সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ
শুক্রবার টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও মোহাম্মদ নবির
হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে বাংলাদেশকে ১৫৫ রানের লড়াকু টার্গেট দিতে সমর্থ হয় আফগানিস্তান।
রান তাড়া করতে নেমে ৩৯ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশও বিপদে পড়ে। এরপর দুই তরুণ তৌহিদ
হৃদয় ও শামীম হোসেনের ব্যাটে ভর করে অনবদ্য এক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। তার আগে শেষ
ওভারে হয়েছে মহানাটকীয়তা। করিম জানাতের হ্যাটট্রিকের আনন্দকে মাটি করে দিয়ে জয়
তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
শেষ ৬ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৬ রান—হাতে
পাঁচ উইকেট। সহজ জয় পাওয়ারই কথা স্বাগতিক দলের। কিন্তু অত সহজে সাকিব আল হাসানের
দলকে জিততে দিলেন না জানাত। ২০তম ওভারের প্রথম বলে মেহেদী হাসান মিরাজ বাউন্ডারি
মারলে সমীকরণ নেমে আসে ৫ বলে ২ রান। এরপর জানাতের ম্যাজিক। পরপর তিন বলে তিনি
বিদায় করেন মিরাজ, তাসকিন আহমেদ ও নাসুম আহমেদকে! নন স্ট্রাইকে অসহায় দাঁড়িয়ে ৩২
বলে ৪৭ রানে অপরাজিত থাকা তৌহিদ।
তবে নিরাশ করেননি শরিফুল ইসলাম। জানাতের
পঞ্চম বলটিকে পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে সীমানাছাড়া করে দলের জয় নিশ্চিত করে দেন এই
বামহাতি ব্যাটার।
এই জয়ে দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল
বাংলাদেশ। রোববার দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ।
ইনিংসের ষষ্ঠ বলে
ফজলহক ফারুকির ডেলিভারিতে পরাস্ত হয়ে বোল্ড রনি তালুকদার। নাজমুল হোসেন শান্ত ও
লিটন দাস ধীরে ধীরে ইনিংসটা টানছিলেন, যদিও দলীয় ৩৯ রানের মধ্যে বিদায় ঘটে
দুজনেরই। শান্তকে (১২ বলে ১৪) বোল্ড করেন স্পিনার মুজিব উর রহমান ও আজমতউল্লাহ
ওমরজাইয়ের বলে রশিদ খানকে ক্যাচ দেন লিটন (১৯ বলে ১৮)। অধিনায়ক সাকিব (১৭ বলে ১৯)
আশা দেখিয়েও আশাহত করেন। দল যখন ১০ ওভারে ৬৪ রান তুলে নেয় তখনই ফরিদ আহমেদের বলে
এক বিলাসী শট খেলতে নিয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন তিনি।
এরপর তৌহিদকে নিয়ে ৪৩ বলে ৭৩ রান যোগ করে
দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান শামীম। ২৪ রানে জীবন পাওয়া শামীম শেষ পর্যন্ত ২৫ বলে
৩৩ রান করে শিকার হন রশিদ খানের। তখন দলের প্রয়োজন ১৬ বলে ১৮ রান। এরপর বাকিদের
নিয়ে তরীকে তীরে ভেড়ালেও তৌহিদ হৃদয়ের হৃদয়টা ভাঙার উপক্রম হয়েছিল। অবশেষে
শরিফুলের বাউন্ডারিতে তার বুকের ওপর চেপে বসা পাথরটা যেন সরে যায়।
এর আগে টস জিতে বোলিং বেছে নেয় বাংলাদেশ। ৫২
রানের মধ্যে অতিথিদের চারটি উইকেট তুলে নেন স্বাগতিক বোলাররা। ৮৭ রানে পতন ঘটে
পঞ্চম উইকেটের। স্বাগতিক বোলারদের চাপের মুখে ১৬ ওভারশেষে অতিথিদের সংগ্রহ ছিল
১০১/৫।
কিন্তু ২০ ওভারশেষে আফগান দলের সংগ্রহ অবাক
করবে যে কাউকে। মোহাম্মদ নবি ও ওমরজাইয়ের দৃঢ়তায় ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৪ রান তুলে নেয়
সফরকারীরা। ঢাকার মাঠে নিয়মিত মুখ ওমরজাই ১৮ বলে ৩৩ রান করে বিদায় নিলেও নবিকে কেউ
আউট করতে পারেননি। ৩৮ বছর বয়সী ক্রিকেটার ৪০ বলে ৫৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।
সাকিব আল হাসান ২৭ রানে দুটি উইকেট নেন। একটি
করে উইকেট নেন তাসকিন, শরিফুল, মুস্তাফিজুর রহমান, নাসুম ও মিরাজ। ম্যাচসেরা
হয়েছেন তৌহিদ হৃদয়।
টি২০তে এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ১০
ম্যাচের মধ্যে আফগানিস্তান ৬টি ও বাংলাদেশ ৪টি জিতেছে।










