ভারতের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়লেন জশস্বী জয়সাল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশাখাপত্তনমে গতকাল সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২০৯ রান করেছেন তিনি। ২২ বছর ৩৬ দিন বয়সে দুশ করলেন জয়সাল। ভারতে তার চেয়ে কম বয়সে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন সুনীল গাভাস্কার ও বিনোদ কাম্বলি।
গাভাস্কার ২১ বছর ২৭৭ দিন বয়সে ডাবল সেঞ্চুরি করেন। ১৯৭১ সালে পোর্ট অব স্পেন টেস্টে ডাবল করেছিলেন গাভাস্কার। ২২ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করেন কাম্বলি। ২১ বছর ৩২ দিন বয়সে প্রথমটি করেছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়াংখেড়ে টেস্টে (২২৪ রান)। একই বছর দিল্লিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১ বছর ৫৪ দিন বয়সে আরেকটি ডাবল সেঞ্চুরি করেন তিনি (২২৭)। ডাবল সেঞ্চুরি করায় বয়সের দিক থেকে গাভাস্কার ও কাম্বলির পরই এখন জয়সালের নাম।
গত ২০ বছরে জয়সালের চেয়ে কম বয়সে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন শুধু একজন—ক্রেগ ব্র্যাথওয়েট। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে কিংস্টনে ২১২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
টেস্টে ২০১৯ সালের পর কোনো ভারতীয় ব্যাটার ডাবল সেঞ্চুরি করলেন। মায়াঙ্ক আগারওয়াল ২০১৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। তারপর ভারতের হয়ে প্রথম ডাবল পেলেন জয়সাল। এটা ভারতের হয়ে টেস্টে ৫৬তম ডাবল সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ ৭টি ডাবল করেছেন বিরাট কোহলি।
গতকাল দ্বিতীয় দিন ১৭৯ রান নিয়ে মাঠে নামেন জয়সাল। দিনের শুরু থেকেই তিনি আগ্রাসী ছিলেন। ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা জয়সাল ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন চার মেরে। এতটা আগ্রাসী হতে গিয়েই আউট হয়েছেন।
২৯০ বলে ২০৯ রান করে জেমস অ্যান্ডারসনের শিকার হন জয়সাল। ডিপ কভারে ক্যাচ দিয়েছেন জনি বেয়ারস্টোকে। জয়সাল দুশ ছাড়ানো এই ইনিংসটি সাজান ১৯টি চার ও ৭টি ছক্কায়। জয়সাল ডাবল সেঞ্চুরি করলেও ভারতের অন্য কেউ হাফ সেঞ্চুরিও পাননি। শুভমান গিল ৩৪, রজত পতিদার ৩২, শ্রেয়াস আইয়ার ২৭ ও অক্ষর প্যাটেল ২৭ রান করেন।
অন্যরা বড় স্কোর পাননি বলেই ভারতের স্কোরও চারশ হলো না। এটা প্রথম ইনিংসে ভারতের চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ (কেউ একজন ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন এমন ইনিংস)। ২০০৮ সালে গল টেস্টে বিরেন্দর শেবাগ ২০১ রান করার পরও ভারত গুটিয়ে যায় ৩২৭ রানে! সেটাই টেস্টের ইতিহাসে ডাবল সেঞ্চুরি থাকার পরও সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর।
১৯ বছর বয়সী লেগ স্পিনার রেহান আহমেদ, অভিষিক্ত ২০ বছর বয়সী অফ স্পিনার শোয়েব বশির ও অ্যান্ডারসন প্রত্যেকেই নেন তিনটি করে উইকেট।
স্পিনারদের বিপক্ষে ১৯২ রান করেছেন জয়সাল, যা ২০০২ সালের পর যুগ্মভাবে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্পিন থেকে ১৯২ রান করেছিলেন ভারতের করুন নায়ার। সতীর্থরা কেউ ফিফটিও পাননি এমন ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি করা সপ্তম ব্যাটার জয়সাল এবং ভারতীয়দের মধ্যে প্রথম। তার আগে এই কীর্তি গড়েন দক্ষিণ আফ্রিতার ডাবলি নোর্স, ইংল্যান্ডের লিওনার্ড হিউটন, অস্ট্রেলিয়ার আর্থার মরিস, ইংল্যান্ডের ডেনিস আমিস, শ্রীলংকার মারভান আতাপাত্তু ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্রায়ান লারা।
২০০৫ সালে অ্যাডিলেড টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্রায়ান লারা খেলেন ২২৬ রানের ইনিংস, অথচ তার সতীর্থদের মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ডোয়াইন ব্রাভোর ৩৪। লারার পরই এমন কীর্তি গড়লেন জয়সাল, যে ইনিংসে শুভমান গিলের ৩৪ রান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
ভারতের চারশর কাছাকাছি সংগ্রহের জবাব দিতে নেমে আগ্রাসী খেলতে শুরু করা ইংলিশরা ৫৫.৫ ওভারে ২৫৩ রানে গুটিয়ে যায়। ৭৮ বলে ৭৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ওপেনার জ্যাক ক্রলে। এছাড়া অধিনায়ক বেন স্টোকস ৫৪ বলে ৪৭ রান করেন।
দারুণ জবাব দিচ্ছিল ইংলিশরা। প্রথম ১০ ওভারেই বিনা উইকেটে ৫৯ রান তুলে নেয় অতিথি দলটি। বেন ডাকেটকে ১১তম ওভারে আউট করে ভারতকে ব্রেক থ্রু এনে দেন কুলদীপ যাদব। ডেডলক ভাঙার পর জশপ্রীত বুমরাহর গতিতে বিধ্বস্ত হয় ইংলিশরা। ডানহাতি পেসার ৪৫ রানে ৬ উইকেট তুলে নেন। এছাড়া কুলদীপ ৭১ রানে তিনটি ও অক্ষর প্যাটেল ২৪ রানে একটি উইকেট নেন। ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ২৮ রান সংগ্রহ করেছে।
হায়দরাবাদে
সিরিজের প্রথম টেস্ট ২৮ রানে জয়
পায় ইংল্যান্ড। পোপ খেলেছিলেন ১৯৬ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস।










