আগামীকাল শনিবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অল-ইংলিশ ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটি। চেলসি দ্বিতীয় ও ম্যানসিটি প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপার জন্য লড়বে। ২০১২ সালে বায়ার্ন মিউনিখকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান মুকুট জয় করে চেলসি। অন্যদিকে আবুধাবি গ্রুপের হাত ধরে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তিতে পরিণত হওয়া ম্যানসিটি এখনো মহাদেশী শ্রেষ্ঠত্বের স্বাদ পায়নি। এমনকি এবারই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে উঠেছে ম্যানচেস্টার জায়ান্টরা। স্প্যানিশ কোচ পেপ গার্দিওলার হাত ধরে এবার শিরোপা জয়ের সুযোগ সিটিজেনদের সামনে।

ম্যাচটি শুরু হবে শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়। সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি টেন ১ ও ২।

১৩ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে ২৭টি বড় শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন গার্দিওলা। এটা তার তৃতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল এবং দশ বছরের মধ্যে প্রথম। প্রথম দুটি ফাইনাল তিনি জিতেছেন বার্সেলোনার হয়ে। 

এদিকে অনন্য এক রেকর্ড গড়ে চেলসিকে ফাইনালে তুলে নিয়েছেন টুখেল। প্রথম কোচ হিসেবে পরপর দুই আসরে ভিন্ন দুটি দলকে ফাইনালে তুলেছেন এ জার্মান কোচ। গতবার ফাইনালে ডাগআউটে ছিলেন প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) কোচ হিসেবে, সেবার নিজ দেশের ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে যায় তার দল। সেই ব্যর্থতায় চাকরি গেলেও চেলসিকে ফাইনালে তুলে পিএসজির উপেক্ষার জবাব দিয়েছেন তিনি। আজ টুখেল শিরোপা হাতে নিলে পিএসজির আফসোস আরো বাড়বে।

কাল দুই ইংলিশ ব্রিগেডের লড়াই হবে মূলত মধ্যমাঠে, যা কিনা দুই দলের মাইনফিল্ড! বলের ওপর দখল আর জায়গা তৈরি করে নেয়ার লড়াইটা জমবে বেশ। দুই দলই একে অপরের ওপর বিশাল চাপ তৈরি করে খেলতে নামবে। স্তাদিও দো দ্রাগাওয়ে গোল উত্সব নাও হতে পারে। এবার প্রিমিয়ার লিগে সেরা রক্ষণভাগ ছিল এই দুই দলেরই। সদ্য সমাপ্ত লিগে সিটি ও চেলসি যথাক্রমে ৩২ ও ৩৬ গোল হজম করে। এছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গ্রুপ পর্বে যথাক্রমে এক ও দুই গোল হজম করে দুই ইংলিশ জায়ান্ট। নকআউট পর্বে ১২ ম্যাচে দুই দল মিলে হজম করে ৫ গোল (চেলসি দুটি ও সিটি তিনটি)।

ফ্রাংক ল্যাম্পার্ড ছাঁটাই হওয়ার পর স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে আসেন টুখেল। জার্মান টেকনিশিয়ানের আগমনের পর পুনরুত্থান ঘটে চেলসিতে। রক্ষণকে তিনি দুর্ভেদ্য দেয়াল হিসেবে গড়ে তুলেছেন, আর মিডফিল্ডে প্রাণসঞ্চার করেন এন’গোলা কান্তে, ম্যাতেও কোভাচিচ ও জর্জিনিয়ো।

অন্যদিকে গার্দিওলা গত চার-পাঁচ বছর ধরে সিটিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা শক্তিতে রূপ দিয়েছেন। সিটির রক্ষণ, মিডফিল্ড আর আক্রমণভাগ ঈর্ষণীয়। বর্তমান দলটি তারুণ্যনির্ভর। ইংলিশ তারকা ফিল ফডেন নিয়মিত একাদশে জায়গা পাকা করে নিয়েছেন। তাই দল থেকে ছিটকে গেছেন রহিম স্টার্লিং। দর্শনীয় ড্রিবলিং আর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে গার্দিওলার মন জয় করে নিয়েছেন ২১ বছর বয়সী ফডেন। গত সেপ্টেম্বরে কেনা ২৩ বছর বয়সী পর্তুগিজ সেন্টার-ব্যাক রুবেন ডিয়াজ একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের মতোই খেলে যাচ্ছেন।