ইতালির বিপক্ষে ইউরোর ফাইনালে টাইব্রেকারে পেনাল্টি শট মিস
করেছেন ইংল্যান্ডের মার্কাস র্যাশফোর্ড, জ্যাডন সাঞ্চো ও বুকায়ো সাকা। এ তিন তরুণের
মিসে ইংল্যান্ড প্রথমবারের মতো ইউরো জয়ের সুযোগ হারায়। পরাজয় শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
কৃষ্ণাঙ্গ এ তিনজনকে টার্গেট করে বর্ণবাদী মন্তব্য করেন অনেকে। এ ঘটনায় ইংল্যান্ড ফুটবল
অ্যাসোসিয়েশন, লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
নিন্দা জানিয়েছে। এফএ তদন্ত কমিটি গঠন করবে, আর মেট্রো পুলিশ দোষীদের খুঁজে বের করবে।
পেনাল্টি মিস করে এমনিতেই অন্তর্দহনে পুড়ছেন সাকা, র্যাশফোর্ডরা।
এরপর কপালে জুটেছে বর্নবাদী মন্তব্য। সঙ্গতকারণেই তাদের ভেঙে পড়ার কথা। এমন পরিস্থিতিতে
খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ালেন ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। তিনি বলেছেন, এর দায় আমার।
ট্রেনিংয়ে কে কেমন শট নিয়েছে তার ভিত্তিতে আমিই নির্ধারণ করেছি কে কে পেনাল্টি নেবে।
কেউ নিজে থেকে নেয়নি। আমরা একটি দল হিসেবে ম্যাচগুলো জিতেছি, আবার জিততে ব্যর্থ হয়েছিও
একটি দল হিসেবেই। পেনাল্টির কথা যদি বলতে হয়, এটা আমি ঠিক করেছি এবং দায়ও আমার।
ইংল্যান্ডকে ৫৫ বছর পর ফাইনালে তুলতে অন্য সব খেলোয়াড়ের
মতো বড় ভূমিকা রেখেছেন ১৯ বছর বয়সী সাকা। জার্মানির বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরুর
একাদশে নেমে আলো ছড়ান সাকা, এরপর সেমিফাইনালে ডেনমার্কের বিপক্ষেও তাকে মূল একাদশে
রাখেন সাউথগেট। সেমিতে সর্বকনিষ্ঠ ইংরেজ খেলোয়াড় হিসেবে ১৯ বছর ৩০৫ দিন বয়সে মাঠে নেমে
রেকর্ড গড়েন সাকো। ওই ম্যাচে তার ক্রসেই বল নিজেদের জালে জড়া ডেনমার্কের সাইমন জার।
সাকোর গুরুত্ব ভালো করেই বুঝেছেন সাউথগেট। তাইতো পেনাল্টি
মিসের পর কান্নারত সাকোকে বুকে জড়িয়ে নিয়েছেন তিনি। পরে এ নিয়ে বলেছেন, আপনি কাউকে
অভিযুক্ত করতে পারেন না। গত ৫০ বছরে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে ভালো করেছে তারা।
সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার বলেছেন, এতটা চাপের
মুখে যারা পেনাল্টি নেয়ার সাহস করেছেন তাদের প্রশংসাই করা উচিত, বিশেষ করে এতটা কম
বয়সে। তিনি বলেন, ওইসব তরুণ বলেছে, ‘হ্যঁ,
আমি শট নেব।’...আপনার উচিত তাদের কৃতিত্ব দেয়া।
তিনি আরো বলেন, জানি সময়টা তাদের জন্য এখন কঠিন কাটবে, কিন্তু
আশাকরি তারা এটি কাটিয়ে উঠবে।
সাবেক ইংলিশ দলনায়ক রিও ফার্ডিনান্ড বলেছেন, কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে
দোষারোপা করার কোনো সুযোগ নেই। এটা লটারির মতো। আমি দেখেছি, অনেক প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়
পাশ কাটিয়ে যায় এবং পেনাল্টি নেয় না। কখনো কখনো বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ও পেনাল্টি মিস
করেন।










