ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন বিবর্ণ বোলিং করা বাংলাদেশ গতকাল দ্বিতীয় দিন লড়াইয়ে ফিরেছে। তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলামদের দৃঢ়তায় চা-বিরতির আগেই স্বাগতিকদের ৫ উইকেট তুলে নেন অতিথি দলের বোলাররা। যদিও বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতায় তৃতীয় সেশনে মাত্র ৯.৫ ওভার খেলা হওয়ায় শ্রীলংকাকে অলআউট করার সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ। ৬ উইকেটে ৪৬৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন মাঠ ছাড়ে সিংহলিজরা। নিরোশান ডিকবেলা (৬৪*) ও রমেশ মেন্ডিসের (২২*) হার না মানা ৮৭ রানের জুটিই এখন দুশ্চিন্তায় রেখেছে সফরকারী বাংলাদেশ দলকে।
প্রথম ২০৯ রানের মধ্যে শ্রীলংকার কোনো উইকেটের পতন ঘটাতে পারেনি বাংলাদেশ। এরপর ১৭৩ রানের মধ্যে বাংলাদেশের বোলাররা ছয় ছয়বার উইকেটের উৎসব করতে পেরেছেন। এ সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারিগর পেসার তাসকিন আহমেদ। প্রথম ছয় উইকেটের তিনটিই নিয়েছেন তিনি।
১ উইকেটে ২৯১ রান নিয়ে গতকাল দ্বিতীয় দিন সকালে ব্যাটিংয়ে নামা সিংহলিজদের চাপের মুখে রাখেন মূলত তাসকিনই। সকালে প্রথম সেশনের মাঝামাঝি ছয় রানের ব্যবধানে পরপর তুলে নেন সেঞ্চুরিয়ান লাহিরু থিরিমান্নে (১৪০) ও সাবেক অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে (৫)। এরপর প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি পাওয়া ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে (২) উইকেটে থিতু হওয়ার আগেই বিদায় করেন তাইজুল ইসলাম। আর থিরিমান্নের সঙ্গে শতরানের ও পাথুম নিশাঙ্কাকে নিয়ে ৫৪ রানের জুটি গড়া ওশাদা ফার্নান্দোকে (৮১) শিকার করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার আগে নিশাঙ্কাকে (৩০) সরাসরি বোল্ড করেন তাসকিন।
ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর রমেশ মেন্ডিসকে নিয়ে দলকে টানছিলেন নিরোশান ডিকবেলা। এ দুজন ১৯.৩ ওভারে ৮৭ রান যোগ করে দলের সংগ্রহকে পাঁচশর কাছাকাছি নিয়ে গেছেন। এবারের সফরে গতকালই সবচেয়ে সফল দিন কাটানো বাংলাদেশের বোলাররা শ্রীলংকাকে অলআউট করতে পারেনি মূলত এ জুটির কারণেই।
তাসকিন ১১৯ রানে তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া তাইজুল, মিরাজ ও অভিষিক্ত শরিফুল ইসলাম নেন একটি করে উইকেট।
আজ চা-বিরতির পর দুই দফায় খেলা বন্ধ ছিল। প্রথমবার গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে ২০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে, এর পরও স্থানীয় সময় বিকালা সোয়া ৪টায় আলোকস্বল্পতায় আবার খেলা বন্ধ হয়ে যায়। লংকানরা ৪৬৯ রান তুলে এখন পাঁচশর দিকে। বাংলাদেশের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবু স্পিনার তাইজুল ইসলাম আশাবাদী ব্যাটিংয়ে ভালো করবে বাংলাদেশ। তিনি জানান, উইকেট এখনো যথেষ্ট ভালো। নাটকীয়ভাবে আচরণ বদলে না গেলে বাংলাদেশ লিড নিতে পারবে।










