ক্রিকেটের যুব বিশ্বকাপ খ্যাত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ১৫তম আসর আগামীকাল শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকায় শুরু হচ্ছে। প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্র খেলবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ও স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

 

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়। এই আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। সর্বোচ্চ ৫ বার (২০০০, ২০০৮, ২০১২, ২০১৮ ও ২০২২) শিরোপা জিতে সফলতম দলও তারা। বাংলাদেশ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ২০২০ সালে। সেবার ফাইনালে ভারতকে হারায় বাংলাদেশ। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া তিনবার (১৯৮৮, ২০০২ ও ২০১০), পাকিস্তান দুবার (২০০৪ ও ২০০৬) এবং দক্ষিণ আফ্রিকা (২০১৪), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২০১৬) ও ইংল্যান্ড (১৯৯৮) একবার করে শিরোপার স্বাদ পেয়েছে।

 

এবারের আসরে মোট ১৬টি দেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। দলগুলোকে চারটি গ্রুপে বিভক্ত করা হয়েছে। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও আয়ারল্যান্ড; ‘বি’ গ্রুপে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড; ‘সি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলংকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া এবং ‘ডি’ গ্রুপে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান ও নেপাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

 

বাংলাদেশ শনিবার প্রথম ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে। গত ১৫ ডিসেম্বর দুবাইয়ে এশিয়া কাপ সেমিফাইনালে ভারতকে ৪ উইকেটে হারানোর কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। মাহফুজুল হক রাব্বীর দল পরে ফাইনালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ১৯৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

 

এশিয়া কাপ জয়ের দুই সপ্তাহ পরই দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ খেলতে যায় বাংলাদেশের যুবারা। এবার তাদের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন। ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় আকবর আলীর নেতৃত্বে প্রথমবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। সেই একই দেশে এবারও বিশ্বকাপ আসর বসছে বলে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ।

 

বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো হবে পচেফস্ট্রুম, ব্লোয়েমফন্টেইন, বেনোনি, কিম্বার্লি ও ইস্ট লন্ডনে। সেমিফাইনাল ও ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে বেনোনিতে।

 

এই আসরটি আয়োজন করার কথা ছিল শ্রীলংকার। যদিও বোর্ডের প্রশাসনে সরকারের অতিমাত্রায় হস্তক্ষেপের কারণে গত নভেম্বর মাসে শ্রীলংকাকে নিষিদ্ধ করে আইসিসি। এ কারণে আইসিসির ইভেন্টটি সরিয়ে নেয়া হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো যুব বিশ্বকাপ আয়োজন করছে প্রোটিয়ারা। এর আগে ১৯৯৮ ও ২০২০ সালে দেশটিতে যুব বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। আগের কোনোবারই তারা স্বাগতিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে শিরোপা জিততে পারেনি। এবার কি পারবে প্রোটিয়া যুবারা?