ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে জয়ের আশায় খেলতে নামা বাংলাদেশের জন্য আজ প্রথম দিনটি ছিল চরম হতাশার। বিশেষ করে বললে, দিনটি ছিল বোলারদের জন্য বিষণ্নতা আর হাহাকারের। ৯০ ওভার বোলিং করে লংকানদের মাত্র একটি উইকেট নিতে সমর্থ হয় বাংলাদেশের ৫ বোলার। ১ উইকেটে ২৯১ রান নিয়ে প্রথম দিন মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। সেঞ্চুরিয়ান দিমুথ করুণারত্নের বিদায়ের পর লাহিরু থিরিমান্নে ১৩১ ও ওশাদা ফার্নান্দো ৪০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।

প্রথম দুই সেশনে স্বাগতিক শ্রীলংকার একটি উইকেটও নিতে পারেননি তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলামরা। বিনা উইকেটে ১৮৮ রান নিয়ে চা-বিরতিতে যায় সিংহলিজরা। প্রথম সেশনে কিছুটা দেখেশুনে খেলেছে শ্রীলংকা। এ সময় ২৭ ওভারে মাত্র ৬৬ রান সংগ্রহ করে তারা। পরের ২১.১ ওভারে আসে ৮৪ রান। এ পথে করুণারত্নে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১১১ বলে, আর থিরিমান্নের হাফ সেঞ্চুরি আসে ১০২ বলে।

করুণারত্নে এতটাই আগ্রাসী খেলেছিলেন যে তার পরের ৫০ রান আসে মাত্র ৫৪ বলের কনকর্ডে চেপে। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরিটা তিনি করেন ১৬৫ বলে। ক্যান্ডিতে আগের টেস্টেই ২৪৪ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে হতাশ করেন লংকান দলনায়ক।

করুণারত্নে ও থিরিমান্নে প্রথম উইকেট জুটিতে করেন রেকর্ড ২০৯ রান। ২০১১ সালের পর শ্রীলংকার কোনো ওপেনিং জুটি এই প্রথম দুশোর্ধ্ব রান করল, আর ২১ বছরের মধ্যে যা শ্রীলংকার মাঠে প্রথম নজির। তাসকিন আহমেদের বলে ব্যক্তিগত ২৮ রানে ক্যাচ দিয়েছিলেন করুণারত্নে, যদিও নাজমুল হোসেন শান্ত তা তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন। পরে এ দুজন বোর্ডে যোগ করেন ২০৯ রান।

প্রথম সেশনে লংকানরা তুলেছিল ২৭ ওভারে ৬৬ রান, সেখানে দ্বিতীয় সেশনে ৩১ ওভারে তারা সংগ্রহ করে ১২২ রান। তৃতীয় সেশনে ৩২ ওভারে লংকানরা বোর্ডে জড়ো করে আরো ১০৩ রান।

তৃতীয় সেশনে লংকানদের একমাত্র উইকেটের পতন ঘটাতে পেরেছে বাংলাদেশ। ২০৯ রানের জুটি ভেঙেছেন অভিষিক্ত শরিফুল ইসলাম। তিনি ১১৮ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান করুণারত্নেকে। তার বলে উইকেটের পেছনে লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়েছেন করুণারত্নে। এরপর ওশাদাকে নিয়ে ৮২ রান যোগ করেন থিরিমান্নে।

থিরিমান্নে তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ২০২ বলে। ২৫৩ বলে ১৩১ রান করে অপরাজিত রয়েছেন তিনি। ওশাদা ৪০ রান করেন ৯৮ বলে।