মেয়েদের ব্যাডমিন্টনে দেশের অন্যতম শীর্ষ তারকা এলিনা সুলতানা। জাতীয় ব্যাডমিন্টনে এককে দুবারের চ্যাম্পিয়ন। সামার ওপেন ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে এককে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন। দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন ছয়বার। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন চারবার। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক আসরেও সফলতা আছে। এসএ গেমসে দু-দুবার মেয়েদের দ্বৈতে শাপলা আক্তারের সঙ্গে জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ব্রোঞ্জ এনে দেন তিনি। এছাড়া এককভাবে ব্রোঞ্জ জিতেছেন ইন্দো-বাংলাদেশ গেমসে।
এলিনার শোকেসটা ট্রফি আর পদকে ভরা। স্বামী এনায়েত উল্লাহ খানও সাবেক জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন। এ যুগলের দুই সন্তান। স্বামী-সংসার সামলে খেলাটাও চালিয়ে যান এলিনা। তিনি একজন খেলোয়াড়, স্ত্রী ও মা। ২০১৮ সালে মালয়েশিয়া থেকে ব্যাডমিন্টনের লেভেল ‘টু’ কোচেস প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ২০১৭ সালে নেপালে লেভেল ‘ওয়ান’ কোচেস প্রশিক্ষণের লিখিত পরীক্ষায় ৮ দেশের ৪৩ জনের মধ্যে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন এলিনা। এছাড়া, ভারত, নেপাল ও মালয়েশিয়ায় আরো প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি।
পড়াশোনায়ও প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন এলিনা। ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ে স্নাতকোত্তর পাস করেছেন প্রথম শ্রেণী পেয়ে।
প্রথম পরিচয় চ্যাম্পিয়ন শাটলার। তবে সব মিলিয়ে এলিনা সুলতানা একজন ‘অলরাউন্ডার’। সব বিষয়ে পারঙ্গম এ তারকা ঈদে পছন্দের রেসিপি রান্না করতেও ভালোবাসেন। ঈদুল আজহা সামনে রেখে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রকিবুল ইসলাম
কোথায় ঈদ করেন, কীভাবে কাটান?
মূলত শ্বশুরবাড়িতেই ঈদ করি। তবে আমার স্বামী তার বাবার বাড়িতে ও আমি আমার বাবার বাড়িতে কোরবানি দেই। আমি আমার বাড়ির সবার ছোট মেয়ে। আবার শ্বশুরবাড়িতে বউ হিসেবে সবার বড়। দায়িত্ব থাকে। এর পরও ঈদের দিনটা মূলত আমার ঘোরার প্ল্যান থাকে। রান্নাবান্নার তেমন কোনো ঝামেলা থাকে না।
ঈদে কী কী খাবার পছন্দ?
সচরাচর সবাই যেটা খায় সেটা তো থাকেই। তবে আম্মুর হাতে সেমাই আর চটপটিটা আমার পছন্দ।
গরুর মাংসের আলাদা কোনো রেসিপি আছে?
আমি গরুর মাংসটা ছোট ছোট করে কাটি। গরুর মাংস সবাই যেভাবে পিস করে, ওইভাবে না, আরো ছোট ছোট করে কাটি। সব মসলাই তো অ্যাজ-ইউজুয়াল সবাই দেয় কম-বেশি। সেগুলো তো দেই-ই। সর্বশেষ কাঁচামরিচ, ধনেপাতা, গরম মশলা যা থাকে, ওইগুলা দিয়ে দেই ওপরে। কাঁচামরিচের ফ্লেভারটাও আসে তাহলে।
এ মাংসটা এনায়েত (এলিনার স্বামী) খুব পছন্দ করে। সবাই আমার হাতে গরুর মাংসটা পছন্দ করে। আমার আম্মু সবার রান্না পছন্দ করে না, একটু খুতখুতানি আছে, কিন্তু আমার রান্না করা গরুর মাংসটা ভীষণ পছন্দ করে।
ঈদে বাচ্চাদের নিয়ে কী প্ল্যান থাকে?
ওদের নিয়ে ঘোরার প্ল্যানটাই বেশি থাকে। অন্যদের রান্নাবান্নার চাপ থাকলেও আমি বাবার বাড়িতে গেলেও রান্না করা লাগে না, শ্বশুরবাড়িতেও রান্না করা লাগে না। আমার শাশুড়িই রান্না করেন। যখন বাসায় ফিরে আসি তখন দেখা যায় শখের বশে করি। গরুর মাংসটা রান্না করা আমার পছন্দ।
ঈদে সতীর্থদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয়?
আমার তো হোম ডিস্ট্রিক্ট খুলনায়। খুলনায় গেলে আরচার রোমান সানা, ও অনেক ভালো, আমার ভাইয়ের মতোই। ও খুলনায় গেলে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করে, আপু কোথায়। ফ্রি থাকলে সে আসে, আমরা কোথাও বসে একটু আড্ডা দিই। ব্যাডমিন্টনেও আছে। বর্তমানে চ্যাম্পিয়ন ঊর্মি, খুলনার বলে ঈদের সময় ওর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়।










