সফল অস্ত্রোপচারে কোলন টিউমার ফেলে দেয়ার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তী ফুটবলার পেলে। কিন্তু, ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে গত শুক্রবার আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সাও পাওলোর আলবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতালের আধা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এসআইসিইউ)  আছেন সাবেক এ ফুটবলার। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা ‘স্থিতিশীল’।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, প্রথমে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হলেও এখন পেলেকে আধা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এসআইসিইউ) রাখা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কার্ডিওভাসকুলার এবং শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন তিনি। তবুও তার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পেলের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে তার মেয়ে কেলি নাসিমেন্তো বলেছেন, তার (পেলের) যে ধরনের অপারেশন হয়েছে, তা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে কখনো দুই ধাপ এগিয়ে এক ধাপ পিছিয়ে যেতে হয়। গতকাল বাবা খুব ক্লান্ত ছিলেন। যে কারণে এক পা পিছিয়ে গিয়েছিলেন। আজ দুই ধাপ উন্নতী করেছেন। আমি কথা দিচ্ছি, বাবা স্বাভাবিকভাবেই সেরে উঠবেন। 

কেলি যে ছবিটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন তাতে সর্বসকালের সেরা ফুটবলারকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেছে। ছবির ক্যাপশনে তার মেয়ে লিখেছেন- ‘এই মাত্র তোলা’।

এর আগে, অস্ত্রোপচারের পর গত ৬ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের সুস্থতার কথা জানান পেলে। ভক্তদের উদ্দেশে তিনি লেখেন- ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই, আমাকে ভালো রাখার জন্য। আমি ভাগ্যবান এবং আপনাদের সঙ্গে এ বিজয় উদযাপন করতে চাই। আমি হাসিমুখে এ ম্যাচটিতে নামবো যেখানে অনেক আশা-আনন্দ নিয়ে আমার পরিবার এবং বন্ধুরা ভালোবাসা দিয়ে আমাকে আগলে রাখে। 

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়ায় নিয়মিত পরীক্ষার অংশ হিসেবে আলবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতালে নেয়া হয় পেলেকে। সেখানেই তার টিউমার ধরা পড়লে অস্ত্রোপচার করা হয়। 

পেলের পুরো নাম এডসন অ্যারান্টেস ডো নাসিমেন্তো। ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার যিনি তিনটি বিশ্বকাপ জয় করেছিলেন। এর মধ্যে টানা দুটি ১৯৫৮ এবং ১৯৬২ সালে, অপরটি ১৯৭০ এ।