এশিয়া কাপ ফুটবলের মূল পর্বে উঠে এখনো ঘোরের মধ্যে বাংলাদেশের মেয়েরা। সেই ঘোর না কাটতেই তারা জানলেন, মূল পর্বে চীন, উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে হবে তাদের। আগামী বছর মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় আসরে বাংলাদেশের আরেক গ্রুপ প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান। এ তিন দলই ফিফা র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এশিয়া কাপের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ফিলিপাইন; ‘বি’ গ্রুপে চীন, উত্তর কোরিয়া, উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশ এবং ‘সি’ গ্রুপে জাপান, ভিয়েতনাম, ভারত ও চায়নিজ তাইপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

এশিয়া কাপে যে ১২টি দল খেলবে তাদের মধ্যে সর্বনিম্ন র‍্যাংকিং বাংলাদেশের! জাপান ৭, উত্তর কোরিয়া ৯, অস্ট্রেলিয়া ১৫, চীন ১৭, দক্ষিণ কোরিয়া ২১, ভিয়েতনাম ৩৭, ফিলিপাইন ৪১, চাইনিজ তাইপে ৪২, উজবেকিস্তান ৫১, ইরান ৬৮, ভারত ৭০ ও বাংলাদেশ ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

মেয়েদের এশিয়ান কাপে এখন পর্যন্ত সফলতম দল চীন। ১৯৮৬ সাল থেকে ১৪ বার এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ ৯ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চীনের মেয়েরা! ৩ মার্চ সিডনিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই চীনের সামনে পড়েছেন ঋতুপর্ণা, আফঈদা, মনিকারা। ৬ মার্চ একই ভেন্যুতে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ের ৯ নম্বর দল উত্তর কোরিয়া, যারা এশিয়া কাপে ২০০১, ২০০৩ ও ২০০৮ আসরের চ্যাম্পিয়ন। উজবেকিস্তানের পাঁচবার এশিয়া কাপে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। পার্থে ৯ মার্চ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হবে প্রথমবার এশিয়া কাপে খেলার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশ।

শক্তিশালী দলের সঙ্গে খেলতে হবে, এটা কি মেয়েদের জন্য চাপ, নাকি প্রেরণার? এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল সর্বশেষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া ঋতুপর্ণা চাকমাকে। এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে পাঁচ গোল করে বাংলাদেশের সাফল্যের রূপকার এ ফরওয়ার্ড এখন পারো এফসির হয়ে খেলছেন ভুটানের লিগে। থিম্পু থেকে টেলিফোনে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের। অবশ্যই নিজেদের প্রমাণ করারও একটা সুযোগ। এশিয়া কাপে বড় দলের সঙ্গে খেললে আমাদের সবার অভিজ্ঞতা হবে অনেক।’

Untitled-2

এশিয়া কাপ আসরে চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ র‍্যাংকিংয়ের ওপরের দিকের দলগুলোর মেয়েরা ইউরোপসহ বিভিন্ন লিগে খেলে থাকেন। তাদের সঙ্গে মিথষ্ক্রিয়ার সুযোগ প্রসঙ্গে ঋতুপর্ণা বলেন, ‘অবশ্যই। তারা অনেক বড় বড় লিগে খেলে, বড় টুর্নামেন্ট খেলে, তাদের অভিজ্ঞতাও অনেক। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ থাকবে।’

বাছাইপর্বে মিয়ানমার ও বাহরাইনকে হারিয়ে চমক দেখায় বাংলাদেশ, যারা র‍্যাংকিংয়ে ঋতুপর্ণাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল। এবার মূল পর্বেও বড় দলকে হারিয়ে অঘটনের স্বপ্ন দেখেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে ২২ বছর বয়সী সুপারস্টার ঋতুপর্ণা বলেন, ‘এর আগেও আমরা বড় দলের সঙ্গে খেলেছি, তবে এবারই মনে হয় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা শুধু এটুকু জানি, দেশের জন্য, নিজের জন্য সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে খেলার চেষ্টা করব। যেন দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারি।’

র‍্যাংকিং আর অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে থাকলেও বাংলাদেশকে আশা দেখায়, প্রেরণা জোগায় বাছাইপর্বের ফল। সেখানে মিয়ানমার ও বাহরাইনের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে পিটার বাটলারের শিষ্যদের যে আত্মবিশ্বাস জন্মেছে, সেটি নিশ্চয়ই মূল পর্বেও তাদের ভয়ডরহীন ফুটবল খেলার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

সদ্যই মিয়ানমারে বাছাইপর্বের বৈতরণী পেরিয়ে এশিয়া কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশের নারীরা। আগামী বছর মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় বসছে মেয়েদের এশিয়া কাপ। এ আসরে বাংলাদেশ পড়েছে ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীন ও তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়ার গ্রুপে। গ্রুপের আরেক প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান।

২০২৬ সালের ১ থেকে ২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ ভেন্যুতে হবে এশিয়া কাপের ২১তম আসর। ১২ দলের আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আট দলের সুযোগ থাকবে ২০২৭ ব্রাজিল বিশ্বকাপ ও ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে খেলার। তিন গ্রুপের প্রতিটিতে আছে চারটি দল, যারা লড়বে নকআউটের জন্য। তিন গ্রুপের সেরা দুটি করে মোট ৬ দল সরাসরি যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। তাদের সঙ্গে গ্রুপ পর্বে তৃতীয় হওয়া তিন দলের সেরা দুই দলও পাবে শেষ আটে খেলার সুযোগ। বাংলাদেশের সামনে তাই বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করারও হাতছানি।

এশিয়া কাপে শক্তিশালী দলকে মোকাবেলার চ্যালেঞ্জ নিয়ে জাতীয় দলের ডিফেন্ডার নিলুফা ইয়াসমিন নিলা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়াকে পেয়েছিলাম অনূর্ধ্ব-১৬তে। কিন্তু সিনিয়র ন্যাশনাল টিমের সঙ্গে এবারই প্রথম আর চীন ও উজবেকিস্তানের সঙ্গেও এবারই প্রথম খেলবে বাংলাদেশ। এসব বড় বড় টিম আসলে আমাদের মতো নিচু র‍্যাংকিংয়ের টিমের সঙ্গে ফিফা ফ্রেন্ডলিও খেলে না। সুতরাং এই এশিয়ান কাপ টুর্নামেন্টটা আমাদের উন্নতির জন্য বিশাল সুযোগ হিসেবে দেখছি। এবারই প্রথম এমন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে চলেছি, যা আমাদের উন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। বড় টিমের সঙ্গে না খেললে আসলে উন্নতিও সম্ভব না এবং নিজেদের বিশ্বকাপের মঞ্চেও নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। সুতরাং চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে চাপ নিয়েই কঠিন অনুশীলন করে যেতে হবে যতদিন হাতে সময় আছে।’