অ্যাডিলেড টেস্টে দ্বিতীয় দিন শেষেই হারের মুখে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আজ বৃহস্পতিবার ৬ উইকেটে ৭৩ রান তুলে দ্বিতীয় দিন মাঠ ছাড়ে ক্যারিবীয়রা। তাদের ১৮৮ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ২৮৩ রান তুলেছে। ফলে দুই ইনিংস মিলে এখনো অজিদের চেয়ে ২২ রানে পিছিয়ে অতিথি দল। দ্বিতীয় দিনের নায়ক ওয়েস্ট ইন্ডিজের শামারা জোসেফ ও অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেড। জোসেফ নিয়েছেন ৫ উইকেট, হেড সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে সংহত অবস্থান গড়ে দিয়েছেন।

  

বুধবার টেস্টের প্রথম দিন ১৮৮ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জস হ্যাজেলউড ও প্যাট কামিন্স উভয়ই নেন চারটি করে উইকেট। সফরকারীদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন কার্ক ম্যাকেঞ্জি। এরপর অভিষিক্ত শামারা জোসেফের আগুণে বোলিংয়ে ম্যাচে ভারসাম্য আনে ক্যারিবীয়রা। তিনি প্রথম তিনই সাজঘরে ফেরান স্টিভ স্মিথ ও মার্নুস লাবুশেনকে। পরদিন প্রথম ওভারেই ক্যামেরন গ্রিনকে উইকেটকিপারের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফিরিয়েছেন। এরপর উসমান খাজাকে শিকারে পরিণত করে ম্যাচে সমতা আনেন আরেক অভিষিক্ত খেলোয়াড় জাস্টিন গ্রিভস ।

 

যদিও তখনই শুরু হয় ট্রাভিস হেডের বীরত্বপূর্ণ ব্যাটিং। খাজাকে নিয়ে তিনি যোগ করেন ৪৬ রান। এরপর মিচেল মার্শ, অ্যালেক্স ক্যারি, মিচেল মার্শ, কামিন্স ও নাথান লায়নকে নিয়ে দুর্দান্ত লড়াইয়ে দলের সংগ্রহ নিয়ে যান ২৮৩ পর্যন্ত। এ পথে তিনি ১২২ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১৩৪ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১১৯ রানের ঝরমলে ইনিংস খেলে জোসেফের শিকার হন তিনি। এটা তার সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ ইনিংসটাও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলা। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এই মাঠেই ২১৯ বলে ১৭৫ রানের ইনিংস খেলেন হেড।

 

এদিকে, দশম ক্যারিবীয় বোলার হিসেবে অভিষেকে ৫ উইকেট নেয়া জোসেফের অর্জন কি বিফলেই যাচ্ছে? তবে আপাতত তিনি অর্জনের আনন্দ উপভোগ করছেন। প্রথম ইনিংস শেষে জোসেফ বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে আমি কতটা আবেগাপ্লুত, সেটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। আমার অবশ্যই সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দেয়া উচিত। আমার জন্য এটা দুর্দান্ত। এক নম্বর টেস্ট দলের বিপক্ষে ৫ উইকেট পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় কিছু। র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বর দলের বিপক্ষে নতুন বলে বল করা চমৎকার দারুণ ব্যাপার। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই মাঠে নেমেছিলাম। (ব্যাটিংয়ের সময়) হেলমেটে আঘাত পেয়েছিলাম, তবে ভয় পাইনি। এর পর থেকে বল আরো কাছ থেকে দেখেছি।’

 

বল হাতে ৫ উইকেট নেয়ার আগে ব্যাটিংয়ে ১১ নম্বরে নেমে ৩৬ রানের ইনিংস খেলেন জোসেফ, অভিষেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোনো ব্যাটসম্যানের এ পজিশনে যা সর্বোচ্চ। সেই ছন্দটা পরে তিনি বোলিংয়েও কাজে লাগান।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৮৮ ও ৭৩/৬ (ম্যাকেঞ্জি ২৬, গ্রিভস ২৪, ডি সিলভা ১৭*; হ্যাজেলউড ৪/১৮, গ্রিন ১/৯)। অস্ট্রেলিয়া: ২৮৩ (হেড ১১৯, খাজা ৪৫, লায়ন ২৪; জোসেফ ৫/৯৪, গ্রিভস ২/৩৬, রোচ ২/৪৮)।—দ্বিতীয় দিন শেষে।