রিভার প্লেট কি পারবে গতবারের ভুল সংশোধন করতে? বোকা জুনিয়র্স কি দিয়েগো ম্যারাদোনার জন্য শিরোপা জিততে পারবে? পালমেইরাসের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে কি এবার? নাকি এটি স্যান্টোসের বছর?

দক্ষিণ আমেরিকান সর্বোচ্চ ক্লাব ফুটবল প্রতিযোগিতা কোপা লিবার্তাদোরেস প্রায় শেষের দিকে, শেষ চারের রোমাঞ্চকর লড়াই শুরু হয়ে যাবে কাল। আগামীকাল সেমিফাইনালের প্রথম লেগ, পরের সপ্তাহে দ্বিতীয় লেগ এবং ৩০ জানুয়ারি রিও ডি জেনিরোর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে এবারের আসরের পর্দা নামবে। 

কাল প্রথম লেগে বোকার মাঠে খেলবে স্যান্টোস আর রিভার প্লেটের মাঠে খেলবে পালমেইরাস। ১২ জানুয়ারি দ্বিতীয় লেগের দুটি খেলা ব্রাজিলে।  

সেমিফাইনালের এ লড়াইটা মূলত আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলেরও লড়াই। চারটি দলই দুই দেশের। এমনকি চার দল বুয়েন্স আয়ার্স কিংবা সাও পাওলো ভিত্তিক। 

২০২০ কোপা লিবার্তাদোরেস শুরু হয়েছিল গত বছর জানুয়ারিতে, কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে মার্চের পর আর কোনো খেলা মাঠে গড়াতে পারেনি। গত সেপ্টেম্বর মাসে খেলা মাঠে ফেরে। এখন বাকি শুধু সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। 

ম্যারাডোনাকে সম্মান জানাতে পারবে বোকা জুনিয়র্স?

ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন বোকা জুনিয়র্স ২০০৭ সালের পর আর কখনই মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের স্বাদ পায়নি। বুয়েন্স আয়ার্স ভিত্তিক দলটি সপ্তম কোপা শিরোপার জন্য মরিয়া। যদিও এবার শিরোপাটি আরো বেশি করে চাইছে দলটি। এ শিরোপা জিতে তারা ক্লাবের কিংবদন্তি ও আর্জেন্টাইন গ্রেট দিয়েগো ম্যারাদোনাকে সম্মান জানাতে চায়, যিনি গত ৩০ অক্টোবর অনন্তলোকের পথে পাড়ি জমান। 

সর্বশেষ পাঁচ বছরের মধ্যে এটা বোকার চতুর্থ সেমিফাইনাল। লাতিন আমেরিকার অন্যতম সেরা দলটি এবার তাই শিরোপার জন্য মরিয়া হয়ে খেলবে। 

বোকায় দুটি অধ্যায় কেটেছে ম্যারাদোনার, যে ক্লাবটি ফাইনালে আবারো ‘চিরশত্রু’ রিভার প্লেটের মুখোমুখি হতে পারে। ২০১৮ সালে দীর্ঘ ৫৮ বছর পর কোপার ফাইনালে মুখোমুখি হয় বুয়েন্স আয়ার্সের খ্যাতিমান ক্লাব দুটি। যদিও বোকার টিম বাসে রিভার প্লেট সমর্থকরা আক্রমণ করলে ফাইনাল বুয়েন্স আয়ার্স থেকে সরিয়ে নেয়া হয় ৬ হাজার মাইল দূরবর্তী মাদ্রিদ শহরে, যে ফাইনালে ৫-৩ গোলের জয় তুলে নেয় রিভার প্লেট। 

ম্যানইউ ও ম্যানসিটির সাবেক স্ট্রাইকার কার্লোস তেভেজের নেতৃত্বাধীন বোকার সামনে এবার স্যান্টোস, যারা কোয়ার্টার ফাইনালে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ গোলে হারিয়েছে স্বদেশী ক্লাব গ্রেমিওকে। 

লড়াইটা প্রয়াত ম্যারাডোনা আর পেলেরও! এই স্যান্টোসে দীর্ঘ সময় খেলে এক ক্লাবের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছিলেন পেলে, যে রেকর্ডটি গত মাসে বার্সেলোনার হয়ে ভেঙেছেন লিওনেল মেসি। এই স্যান্টোস ২০১১ সালের পর কোপার শিরোপা জেতেনি। 

২০১৯ সালের নাটকীয় ফাইনালে শেষ মিনিটের গোলে ফ্লামেঙ্গোর কাছে হেরে যায় রিভার প্লেট। ফাইনালে পাঁচ মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে রিভার প্লেট সমর্থকদের হূদয় ভেঙে দেন গ্যাব্রিয়েল বারবোসা। প্রথমে গোল হজম করেও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় তুলে নেয় ফ্লামেঙ্গো। 

চারবারের চ্যাম্পিয়ন রিভার সর্বশেষ লাতিন মুকুট পরেছে ২০১৮ সালে। বোকার মতো তারাও সম্প্রতি হারিয়েছে ক্লাবের সাবেক খ্যাতিমান খেলোয়াড় আলেহান্দ্রো সাবেলাকে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ মারা যান ম্যারাদোনার মৃত্যুর দুদিন পরই। 

মার্সেলো গ্যালার্দোর রিভার প্লেটকে ফাইনালে উঠতে ডিঙাতে হবে ব্রাজিলের পালমেইরাসকে। ১৯৯৯ সালের চ্যাম্পিয়ন পালমেইরাস কোয়ার্টার ফাইনালে দুই লেগ মিলিয়ে হারিয়েছে প্যারাগুয়ের লিবার্তাদকে। মোট চারবার কোপার ফাইনাল খেলেছে পালমেইরাস। 

দ্বিতীয় শিরোপার জন্য কি দুই দশকের বধ্যত্ব ঘুচবে পালমেইরাসের? তবে রিভারের বিপক্ষে তাদের কাজটি কঠিনই হবে। কোয়ার্টারে ন্যাসিওনালকে ৮-২ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছে আর্জেন্টাইন দলটি। 

সূত্র: বিবিসি