চলতি
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ম্যাচ আসন্ন। আগামীকাল শনিবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি
স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল ভারত ও পাকিস্তান। টানা দুটি
করে ম্যাচ জিতে এই লড়াইয়ের জন্য নিজেদের তৈরি রেখেছে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দল।
আহমেদাবাদের এই মহারণের আগে ভারতের জন্য সুখবর—ডেঙ্গুজ্বর থেকে ক্রমে সেরে উঠে গতকাল
বৃহস্পতবার অনুশীলনে ফিরেছেন তারকা ব্যাটার শুভমান গিল।
গত
এক বছর ধরে ভারতের শীর্ষ ওপেনিং ব্যাটার শুভমান গিল ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ায়
চলতি বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি। তাকে চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে
ভর্তিও হতে হয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি সরাসরি আহমেদাবাদ চলে যান, আর পুরো
দল দিল্লিতে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলে আহমেদাবাদ গিয়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে নেটে প্রায়
এক ঘণ্টা ব্যাটিং অনুশীলন করেন গিল।
প্রথম
দুই ম্যাচে স্বাগতিকরা গিলের অভাব প্রচণ্ডভাবে অনুভব করেছে। যদিও অস্ট্রেলিয়া ও
আফগানিস্তান ম্যাচে তাকে ছাড়াই জিতেছে রোহিত শর্মার দল। এখন তিনি পুরো ম্যাচ ফিট
হয়ে উঠেলেই ইশান কিশানের জায়গা নেবেন।
আহমেদাবাদ
শুভমানের প্রিয় ভেনু। এখানে দারুণ সব রেকর্ড রয়েছে এই তরুণ ব্যাটারের। কাজেই পুরো
ফিট হয়ে উঠলেই তিনি একাদশে ঢুকে পড়বেন।
এদিকে,
আফগানিস্তান ম্যাচে ৩৯ রানে চার উইকেট নিয়ে ভারতের জয়ের অন্যতম নায়ক পেস বোলার
জশপ্রীত বুমরাহ। এবার খেলা তার নিজ শহর আহমেদাবাদে। তবে ভারত-পাকিস্তান মহারণের
আগে তিনি অনুশীলনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করাকে। বুমরাহ
বলেন, ‘আমি কিছুদিন ধরেই বাড়ির বাইরে।
বাড়িতে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারলে আমি খুশি হবো।’
বুমরাহর
বয়স পাঁচ পার হওয়ার আগেই মারা যান তার বাবা। এরপর ছেলেকে বড় করেছেন তার স্কুল
প্রিন্সপাল মা দলজিৎ। মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমি তার সঙ্গে
দেখা করতে যাচ্ছি। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
মায়ের
সঙ্গে দেখা করার পরই অনুশীলনে মন দেন ২৯ বছর বয়সী পেসার বুমরাহ।
আহমেদাবাদে
পাকিস্তান ম্যাচের আবহ নিয়ে বুমরাহ বলেন, ‘এখানে আমি ওয়ানডে খেলিনি, একটি টেস্ট
ম্যাচ খেলেছি। আমি নিশ্চিত, ম্যাচের দিনের আবহ রোমাঞ্চকর হতে চলেছে। আশাকরি,
প্রচুর মানুষ খেলা দেখতে আসবেন। কাজেই, এখানে দেখার মতো দৃশ্যের অবতারণা হবে। এদিন
সেরা ফলাফলের আশায় আছি আমরা।’
ওয়ানডে
বিশ্বকাপে সাতবারের মোকাবেলায় পাকিস্তানের কাছে কখনই হারেনি ভারত। এই মহাদ্বৈরথের
সূচনা ১৯৯২ সালে। সেবার পাকিস্তান বিশ্বকাপ জিতলেও গ্রুপ ম্যাচে ভারতের কাছে
হেরেছে ৪৩ রানে। এরপর ১৯৯৬ সালে ৩৯ রানে, ১৯৯৯ সালে ৪৭ রানে, ২০০৩ সালে ৬ উইকেটে,
২০১১ সালে ২৯ রানে, ২০১৫ সালে ৭৬ রানে ও ২০১৯ সালে ডিএলএস মেথডে ৮৯ রানের জয় পায়
ভারত। কালও কি স্বাগতিকরা হাসবে, নাকি বাবর আজমের দল হারের বৃত্ত ভাঙবে?










