নতুন সইকৃত খেলোয়াড় লিওনেল মেসিকে
সমর্থকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দিল ইন্টার মিয়ামি। বাংলাদেশ সময়
সোমবার ভোরে ডিআরভি পিএনকে স্টেডিয়ামে সাতবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী খেলোয়াড়ের এই
পরিচিত অনুষ্ঠানে ২০ হাজার ধারণক্ষম গ্যালারির কোনো সিট খালি ছিল না। বৃষ্টি ও
বজ্রপাতের মধ্যেও মেসিকে দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন সমর্থকরা। অনুষ্ঠানে
মেসিকে ক্লাবের ১০ নম্বর জার্সি উপহার দেয়া হয়।
স্প্যানিশ ভাষায় দেয়া সংক্ষিপ্ত
বক্তৃতায় ৩৬ বছর বয়সী মেসি সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, সব সময় যেমন আকাঙ্ক্ষা
ছিল, এখনো ঠিক তেমনই আছে তার।
আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জয় করা
এই কৃতী ফরওয়ার্ড ইন্টার মিয়ামিতে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত খেলার চুক্তি করেছেন।
এখানে তিনি সতীর্থ হিসেবে পাবেন
সের্জিও বুসকেটসকে, যার সঙ্গে প্রায় এক দশক খেলেছেন বার্সেলোনায়। মেসির মতো বুসকেটসও
২০২৫ সাল পর্যন্ত চুক্তি করেছেন ইন্টার মিয়ামির সঙ্গে। রোববার রাতের একই অনুষ্ঠানে
বুসকেটসকেও সমর্থকদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেয় ইন্টার মিয়ামি।
‘আমেরিকাস নাম্বার টেন, দ্য
ওয়ার্ল্ডস বেস্ট নাম্বার টেন’ হিসেবে মেসিকে পরিচয় করিয়ে দেন আয়োজকরা।
ভিডিও বার্তায় মেসিকে যুক্তরাষ্ট্রে
স্বাগত জানান সাতবারের রোজ বোল চ্যাম্পিয়ন টম ব্র্যাডি ও চারবারের এনবিএ
চ্যাম্পিয়ন স্টিফেন কারি।
মেসি বলেন, ‘আমি মনেপ্রাণে অনুশীলন
শুরু করতে ও প্রতিযোগিতা নামতে চাইছি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার, জেতার ও ক্লাবকে সামনে
এগিয়ে নেয়ার যে আকাঙ্ক্ষা আমার সব সময় ছিল, সেটি এখনো আগের মতোই আছে। আমি ও আমার
পরিবার এই শহর, এই প্রকল্পকে বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো সংশয় ছিল না।
আশাকরি, আমরা সময়টা উপভোগ করব। আমাদের সবার ভালো সময় কাটবে এবং আশাকরি ভালো কিছু
আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।’
মেসি যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে নাম
লেখানোয় উচ্ছ্বসিত মেজর লিগ সকারের কমিশনার ডন গারবার। মেসির মতো মর্যাদার কোনো খেলোয়াড়ের
এই লিগকে বেছে নেয়াকে ‘রূপান্তরমূলক মুহূর্ত’ বলে মনে করেন তিনি। তিনি বিশ্বকে
শোনাতে চান এই বলে, এটি ফুটবল জাতি।
গারবার বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে
গড়ে তোলার পর এটি এখন বৈশ্বিক পর্যায়ে খেলোয়াড়দের লিগে পরিণত হয়েছে। এটা স্মরণীয় রাত।’
মেসির চুক্তিকে ‘স্বপ্ন সত্যি
হওয়া’ বলে অভিহিত করলেন ইন্টার মিয়ামির সহ-মালিক ডেভিড বেকহ্যাম। ইংলিশ গ্রেট
বলেন, ‘লিও, তুমি ক্যারিয়ারের পরের অধ্যায়ের জন্য আমাদের ক্লাবকে বেছে নেয়ায় আমরা
গর্বিত।’
আরেক সহ-মালিক জর্জ ম্যাস বলেন, ‘এখন
আমাদের সময়। দেশের ফুটবল মানচিত্রটা পাল্টে দেয়ার সময় এখন।’
ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই
(পিএসজি) ছেড়ে ইন্টার মিয়ামিতে নাম লেখান মেসি। পিএসজির হয়ে দুই মৌসুমে ৭৫ ম্যাচে
৩২ গোল করেন তিনি। তবে তার ক্যারিয়ারের সোনালী অধ্যায়টা কেটেছে বার্সেলোনায়। তিনি
কাতালানদের হয়ে রেকর্ড ৬৭২ গোল করেছেন, জিতেছেন দশটি লা লিগা, চারটি চ্যাম্পিয়ন্স
লিগ ও সাতটি স্প্যানিশ কাপ শিরোপা।
গত জুনে সংবাদমাধ্যমগুলো
জানাচ্ছিল, সৌদি ক্লাব আল হিলাল ১৫০ কোটি ডলারে তিন বছরের জন্য মেসিকে দলভুক্ত
করতে চলেছে। গুঞ্জন ছিল বার্সায় ফেরারও। তবে তিনি বেছে নিলেন ইন্টার মিয়ামিকে।
মেসির এই যাত্রাকে একটু চ্যালেঞ্জিং
হিসেবে দেখছেন সাবেক ম্যানইউ অধিনায়ক ওয়েন রুনি। তার কথায়, ‘এটা সহজ হবে না। খারাপ
শোনাতে পারে, কিন্তু নতুন আসা খেলোয়াড়দের জন্য এটা কঠিন লিগ। ভ্রমণকষ্ট, ভিন্ন
ভিন্ন শহরের ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশন ছাড়াও মাঠে থাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা।’
তবে রুনি স্বীকার করে নিলেন, মেসির
মতো এক মহাতারকার আগমন মেজর লিগ সকার ও যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের জন্য বিরাট এক টনিক।
তার কথায়, ‘আমেরিকানরা বিজয়ী হতে ভালোবাসে। সেসঙ্গে তারা স্কিল দেখতে পছন্দ করে,
বিনোদনও চায়। মেসির মধ্যে এই সবই আছে।’










