গত
১৯ নভেম্বর আহমেদাবাদে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যায়
স্বাগতিক ভারত। রোহিত শর্মাদের হারে গোটা ভারতবর্ষেই নেমে আসে বিষণ্নতা। যদিও ভারতের
ক্রিকেট সমর্থকরা দ্রুতই সেই কষ্ট ভুলবার উপলক্ষ্য পেয়ে গেলেন। বিশাখাপত্তনমে আজ
বৃহস্পতিবার টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ছুড়ে দেয়া ২০৯ রানের বিশাল
টার্গেট তাড়া করতে নেমে শেষ ওভারে রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তার পর ২ উইকেটে জিতেছে ভারত।
শেষ
৬ বলে ৭ রান প্রয়োজন ছিল ভারতের, হাতে ৫ উইকেট। উইকেটে রিংকু সিং ও অক্ষর প্যাটেল।
রিংকু প্রথম ২ দলে নিলেন ৫ রান। ফলে প্রয়োজন পড়ে ৪ বলে ২ রান। এরপর চরম নাটকীয়তা।
পরপর ৩ বলে ৩ উইকেট হারায় ভারত! সমীকরণ দাঁড়ায়—১ বলে ১ রান। তখন শন অ্যাবোটকে
লং-অন দিয়ে ছক্কা মেরে সব নাটকীয়তার অবসান ঘটান রিংপু সিং। ১১ বলে ২২ রানে অপরাজিত
থাকেন আইপিএলের এই তারকা।
যদিও
ভারতের জয়ের মূল নায়ক অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। জস ইংলিসের ৪৭ বলের সেঞ্চুরিকে
বিফল করে দিয়ে ভারতকে জেতান তিনি। সূর্যকুমার ৪২ বলে ৮০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। এছাড়া
ইশান কিশান ৩৯ বলে ৫৮, যশস্বী জয়সওয়াল ৮ বলে ২১ রান করেন। ৬০ বলে ১১২ রানের জুটি
গড়ে ভারতকে জেতান ইশান ও সূর্যকুমার।
এর
আগে ইংলিস ও স্টিভ স্মিথের ব্যাটে ভর করে দুশোর্ধ্ব সংগ্রহ পায় ওয়ানডের সদ্য বিশ্ব
চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। ওপেন করতে নামা স্মিথ ৪১ বলে ৫৮ রান করেন। আর তিনে নামা
ইংলিস সেঞ্চুরি করেন ৪৭ বলে। তিনি ৫০ বলে ১১০ রান করে আউট হয়েছেন। ৬৬ বলে ১৩০
রানের জুটি গড়েন স্মিথ ও ইংলিস।
আরশদীপ
সিংয়ের করা ১৭তম ওভারের চতুর্থ বলে স্লিপের ফাঁক গলিয়ে বাউন্ডারি মেরে ৪৭ বলে
সেঞ্চুরি করেন ইংলিস। টি২০ ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে যুগ্মভাবে দ্রুততম সেঞ্চুরি
এটি। ২০১৩ সালে সাউদাম্পটনে ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন অ্যারন ফিঞ্চ।
টি২০তে
দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটা নেপালের কুশল মাল্লার। এ বছর মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে তিনি
এই রেকর্ড গড়েন। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার
(প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ) ও ভারতের রোহিত শর্মার (প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা) রয়েছে ৩৫ বলে
সেঞ্চুরি।
যদিও
অস্ট্রেলিয়া হেরে যাওয়ায় বিফলেই যায় ইংলিসের সেঞ্চুরি। রোববার কেরালার তিরুবানান্তপুরমে
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। উল্লেখ্য, এই সিরিজে দুই দলই বিশ্রাম দিয়েছে শীর্ষ সারির
খেলোয়াড়দের। টি২০ স্পেশালিস্টদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।










