ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার রক্ষণে দাঁড়িয়ে কখনো খানিকটা পেছনে যেতেন, দ্রুতই আবার পজিশনে ফিরতেন কিংবা চলে যেতেন সামনের দিকে। ফুটবলে এমন খেলোয়াড়কে বলা হয় ‘লিবেরো’। মূলত ফ্রি বা স্বাধীন কথাটি বোঝাতেই ইতালির শব্দ লিবেরোকে নেয়া হয়। লিবেরো বলতে এমন খেলোয়াড়কে বোঝায় তিনি রক্ষণ লাইনের সঙ্গে মিডফিল্ডের সঙ্গে সংযোগকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। এটি ফুটবলে নতুন কোনো ধারণা নয়। ১৯৬০-এর দশকের শেষে ও সত্তরের শুরুতে ফুটবলে এর প্রচলন হয়।
লিবেরোকে জনপ্রিয় করেছেন বেকেনবাওয়ার। জার্মান কিংবদন্তি বেকেনবাওয়ার ছিলেন পারফেক্ট ‘সুইপার’ বা ‘লিবেরো’। বলা হয় তার লিবেরোর ধারণাটি তারই মস্তিষ্কপ্রসূত!
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ও লিবেরো বেকেনবাওয়ার আর নেই। পেলে, ম্যারাডোনা, জাগালোদের সঙ্গে স্বর্গে ফুটবল খেলার ডাকেই হয়তো তিনি সাড়া দিয়েছেন। গত সোমবার তার পরিবারের পক্ষ থেকে এক ঘোষণায় বলা হয়, ৭৮ বছর বয়সে ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেছেন বেকেনবাওয়ার। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে দুবার হৃৎপিণ্ডে অস্ত্রোপচার করা হয় কাইজারের। ২০১৮ সালে তার নিতম্ব প্রতিস্থাপন করতে হয়। হয়তো একাধিক অস্ত্রোপচারই জীবনযুদ্ধে কাবু করে ফেলে সম্রাটকে।
তিনি দেখতে জার্মানির সম্রাট দ্বিতীয় লুডভিগের মতো বলে এক সাময়িকী বেকেনবাওয়ারের নাম দিয়েছিল ‘কাইজার’। সেই থেকেই তিনি কাইজার বা সম্রাট। কাইজারের প্রয়াণে ফুটবল বিশ্বে রীতিমতো শোক নেমে আসে।
একজন ডিফেন্ডার হয়েও ফুটবলের কিংবদন্তিদের অন্যতম বেকেনবাওয়ার। বলে রেশমি ছোঁয়া, আর দাপট তাকে শ্রেষ্ঠত্ব এনে দেয়। অনেকটা ছক কষে খেলা বেকেনবাওয়ারের বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল ঈর্ষণীয়। সফলতাও পেয়েছে অনেক। প্রথমে খেলোয়াড় হিসেবে, পরে কোচ হিসেবেও। ফুটবলে অনন্য কীর্তি রেখে গেলেন তিনি। ইতিহাসে মাত্র তিনজন ব্যক্তি খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছেন। তারা হলেন ব্রাজিলের মারিও জাগালো, জার্মানির বেকেনবাওয়ার ও ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশম। গত শনিবার ৯২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন জাগালো। এবার চলে গেলেন বেকেনবাওয়ার। তিনজনের এ ক্লাবে ফরাসি গ্রেট দেশম এখন বড্ড একা হয়ে পড়লেন।
১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানির অধিনায়ক হিসেবে ও ১৯৯০ সালে একই দেশের কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করেন বেকেনবাওয়ার। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছিল বেকেনবাওয়ারদের জার্মানি। আর ১৯৯০ সালে তার কোচিংয়ে দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকে হারায় জার্মানরা। মাঠে লিবেরোর ভূমিকায় খেলা বেকেনবাওয়ার ছিলেন সত্যিকারের নেতা।
সেটি দলকে নেতৃত্বদানে যেমন, তেমনি আক্রমণ তৈরিতেও। তার মতো চৌকস খেলোয়াড় দলে পাওয়াটা জার্মানি ও বায়ার্ন মিউনিখের জন্য ছিল সৌভাগ্যের। বায়ার্নের হয়ে তিনি খেলেছেন ৫৮২ ম্যাচ। খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে জার্মানির শীর্ষ লিগ শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখান তিনি। বায়ার্নের হয়ে চারটি লিগ শিরোপা ও তিনবার ইউরোপিয়ান কাপ জয় করেন। লিগ শিরোপা জিতেছেন হামবুর্গের হয়েও।
অর্জনে কিংবা নেতৃত্বে জার্মান ফুটবলের সত্যিকারের কাইজার ছিলেন তিনি। বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি জার্মানির হয়ে ১৯৭২ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করেন। জার্মানির হয়ে খেলেছেন ১০৩ ম্যাচ। দুবার ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ ব্যালন ডি’অর ট্রফি জিতেছেন। এপি ও বিবিসি










