আঠারো বছর বয়স যে দুর্বার; পথে প্রান্তরে ছোটায় বহু তুফান; দুর্যোগে হাল ঠিক মতো রাখা ভার; ক্ষত-বিক্ষত হয় সহস্র প্রাণ। এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়; পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে; এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়; এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।

 

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের আহ্বানে সাড়া দিয়েই রোববার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় ফুল ফোটালেন আঠারো বছরের দুই তরুণ প্রাণ। পেসার মারুফা আক্তার ও স্পিনার বাবেয়া খান। দুজনেরই বয়স ১৮। দুজন মিলে নিয়েছেন ৭ উইকেট। পেস ও স্পিনের এই যুগলবন্দিতে ওয়ানডে ক্রিকেটে ভারতকে প্রথমবারের মতো হারানোর কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।

 

এদিন আগে ব্যাটিং করে ৪৩ ওভারে ১৫২ রান তুলে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ৪৪ ওভারে ১৫৪ রানের সংশোধিত টার্গেট পায় অতিথিরা। জবাব দিতে নেমে ১১৩ রানে গুটিয়ে যায় হারমানপ্রিত কাউরের দল।

 

বাংলাদেশের বোলাররা অনবদ্য বোলিং করে ব্যাটিং শক্তিধর ভারতকে পরাস্ত করেন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ও টি২০ বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো মারুফা টি২০ সিরিজে অনুজ্জ্বল থাকলেও প্রথম ওয়ানডেতে ম্যাচের নায়ক। এছাড়া লেগস্পিনার রাবেয়ার শিকার ৩টি উইকেট।

 

আগ্রাসী ফাস্ট বোলার মারুফাকে নিয়ে বাংলাদেশ দলনায়ক নিগার সুলতানা বলেন, ‘‌মারুফা খুবই মেধাবী ও তরুণ বোলার। সে আমার কাজটা সহজ করে দেয়। খুব বেশি চিন্তা না করে সে কাজটি করে যায়।’

 

৬১ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ষষ্ঠ উইকেটে ভারতকে টানছিলেন দীপ্তি শর্মা ও আমানজত কাউর। তারা ৩০ রান যোগ করে ফেলায় এ জুটি ভাঙা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। তখনই দ্বিতীয় স্পেলে আক্রমণে আনা হয় মারুফাকে। তিনি এসেই ওভারের পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে পরপর আউট করেন আমানজত ও স্নেহ রানাকে। তখন তো ম্যাচ হেলে পড়ে বাংলাদেশের দিকে। এরপর রাবেয়ার ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে একটি পর্যায়ে ৩৫.৫ ওভারে ১১৩ রানে অলআউট অতিথিরা।


 

মারুফাকে বোলিংয়ে ফেরানোর কৌশল নিয়ে বাংলাদেশ দলের শ্রীলংকান কোচ হাসান তিলকারত্নে বলেছেন, ‘‌সে এ মুহূর্তে বিশ্বের শীর্ষ বোলারদের একজন। আর তখন ব্যাটাররা স্পিনারদের খুব ভালোভাবে সামাল দিচ্ছিল। তাই আমরা মোমেন্টাম ভাঙতে চেয়েছি, মারুফাকে বোলিংয়ে আনার এটা কারণ।’

 

ম্যাচসেরা মারুফা বলেছেন, ‘‌প্রথমত, এই কন্ডিশনে আমাদের ব্যাটাররা ভালোই করেছেন। বোলিংয়ে আমার টার্গেট ছিল ভালো কিছু গুড লেংথের বল দেয়া। নতুন বল হাতে নেয়ার পর থেকেই আমি সঠিক লাইনে বল ফেলার চেষ্টা করেছি। পুরনো বলেও আমাকেই শেষ করতে হয়েছে। দলের সব সিনিয়র খেলোয়াড় আমাকে ভালোবাসেন ও সমর্থন করেন, হয়তো এ কারণেই আমি ভালো করেছি।’

 

প্রথম ওয়ানডে জিতে সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ। বুধবার দ্বিতীয় ম্যাচে ভালো করে সিরিজ জয়ের হাতছানি নিগারদের সামনে।