হায়দরাবাদে টানা দুই জয়ে
দুর্দান্ত সূচনার পর টানা দুই হার! ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছে পাকিস্তান। যদিও
আজ সোমবার আফগানিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালের দাবি জোরালো করার সুযোগ এসেছে বাবর আজমের
দলের সামনে। চেন্নাইয়ের এম চিদম্বরম স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা
আড়াইটায়।
নেদারল্যান্ডস ও শ্রীলংকার
বিপক্ষে জিততে অসুবিধা হয়নি পাকিস্তানের। যদিও এরপর কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয় ভারত
ও অস্ট্রেলিয়ার সামনে। দুই ম্যাচেই হেরেছে তারা। সেই দুঃখ ভুলে আজ পঞ্চম ম্যাচ খেলতে
নামছেন বাবর-রিজওয়ানরা। দুটিতে হেরে যাওয়ায় বাকি ম্যাচগুলোতে আর ভুলের সুযোগ নেই।
আজকের এ দ্বৈরথে ফেভারিট
পাকিস্তানই। রেকর্ড তাদের পক্ষেই কথা বলছে। ওয়ানডেতে সাতবারের মুখোমুখিতে কখনো তাদের
হারাতে পারেনি আফগানিস্তান। ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুই দলের একবারই দেখা। ২০১৯ বিশ্বকাপে
লিডসে সেই ম্যাচে ৩ উইকেটের জয় তুলে নেয় পাকিস্তান।
তবে সম্প্রতি দুই দলের
মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ তৈরি হয়েছে এবং ম্যাচগুলোতে লড়াইও জমছে বেশ। এ বছর শ্রীলংকার
মাটিতে তিন ম্যাচ সিরিজে মুখোমুখি হয় দুই প্রতিবেশী দেশ। সিরিজটি ৩-০তে জিতেছে পাকিস্তান।
ওই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে জিততে জিততে হেরে যায় আফগানরা। রহমানুল্লাহ গুরবাজের ১৫১
রানের রাজসিক ইনিংসে ভর করে আফগানরা ৫ উইকেটে ৩০০ রানের স্কোর গড়ে। জবাব দিতে নেমে
পাকিস্তান এক উইকেট ও এক বল হাত রেখে স্নায়ুক্ষয়ী এক জয় পায়।
আফগানদের প্রিয় ফরম্যাট
টি২০তে দ্বৈরথটা একপেশে হয়নি। সাতবারের মুখোমুখিতে পাকিস্তান তিনবার ও আফগানিস্তান
দুবার জিতেছে।
আফগানদের জন্য অনুপ্রেরণা
হিসেবে কাজ করবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চমক জাগানো জয়। গত ১৫ অক্টোবর দিল্লিতে তারা ৬৯
রানে হারায় বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। এবার আহত বাঘ পাকিস্তানকেও হারাতে চাইবেন
রশিদ খান, মোহাম্মদ নবিরা। চিপকে স্পিন-বান্ধব উইকেটে পাকিস্তানকে বিপাকে ফেলতে পারে
আফগানিস্তানের বিশ্বমানের তিন স্পিনার—রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি আর মুজিব-উর-রহমান।
স্পিনে তাদের দুর্বলতা
আগের ম্যাচেই দৃশ্যমান হয়। বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং স্বর্গে তারা অজি লেগস্পিনার অ্যাডাম
জাম্পাকে দিয়েছে চারটি উইকেট।
এই পরিস্থিতিতে আফগান
স্পিন ত্রয়ীকে সামলাতে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে স্থিতি প্রয়োজন। এখানে অধিনায়ক
বাবর আজমকে নেতৃত্ব দিতে হবে। চলতি আসরে তিনি অনেকটাই নিস্প্রভ। দলটির হয়ে ব্যাট হাতে
লড়ে যাচ্ছেন কেবল মোহাম্মদ রিজওয়ান, যিনি ২৯৪ রান করে টুর্নামেন্টে সবার উপরে। দলের
আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো তেমন পারফর্ম করতে ব্যর্থ সৌদ শাকিল কিংবা ইফতিখার আহমেদ।
পাকিস্তানের জন্য স্বস্তির
হলো পেসম্যান শাহিন শাহ আফ্রিদির ফর্মে ফেরা। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারা ম্যাচে তিনি শিকার
করেন ৫ উইকেট। চলতি বিশ্বকাপে ৯ উইকেট নিয়ে তিনি তালিকার পাঁচে রয়েছেন। যদিও অন্য দুই
পেসার হারিস রউফ ও হাসান আলী পাওয়ার প্লেতে প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
স্পিনে একেবারেই সাদামাটা শাদাব খান, মোহাম্মদ নওয়াজ কিংবা উসামা মির। তারা না নিতে
পারছেন উইকেট, না পারছেন রান নিয়ন্ত্রণ করতে। পাকিস্তানের ব্যর্থতার বড় কারণ বোলিংয়ে
মাঝের ওভারগুলোতে প্রতিপক্ষের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে না পারা।
আফগানদেরও ধারাবাহিকতার
অভাব। বাংলাদেশ ও ভারতের কাছে টানা হারের পর তারা ইংল্যান্ডকে হারায়। পরের ম্যাচেই
নিউজিল্যান্ডের কাছে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়ে যায় হাশমতউল্লাহ শহিদির দল।
পাকিস্তান ৪ ম্যাচে ৪
পয়েন্ট নিয়ে এ মুহূর্তে টেবিলের পাঁচ নম্বরে অবস্থান করছে। আজ আফগানিস্তানকে হারালে
অস্ট্রেলিয়াকে পাঁচে ঠেলে দিয়ে টেবিলের চার নম্বরে উঠে যাবে বাবর আজমের দল। যদিও বুধবার
ডাচদের বিপক্ষে জিতে অজিরা চারে ফেরার সুযোগ পাবে।
অন্যদিকে, আফগানরা টেবিলের
তলানিতে। অবশ্য তাদের সমান পয়েন্ট রয়েছে ইংল্যান্ড, শ্রীলংকা, নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশের।
পাঁচ দেশের ঝুলিতে মাত্র ২ পয়েন্ট। শুধু পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় টেবিলের ১০ নম্বরে
আফগানরা। পাকিস্তানকে হারাতে পারলে তারা এক লাফ দশ থেকে ছয় নম্বরে উঠে যাবে তারা।










