অ্যাডিলেডে ভারত ৩৬ রানে অলআউট হওয়ার পর অনেকেই সিরিজের শেষ লিখে ফেলেছিল। সেই ম্যাচের পর পর দল ছেড়ে দেশে ফিরে যান অধিনায়ক ও সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। পাশাপাশি একের পর চোটে রীতিমতো খোঁড়া হয়ে পড়েছিল ভারতীয় দল। এমন অবস্থায় জয় তো দূরের কথা, কোন রকমে সম্মানজনক হার নিয়েই বাঁচতে চাইবে যেকোন দল। কিন্তু তরুণ ও অনভিজ্ঞ ভারতীয় দলের হারানোর কিছুই যে ছিল না। তাই বুকচিতিয়ে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দলটি। যার ফলও আসল হাতে নাতে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নতুন ইতিহাস গড়ল আজিঙ্কা রাহানের দল। শেষ টেস্টে ভারতের জয় ৩ উইকেটে।
৩২৮ রানের টার্গেট শেষ দিনের বিবেচনায় মোটেই সহজ নয়। তারওপর উইকেটের আচরণও মনে হচ্ছিল বোলারদের সমর্থন দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ১৮ রানের দলের নির্ভরযোগ্য ওপেনার রোহিত শর্মা ফিরে গেলে বিপদ আরো বাড়ে ভারতের। কিন্তু ওপেনিংয়ে ভারতের নতুন শুভমন গিল এবং গোটা সিরিজে অসি বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেয়া চেতেশ্বর পুজারা হাল ছাড়েননি। পুজারা যথারীতি সন্তের ভঙ্গিতে ব্যাট করে যাচ্ছিলেন, অন্যদিকে শুভমন উইকেটে টিকে থাকার পাশাপাশি রানের চাকা বাড়ানোর কাজও করছিলেন। এই জুটি ভারতকে নিয়ে যায় ১৩২ রানে। এরপর নাথান লায়নের বলে ৯১ রান করে শুভমন ফিরলেও আবারো ম্যাচে ফিরে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে শুরু করা রাহানেকেও বেশিদূর যেতে দেননি পেট কামিন্স। ২২ বলে ২৪ রান করেন রাহানে। তখন দলের রান ১৬৭। সেই অবস্থায় ঋষভ পান্তকে নিয়ে লড়াই শুরু করেন পুজারা। তবে দলীয় ২২৮ রানে ভেঙে পড়ে পুজারার প্রতিরোধ। ২১১ বলে ৫৬ রানের মাটি কামড়ানোর ইনিংস শেষে এই ব্যাটসম্যান ফিরেন কামিন্সের শিকার হয়ে। এরপর ৯ রান করে মায়াঙ্ক আগারওয়াল ফিরলে ভারতের জন্য কাজটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু তখনো ম্যাচের নাটক অনেকটাই বাকি। ভারতের সামনে তখনো ড্র কিংবা জেতার খেলার সুযোগ ছিল। যেহেতু পান্ত উইকেটে জয়টাকেই পাখির চোখ করল তারা। কিন্তু সেক্ষেত্রে ম্যাচ হাতছাড়া করার ঝুঁকিও ছিল সমান। ওয়াশিংটন সুন্দর অবশ্য পান্তের কাজটা আরেকটু সহজ করে দেন ২৯ বলে ২২ রানের ইনিংস খেলে। শেষ দিকে ৪২ বলে ভারতের প্রয়োজন ৩৯ রান। কিন্তু দারুণ ব্যাটিংয়ে সব লক্ষ্যকেই মামুলি বানিয়ে দেন পান্ত। ৮৯ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংসে ম্যাচসহ দলের সিরিজ নিশ্চিত করেন তিনি। এই ইনিংসে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি, সিরিজ সেরা অসি পেসার কামিন্স।










