সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে আজ জীবন বাজির ম্যাচে মালদ্বীপের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে লেবাননের কাছে পরাজিত বাংলাদেশের জন্য সমীকরণ হলো এ ম্যাচে জিতলে টিকে থাকবে সেমিফাইনালের আশা, হারলে বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে। প্রথম ম্যাচে ভুটানকে হারানো মালদ্বীপও চাইবে বাংলাদেশকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট প্রায় নিশ্চিত করে ফেলতে। এমন বাস্তবতায় ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের জন্য ‘‌ফাইনাল’-এ রূপ নেয়া এ ম্যাচটি শুরু হবে বেলা ৩টায়। 

আজ ‘‌বি’ গ্রুপের আরেক ম্যাচে অতিথি দল লেবাননের মুখোমুখি হবে ভুটান। ম্যাচটি শুরু হবে রাত ৮টায়। 

৯৯ র‍্যাংকধারী দল লেবাননের কাছে ২-০ গোলের হার দিয়ে সূচনা হয় ১৯২ র‍্যাংকধারী বাংলাদেশের। ফেভারিট হিসেবে নামা লেবানিজরা যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে। ওইদিন মালদ্বীপ প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে হারায় ভুটানকে। আজ তাই বাংলাদেশের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। মালদ্বীপকে হারালে টিকে থাকবে জামাল ভূঁইয়ার দল। আর হারলে বিদায় নিতে হবে। কেননা তখন দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনাল প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে মালদ্বীপের এবং আজ রাতের ম্যাচে লেবানন যদি ভুটানকে হারায় তবে বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত হবে; সেমিফাইনালে উঠে যাবে লেবানন ও মালদ্বীপ।    

বাংলাদেশ দলনায়ক জামাল ভূঁইয়া খুবই আত্মবিশ্বাসী যে তার দল মালদ্বীপকে হারাবে। যদিও নিকট অতীতের রেকর্ড মালদ্বীপেরই পক্ষে কথা বলছে।

সব মিলিয়ে লড়াইটা এখনো সমান সমান। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৫ বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ। এর মধ্যে উভয় দল সমান ছয়টি করে ম্যাচ জিতেছে, অমীমাংসিত ছিল তিনটি। 

দুই দলের প্রথম দেখা ১৯৮৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন গেমসে। আশির দশকে বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পেত না দ্বীপদেশটি। প্রথম দেখায় বাংলাদেশ জয়লাভ করে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে। ওই আসরেই পরবর্তী দেখায় একই ব্যবধানে মালদ্বীপকে হারায় বাংলাদেশ। পরের বছর সাউথ এশিয়ান গেমসে তাদের ৮-০ গোলে গুঁড়িয়ে বড় লজ্জায় ফেলে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

এরপর ১০ বছর দেখা নেই। মাঝের এ সময়টায় উন্নতি করে মালদ্বীপ। ১৯৯৫ সালে চতুর্থ দেখায় বাংলাদেশের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে তারা। সেটি ছিল প্রীতি ম্যাচ। ১৯৯৭ সালের সাফেও দুই দলের লড়াইটা ড্র হয়। ১৯৯৯ সালে ষষ্ঠ মোকাবেলায় বাংলাদেশকে হারানোর কৃতিত্ব দেখায় ভারত মহাসাগরের ক্ষুদ্র দ্বীপদেশটি। 

২০০৩ সালে ঘরের মাঠে সাফ জয় করে বাংলাদেশ। ওই আসরে দুবারের দেখায়ই মালদ্বীপকে হারায় বাংলাদেশ। এরপর মালদ্বীপের আধিপত্যের শুরু। ২০১১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পরবর্তী ছয়বারের দেখায় পাঁচবারই জিতেছে তারা, বাংলাদেশ জিতেছে একটি। ২০১১ সালের সাফে ৩-১ গোলে, ২০১৫ সালের সাফে ৩-১ গোলে, ২০১৬ সালের প্রীতি ম্যাচে ৫-০ গোলে ও ২০২১ সালের সাফে ২-০ গোলের জয় পায় মালদ্বীপ। 

টানা চার হারের পর ২০২১ সালে শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত মাহিন্দা রাজাপাকসে কাপে বাংলাদেশ ২-১ গোলে হারায় মালদ্বীপকে। গত বছর মার্চে প্রীতি ম্যাচে ফের হেরে যায় বাংলাদেশ। ব্যবধান ছিল ২-০। আজ ১৬তম বারের মতো মুখোমুখি হতে চলেছে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ এবং ম্যাচটি দুই দলের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্ববহ।

প্রথম ম্যাচে হারের কারণে বাংলাদেশের কাছে মালদ্বীপ ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ দলনায়ক জামাল ভূঁইয়া বলেন, ‘দলের সবাই হতাশ। কারণ, আমরা মনে করেছি একটা ভালো ম্যাচ খেলেছি (লেবাননের বিপক্ষে)। কিন্তু ম্যাচের শেষ ১০-১৫ মিনিট মনোযোগ হারিয়ে ফেলি, যে কারণে দুই গোল খেয়েছি। এখন মালদ্বীপ ম্যাচ নিয়ে ভাবছি। টুর্নামেন্টের আগে সবাই বলেছি, এটা ফাইনাল ম্যাচ। এখন আমরা মালদ্বীপ ম্যাচে মনোযোগ রাখছি। আমাদের ভালো আত্মবিশ্বাস আছে। আমরা যদি অন্তত এক গোল করতে পারি তাহলে মনে করব, ১-০ যথেষ্ট। তবে আমাদের গোল করতে হবে।’

সাফের ১৩ আসরে বাংলাদেশ মাত্র একবার শিরোপার স্বাদ পেয়েছে। ২০০৩ সালে ঘরের মাঠে সেই শিরোপা জয়ের পর দীর্ঘ খরা। সামগ্রিক পারফরম্যান্সও হতাশাজনক। ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। এর আগে ১৯৯৭ ও ২০০৮ সালের আসরেও গ্রুপ পর্বে বিদায় ঘটে বাংলাদেশের। সব মিলিয়ে ১৩ আসরের মধ্যে সাতবারই গ্রুপ পর্বে থেমেছে দৌড়। ১৯৯৯ ও ২০০৫ আসরে রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ, ওই দুবারই তারা হেরেছে ভারতের কাছে।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের রাজা ভারত। ১৯৯৩, ১৯৯৭, ১৯৯৯, ২০০৫, ২০০৯, ২০১১, ২০১৫ ও ২০২১ সালে মোট আটবার দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রেষ্ঠত্ব দেখায় ভারত। এবার নবম শিরোপার লক্ষ্যে ঘরের মাঠে খেলছে সুনীল ছেত্রীর দল।