছে তুরস্ক। ৯ ম্যাচে ডাচদের পয়েন্ট ২০, তুরস্কের ১৮। ডাচরা এখনো টেবিলের শীর্ষে থাকলেও বিপদ কাটেনি। শেষ ম্যাচে তারা ঘরের মাঠে খেলবে নরওয়ের বিপক্ষে। ওই ম্যাচ ড্র করলেই চলে ডাচদের, তবে হেরে গেলেই তারা তুরস্ক (শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ মন্টেনিগ্রো) ও নরওয়ে উভয়েরই নিচে নেমে যেতে পারে এবং সেক্ষেত্রে তাদের বিশ্বকাপই খেলা হবে না।










