পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজের শেষ টেস্ট সিরিজ খেলেছেন ডেভিড ওয়ার্নার। এই সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারাল অস্ট্রেলিয়া। সিডনিতে আজ শনিবার চতুর্থ দিন ১৩০ রানের সহজ টার্গেট পায় স্বাগতিক দলটি। মারনাস লাবুশেন ৬২ ও ওয়ার্নার ৫৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে ৮ উইকেটের জয় এনে দেন।  

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে শুক্রবার তৃতীয় দিন দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৭ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে পাকিস্তান। দুই ইনিংস মিলে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ৮২ রানে এগিয়ে ছিল তারা, হাতে মাত্র ৩ উইকেট। আজ সকালে মোহাম্মদ রিজওয়ান (২৮) ও আমির জামালের (১৮ রান) ব্যাটে ভর করে ১১৫ রান তুলে অলআউট হয় অতিথি দল। বোর্ডে ৪১ রান যোগ করে পরপর দুই ওভারে দুজন আউট হয়ে যান। জস হ্যাজেলউড ১৬ রানে ৪টি ও নাথান লায়ন ৩৬ রানে ৩টি উইকেট নেন।  

সহজ টার্গেট তাড়া করতে নামা অজিদের শুরুতেই ধাক্কা দেন স্পিনার সাজিদ খান। প্রথম ওভারের শেষ বলে তিনি লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন উসমান খাজাকে। যদিও আর কোনো উত্তেজনা হয়নি। ওয়ার্নার ও লাবুশেনের বিশ্বস্ত ব্যাটে একশ রান পেরিয়ে যায় অজিরা। দলের ১১৯ রানের সময় সাজিদ খানের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওয়ার্নার। এটাই তার শেষবারের মতো সাজঘরে ফেরা। যদিও শেষ ইনিংসে ফিফটি করে দলের জয়ে মূল্যবান অবদান রাখেন তিনি।

প্রথম ইনিংসে ৮২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮ রান করার পাশাপাশি অজিদের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করা আমির জামাল ম্যাচসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। আর সিরিজসেরা খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ার অধিানয়ক প্যাট কামিন্স। তিনি সর্বোচ্চ ১৯ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া জামাল ১৮টি, লায়ন ১৩টি উইকেট নেন। শীর্ষ তিন রান সংগ্রাহকই অস্ট্রেলিয়ার। মিচেল মার্শ ৩৪৪, ওয়ার্নার ২৯৯ ও খাজা ২২০ রান করেন।

১১২ টেস্ট খেলে থামলেন ওয়ার্নার। লাল বলের এই ক্রিকেটে ২৬টি সেঞ্চুরি ও ৩৭টি ফিফটিতে তিনি করেছেন ৮ হাজার ৭৮৬ রান। সর্বোচ্চ ৩৩৫ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। এছাড়া ওয়ানডেতে ৬ হাজার ৯৩২ ও টি২০তে ২ হাজার ৮৯৪ রান করেছেন ওয়ার্নার। সম্প্রতি ওয়ানডে ক্রিকেট থেকেও অবসর নিয়েছেন। এখন খেলবেন শুধু ঘরোয়া টি২০ লিগ।