ক্রাইস্টচার্চে ৫৩১ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৭২ রানে ৪ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকে ১৩৫ ওভারের দীর্ঘ লড়াইয়ে ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট ড্র করার কৃতিত্ব দেখাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যেন পাথরের দেয়াল তৈরি করে কিউইদের হতাশ করলেন জাস্টিন গ্রিভস, শাই হোপ আর কেমার রোচ। এ এক মহাকাব্যিক ড্র, যা জয়ের চেয়েও বেশি। ক্যারিবীয়রা যখন হৃদয় উজাড় করে খেলে, আবেগ দিয়ে খেলে তখন সব সমীকরণই তাদের কাছে হার মানে, এটি আরেকবার প্রমাণিত।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় টার্গেট দিয়ে জয়ের স্বপ্নই দেখছিল নিউজিল্যান্ড। এ রান তাড়া করতে নেমে শুক্রবার ৭২ রানে ৪ উইকেট হারানোর পরও শাই হোপ ও জাস্টিন গ্রিভসের ব্যাটে ২১২ রান তুলে নির্বিঘ্নে দিন পার করে অতিথিরা। গতকাল পঞ্চম ও শেষ দিন ৬ উইকেট হাতে নিয়ে তাদের করতে হতো ৩১৯ রান। এ রান তুলতে না পারলেও রোমাঞ্চকর এক ড্র উপহার দেয় ক্যারিবীয়রা। গতকাল আরো ৮৯.৩ ওভার ব্যাটিং করে ৬ উইকেটে ৪৫৭ রান তুলেছে অতিথি দলটি। হার না মানা ডাবল সেঞ্চুরি করে কিউইদের হতাশ করেন গ্রিভস।

টেস্টের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তোলার কৃতিত্ব দেখিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৩৯ সালে ডারবান টেস্টে ৬৯৬ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমে এক ডাবল ও দুই সেঞ্চুরিতে ভর করে ৫ উইকেটে ৬৫৪ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড। সেটাই এখন পর্যন্ত টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ স্কোর। তাদের পরেই এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চতুর্থ ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলেছে ১৬৩.৩ ওভার, যা তাদের ৯৫ বছরের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

সপ্তম উইকেট জুটিতে ৪১০ বল মোকাবেলা করে ১৮০ রান যোগ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অভাবনীয় ড্র এনে দেন গ্রিভস ও কেমার রোচ। অভিজ্ঞ পেস বোলার রোচ দলের প্রয়োজনে ধৈর্যশীল ব্যাটারের ভূমিকা পালন করেন। তিনি ২৩৩ বল মোকাবেলায় ৫৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৩৮৮ বলে ১৯ বাউন্ডারির সাহায্যে ২০২ রান করে অপরাজিত থাকেন গ্রিভস। ১২ টেস্টের ক্যারিয়ারে যত বল খেলেছেন গ্রিভস, এ টেস্টেই তার প্রায় অর্ধেক বল খেলেছেন।

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটাকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন ৩১ বছর বয়সী গ্রিভস। গত বছর নভেম্বরে নর্থ সাউন্ডে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করে ১১৫ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। এবার অপরাজিত থাকলেন ২০২ রানে! অন্যদিকে, ৮৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে এটাই কেমার রোচের প্রথম ফিফটি।

শাই হোপ ১১৬ ও জাস্টিন গ্রিভস ৫৫ রানে অপরাজিত থেকে শুক্রবার চতুর্থ দিন মাঠ ছাড়েন। গতকাল সকালে হোপ ১৪০ রানে আউট হয়ে গেলে কিউইদের জয়ের আশা জেগে ওঠে হয়তো। টেভিন ইমলাচও (৪) দ্রুত আউট হয়ে গেলেন। তবে কিউইদের আশায় গুড়েবালি। এরপর স্বাগতিকদের আর কোনো সুযোগই দেননি গ্রিভস আর রোচ। অনবদ্য ব্যাটিং করে তারা স্বাগতিক দলটিকে হতাশ করেন।

এর আগে ৮ উইকেটে ৪৬৬ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫৩১ রানের বিশাল টার্গেট ছুড়ে দেয় নিউজিল্যান্ড। প্রায় দুইদিন সময় পেয়েও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অলআউট করতে পারেনি টম ল্যাথামের দল।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রে ষষ্ঠ ম্যাচে এটাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম পয়েন্ট। ১০ ডিসেম্বর ওয়েলিংটনে দ্বিতীয় ও ১৮ ডিসেম্বর মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে তৃতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড: ২৩১ ও ৪৬৬/৮/ডি.। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৬৭ ও ৪৫৭/৬ (গ্রিভস ২০২*, হোপ ১৪০, রোচ ৫৮*; জ্যাকব ডাফি ৩/১২২)। ফল: ড্র। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: জাস্টিন গ্রিভস (২/৩৫ ও ২০২*)।