লা লিগার রেফারিং কমিটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া এনরিকেজ নেগ্রেইরাকে বার্সেলোনা ঘুস দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে কিছুদিন আগে। সেই অভিযোগের সত্যতাও মিলল। নেগ্রেইরার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন কোম্পানিকে বার্সেলোনা ৮৪ লাখ ইউরো পরিশোধ করেছে বলে বার্সার বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন করা হয়েছে। কাজেই এ ঘুস কেলেঙ্কারিতে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারে ইউরোপের অন্যতম সেরা এ ফুটবল ক্লাবটি। আদালতের নথি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বার্সার সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ, স্যান্দ্রো রোসেল, নেগ্রেইরা ও তার ছেলে হাভিয়ের এনরিকেজ রোমেরোর বিরুদ্ধেও চার্জশিট গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনার দুদিন আগে রেফারিজ কমিটির অফিসে তল্লাশি চালায় স্পেনের পুলিশ। এ তল্লাশির সময় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। বার্সাও এ ঘটনায় নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছে। 

দ্য স্প্যানিশ সিভিল হার্ড তল্লাশি চালায় স্প্যানিশ টেকনিক্যাল কমিটি অব রেফারিজ (সিটিএ) প্রধান দপ্তরে। যদিও পুলিশ বলছে, তারা কাউকে গ্রেফতার করেনি এবং তদন্তকারী বিচারক জোয়াকুইন আগুইরার নির্দেশেই তারা তল্লাশি চালিয়েছেন। 

অভিযোগ রয়েছে, সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে নিতেই নেগ্রেইরাকে ঘুস দিয়েছিল বার্সা। গত মার্চে বার্সেলোনার পাবলিক প্রসিকিউটরের অফিস এফসি বার্সার দুর্নীতির এ অভিযোগ তোলে। এর পর পরই এ ঘটনার তদন্ত শুরু করে ইউরোপের ফুটবল সংস্থা উয়েফা।

অভিযোগ রয়েছে, নেগ্রেইরা ও তার কোম্পানি ‘ড্যাসনিল ৯৫’-কে ৮৪ লাখ ইউরো প্রদান করেছে। আসলে এ ঘটনায় যেন কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়েছে। প্রথমে নেগ্রেইরা পরিচালিত কোম্পানি কর ফাঁকি দিয়েছে কিনা, সেটির তদন্ত করা হচ্ছিল। তাতেই বার্সার ঘুস প্রদানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি বেরিয়ে আসতে থাকে। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী সময়ে কোম্পানিটিকে বার্সায় ১৪ লাখ ইউরো পরিশোধ করে। এছাড়া ২০০১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে নেগ্রেইরাকে প্রদান করে ৭০ লাখ ইউরো। ২০১৮ সালেই তিনি রেফারিজ কমিটিতে নিজের পদ ছাড়েন। 

এ অবৈধ পেমেন্ট নিয়ে বার্সা তাদের ব্যাখ্যায় বলেছে, কোম্পানিটি রেফারিং নিয়ে ভিডিও ক্লিপ তৈরি করে তাদের সরবরাহ করেছে, তাই এ পেমেন্ট প্রদান করা হয়। ওই ভিডিও ক্লিপ কোচিং স্টাফের কাজে সাহায্য করেছে বলে জানায় কাতালানরা। আর এসব প্রতিবেদন পাওয়ার ক্ষেত্রে পেমেন্ট দেয়ার বিষয়টি পেশাদার ক্লাবের ক্ষেত্রে খুবই সাধারণ বলেও অভিহিত করে তারা। ঘুস প্রদানে বার্সার নাম ওঠার পর লা লিগার অন্য ১৯টি ক্লাবের মধ্যে ১৮টি এক বিবৃতিতে রেফারিজ কমিটির সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঘুস প্রদানের বিষয়ে গভীর উৎকণ্ঠার কথা জানায়। যেহেতু তদন্ত চলমান রয়েছে, তাই গত জুলাইয়ে উয়েফা এক সিদ্ধান্তে জানায়, চলতি মৌসুমে বার্সার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে কোনো বাধা নেই। বিবিসি ও ইএসপিএন

গত বৃহস্পতিবার বার্সা জানায়, এক বছরে তাদের রাজস্ব এসেছে ১০০ কোটি ইউরো এবং করপ্রদান-পরবর্তী সময়ে তাদের লাভ হয়েছে ৩০ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড।