চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ শনিবার আফগানিস্তানের
বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে বোলিং নেয়া বাংলাদেশ পড়েছে
অগ্নিপরীক্ষার মুখে। সিরিজে সমতা আনতে এই ম্যাচে জিততেই হবে—এমন সমীকরণের ম্যাচে
স্বাগতিকরা পড়ল ৩৩২ রানের বিশাল টার্গেটের সামনে। আফগানিস্তান ওপেনার রহমানউল্লাহ
গুরবাজ (১৪৫) ও ইব্রাহিম জাদরান (১০০) সেঞ্চুরি করে দলকে রানসৌধে নিয়ে যান।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবার উদ্বোধনী
জুটিতে শতরানে পা রাখতে পারল আফগানিস্তান। আগের সেরা ছিল গত বছর এই মাঠেই গুরবাজ ও
রিয়াজ হাসানের ৭৯। আজ দুজনে জুটিকে টেনে নেন ২৫৬ রান পর্যন্ত। এ পথে গড়েন অসংখ্য রেকর্ড।
এটি যেকোনো জুটিতে আফগানিস্তানের সেরা। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে যেকোনো জুটিতে
চতুর্থ সেরা। সর্বোচ্চ ২৯০ রান ভারতের ইশান কিশান ও বিরাট কোহলির করা।
এরপর সাকিব আল হাসানকে পরপর দুই বলে
চার-ছক্কা মেরে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সে খেলা
রহমানউল্লাহ গুরবাজ। ৪০ রান থেকে সুইপ করে মেরেছেন বাউন্ডারি, এরপর লেংথ
বলে পুল করে ছক্কায় উড়িয়ে এই ওপেনার পৌঁছে যান পঞ্চাশে। পরে ১০০ বলে পৌছেন নিজের
চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে।
শেষ দিকে সফলতা দেখায় বাংলাদেশের বোলাররা। তাতেই
আফগানদের সংগ্রহ সাড়ে তিনশ ছাড়ায়নি। মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, সাকিব আল
হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট নেন।
এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলে এসেছে দুটি পরিবর্তন। তামিম
ইকবালের জায়গায় খেলছেন নাঈম শেখ, আর তাসকিন আহমেদের জায়গা নিয়েছেন এবাদত হোসেন।
নিয়মিত অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ছাড়াই আজ খেলতে নামছে
বাংলাদেশ। তিনি সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারের পরদিন অবসরের ঘোষণা দেন। যদিও শুক্রবার
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর অবসরের সিদ্ধান্ত পাল্টেছেন দেশের হয়ে ওয়ানডেতে
সবচেয়ে বেশি রানের মালিক তামিম। এই সিরিজে অবশ্য খেলবেন না তিনি। দেড় মাসের ছুটি
কাটিয়ে ফিরবেন এশিয়া কাপে। তার অনুপস্থিতিতে এই সিরিজের বাকি দুই ম্যাচে বাংলাদেশ
দলকে নেতৃত্ব দেবেন লিটন দাস।
প্রথম ওয়ানডেতে আফগানদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে
বাংলাদেশের ব্যাটাররা। বৃষ্টিতে একাধিকবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর ম্যাচটি কমিয়ে ৪৩
ওভারের করা হলে তাতে ৯ উইকেটে ১৬৯ রান সংগ্রহ করতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। জবাবে
আফগানরা ২ উইকেটে ৮৩ রান তোলার পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় ডিএলএস
মেথডে জিততে আফগানদের ২ উইকেটে ৬৬ রান থাকলেই চলতো। কিন্তু তাদের ছিল ৮৩/২। তাই ১৭
রানের জয় তুলে নেয় হাশমতউল্লাহ শহিদির দল।
এই সিরিজটা মূলত দুই দলের জন্যই বিশ্বকাপের মহড়া
হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী ৭ অক্টোবর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও
আফগানিস্তান। তার আগে একে অপরকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে পেছনে ফেলতে চাইবে।










