আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ‘বর্ষসেরা ক্রিকেটার’ হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ ও ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী দলের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটার হয়েছেন ইংল্যান্ডের ন্যাট শিভার-ব্রান্ট। এছাড়া আইসিসির বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার উসমান খাজা, বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটারের সম্মানে ভূষিত হয়েছেন ভারতের বিরাট কোহলি এবং ওয়ানডের বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটার হয়েছেন শ্রীলংকার চামারি আতাপাত্তু। আজ বৃহস্পতিবার এক সন্ধ্যায় আইসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

 

খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হিসেবে গত এক বছরে অবিশ্বাস্য সফলতা পেয়েছেন কামিন্স। তার নেতৃত্বে অজিরা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ও পরে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয় করে। এ সময় পেস বোলার কামিন্স ১১ টেস্টে ৪২ উইকেট ও ১৩টি ওয়ানডে ম্যাচে ১৭ উইকেট শিকার করেন। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫১ রানে তিনটি ও ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ৩৪ রানে দুটি উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ে অবদান রাখেন।

 

অবিশ্বাস্য এই পারফরম্যান্স তাকে এনে দিল আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটারের ‘স্যার গারফিল্ড সোবার্স’ ট্রফি। এ ট্রফির রেসে তিনি হারান স্বদেশী ট্রাভিস হেড এবং ভারতের রবীন্দ্র জাদেজা ও বিরাট কোহলিকে। রিকি পন্টিং (২০০৬ ও ২০০৭), মিচেল জনসন (২০০৯ ও ২০১১), মাইকেল ক্লার্ক (২০১৩) ও স্টিভেন স্মিথের (২০১৫) পর পঞ্চম অজি ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটার হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন কামিন্স।

পুরস্কার জিতে কামিন্স বলেন, ‘এই পুরস্কার বিরাট সম্মানের। এটা ছিল অবিশ্বাশ্ব এক বছর, দলের অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে। ব্যক্তিগত এই পুরস্কারটি জয় আমার জন্য অভাবনীয় ব্যাপার। আমি আনন্দিত, অভিভূত।’ পাশাপাশি তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী হেড ও জাদেজারও প্রশংসা করেন।

 

বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটার ন্যাট শিভার-ব্রান্ট গত এক বছরে দুই টেস্টে ১৩৭ রান, ছয়টি ওয়ানডে ম্যাচে ৩৯৩ রান ও ১০টি টি২০ ম্যাচে ৩৬৪ রান করেছেন। এছাড়া তিন ফরম্যাটেই উইকেট নিয়ে দলে অবদান রাখেন। তাকেই আইসিসির বর্ষসেরা হিসেবে বেছে নেন জুরিরা।

 

শিভার-ব্রান্ট হারিয়েছেন শ্রীলংকার আতাপাত্তু, অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশ গার্ডনার ও বেথ মুনিকে।

 

২০০৩ সালে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টেস্টে এক হাজারের বেশি রান করেছেন উসমান খাজা। ৫২.৬০ গড়ে তিনি এক হাজার ২১০ রান করেন। এটাই তাকে বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটারের সম্মান এনে দেয়।

 

ভারতের কৃতী ব্যাটার বিরাট কোহলিরও ২০২৩ সালটি অবিশ্বাস্য কেটেছে। বিশ্বকাপে তিনি শচীন টেন্ডুলকারের দীর্ঘদিনের ৫০টি ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ড ভেঙে দেন। এ বছর তিনি সব মিলে এক হাজার ৩৭৭ রান করেন। এ পথে ছয়টি সেঞ্চুরি ও আটটি হাফসেঞ্চুরি করেন। বিশ্বকাপের ‘টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়’ কোহলি এবার হলেন আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে খেলোয়াড়।


 

এটা কোহলির সপ্তম আইসিসি পুরস্কার। এ নিয়ে চতুর্থবার জিতলেন বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটারের পুরস্কার। এছাড়া ২০১৮ সালে জিতেছেন বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটারের পুরস্কার। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে তিনি আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটারের ‘স্যার গারফিল্ড সোবার্স’ ট্রফি জিতেছেন।

 

লংকান দলনায়ক আতাপাত্তু ২০২৩ সালে আটটি ওয়ানডে ম্যাচে ৪১৫ রান করেন ৬৯.১৬ গড়ে। তিনি এ এই রেসে হারান শিভার-ব্রান্ট, অ্যামেলিয়া কের ও অ্যাশ গার্ডনারকে। এর আগে তিনি আইসিসির নারী ওয়ানডে ও টি২০ দলের অধিনায়কও মনোনীত হন।

 

আইসিসির বর্ষসেরা আম্পায়ারের পুরস্কার জিতেছেন ইংল্যান্ডের রিচার্ড ইলিংওর্থ।