চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ শনিবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে বোলিং নেয়া বাংলাদেশ পড়ে অগ্নিপরীক্ষার মুখে। সিরিজে সমতা আনতে এই ম্যাচে জিততেই হবে—এমন সমীকরণের ম্যাচে স্বাগতিকরা ৩৩২ রানের বিশাল টার্গেটের সামনে পড়ে। আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ (১৪৫) ও ইব্রাহিম জাদরান (১০০) সেঞ্চুরি করে দলকে রানসৌধে নিয়ে যান। বিশাল রান তাড়া করতে নেমে ৪৩.২ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান তুলতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিল আফগানরা।

 

ফজলহক ফারুকি ও মুজিব উর রহমান তিনটি করে এবং রশিদ খান দুটি উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। মুশফিকুর রহিম নিঃসঙ্গ লড়াই (৮৫ বলে ৬৯) বাংলাদেশের হারের ব্যবধানই যা একটু কমাতে পেরেছে।

 

ওয়ানডেতে এটা রানের হিসেবে আফগানিস্তানের তৃতীয় বৃহত্তম জয়। এছাড়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৫৪ ও ১৪৬ রানে জয়ের কৃতিত্ব দেখায় তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটাই রানে সর্বোচ্চ জয় তাদের।

 

এর আগে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবার উদ্বোধনী জুটিতে শতরানে পা রাখে আফগানিস্তান। আগের সেরা ছিল গত বছর এই মাঠেই গুরবাজ ও রিয়াজ হাসানের ৭৯। আজ দুজনে জুটিকে টেনে নেন ২৫৬ রান পর্যন্ত। এ পথে গড়েন অসংখ্য রেকর্ড। এটি যেকোনো জুটিতে আফগানিস্তানের সেরা। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে যেকোনো জুটিতে চতুর্থ সেরা। সর্বোচ্চ ২৯০ রান ভারতের ইশান কিশান ও বিরাট কোহলির করা। 

 

এরপর সাকিব আল হাসানকে পরপর দুই বলে চার-ছক্কা মেরে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সে খেলা রহমানউল্লাহ গুরবাজ। ৪০ রান থেকে সুইপ করে মেরেছেন বাউন্ডারি, এরপর লেংথ বলে পুল করে ছক্কায় উড়িয়ে এই ওপেনার পৌঁছে যান পঞ্চাশে। পরে ১০০ বলে পৌছেন নিজের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে।

 

এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলে এসেছে দুটি পরিবর্তন। তামিম ইকবালের জায়গায় খেলবেন নাঈম শেখ, আর তাসকিন আহমেদের জায়গা নিয়েছেন এবাদত হোসেন।

 

নিয়মিত অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ছাড়াই আজ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। তিনি সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারের পরদিন অবসরের ঘোষণা দেন। যদিও শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর অবসরের সিদ্ধান্ত পাল্টেছেন দেশের হয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক তামিম। এই সিরিজে অবশ্য খেলবেন না তিনি। দেড় মাসের ছুটি কাটিয়ে ফিরবেন এশিয়া কাপে। তার অনুপস্থিতিতে এই সিরিজের বাকি দুই ম্যাচে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেবেন লিটন দাস।

 

প্রথম ওয়ানডেতে আফগানদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। বৃষ্টিতে একাধিকবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর ম্যাচটি কমিয়ে ৪৩ ওভারের করা হলে তাতে ৯ উইকেটে ১৬৯ রান সংগ্রহ করতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। জবাবে আফগানরা ২ উইকেটে ৮৩ রান তোলার পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় ডিএলএস মেথডে জিততে আফগানদের ২ উইকেটে ৬৬ রান থাকলেই চলতো। কিন্তু তাদের ছিল ৮৩/২। তাই ১৭ রানের জয় তুলে নেয় হাশমতউল্লাহ শহিদির দল।