অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বক্সিং ডে টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে চাপে পড়েছে সফরকারী পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে অজিদের ৩১৮ রানের জবাবে দিন শেষে ৬ উইকেটে ১৯৪ রান তুলেছে পাকিস্তান। ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ১২৪ রানে পিছিয়ে আছে পাকিস্তান। এদিন পতন হয়েছে মোট ১৩ উইকেটের।

আজ বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট প্রথম দিন বৃষ্টির কারণে ৬৬ ওভারে গড়ায়। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৮৭ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। মার্নাস লাবুশেন ৪৪ ও ট্রাভিস হেড ৯ রানে অপরাজিত থাকেন।

দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তানি পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে ১৭ রানে বিদায় নেন হেড। এরপর টেস্টে ১৭তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন লাবুশেন। তবে এ ইনিংস বেশি বড় করতে পারেননি তিনি। আমির জামালের শিকার হয়ে ৬৩ রানে আউট হন। ১৫৫ বল খেলে পাঁচটি চার হাঁকিয়েছিলেন লাবুশেন।

দলীয় ২৫০ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে লাবুশেন ফেরার পর ৩০০ এর আগেই অষ্টম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এতে ৩০০ এর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা ছিল অজিদের।

ম্যাচে বাজিমাত দেখান অস্ট্রেলিয়ার শেষ তিন ব্যাটার। তাদের ব্যাটে অস্ট্রেলিয়া স্কোর দাঁড়ায় ৩১৮ রানে। মিচেল মার্শ ৪১, অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ১৩ ও মিচেল স্টার্ক করেন ৯ রান। পাকিস্তানের আমির জামাল তিনটি, হাসান আফ্রিদি ও হামজা দুটি করে উইকেট তুলে নেন।

নিজেদের প্রথম ইনিংস শুরু করে ৩৪ রানের সূচনা পায় পাকিস্তান। ওপেনার ইমামকে ১০ রানে আউট করে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন অস্ট্রেলিয়ার স্পিনার নাথান লিঁও।

দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের বিপক্ষে দারুণ ব্যাট করেন আরেক ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিক ও অধিনায়ক শান মাসুদ। তাদের ৯০ রানের জুটির কল্যাণে তিন অঙ্কে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।

দলীয় ১২৪ রানে শফিক আউট হন পেসার কামিন্সের বলে। পঞ্চম টেস্ট হাফ সেঞ্চুরির ইনিংসে পাঁচটি চারে ৬২ রান করেন শফিক।

শফিকের আউটের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। দলীয় ১৭০ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে দিনের শেষভাগে এলোমেলো হয়ে যায় উপমহাদেশের দলটি।  

তারকা ব্যাটার বাবর আজমকে ১ রানে বোল্ড করেন কামিন্স। অষ্টম হাফ সেঞ্চুরি করে তিনটি ৪ ও একটি ছক্কায় ৭৬ বলে ৫৪ রান করে লিঁওর দ্বিতীয় শিকার হন মাসুদ। এছাড়া সৌদ শাকিলকে ৯ রানে জশ হ্যাজেলউড এবং আগা সালমানকে ৫ রানে শিকার করেন কামিন্স।

ষষ্ঠ উইকেটে ৪২ বলে ২৪ রান যোগ করে দিন শেষ করেন উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান ও জামাল। রিজওয়ান ২৯ ও জামাল ২ রানে অপরাজিত আছেন। অস্ট্রেলিয়ার কামিন্স তিনটি, লিঁও দুটি ও হ্যাজেলউড একটি করে উইকেট নেন।