অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ২০২৬-এর প্রাইজমানি ১৬ শতাংশ বাড়িয়েছেন আয়োজকরা। বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম আসরের আয়োজক সংস্থা টেনিস অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, এবার টুর্নামেন্টের প্রাইজমানি রেকর্ড ৭ কোটি ৪৯ লাখ ডলার (১১ কোটি ১৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার), যা গত আসরে ছিল ৬ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। এবার পুরুষ ও নারী এককের চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড় প্রত্যেকেই পাবেন ২৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার (প্রায় ৩৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা), যা গত আসরে ছিল ২৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার (প্রায় ২৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা)।

শুরুর দিকের রাউন্ডে যারা খেলবেন তারাও মোটা অংক নিয়ে বাড়ি ফিরবেন। প্রথম রাউন্ডে বিদায় নেয়া খেলোয়াড় পাবেন ১ লাখ ৭৫০ ডলার। তার মানে ওয়াইল্ড কার্ডধারী একজন খেলোয়াড়ও কোটি টাকা পাবেন। আর যদি তিনি জিতে চলেন, তাহলে তো কথাই নেই। কোয়ালিফাইং রাউন্ডেও প্রাইজমানি বাড়ছে। সেখানে তিনটি রাউন্ডের যেকোনোটিতেই আগের চেয়ে ১৬ শতাংশ প্রাইজমানি বেড়েছে।

এক বিবৃতিতে টেনিস অস্ট্রেলিয়ার সিইও ক্রেগ টিলি বলেছেন, প্রাইজমানি বাড়ানো হয়েছে কেবল সুপারস্টারদের জন্যই নয়, যারা কেবলই ট্যুর টেনিসে পথচলা শুরু করেছেন কিংবা যারা আর্থিকভাবে সংগ্রাম করছেন, তাদের দিকেও লক্ষ্য রয়েছে আমাদের। তার কথায়, ‘টেনিসের প্রতিটি পর্যায়েই সহযোগিতা করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ, সেটি প্রাইজমানি বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে আরেকবার প্রদর্শিত হলো। কোয়ালিফাইং রাউন্ডে ২০২৩ সালের পর ৫৫ শতাংশ প্রাইজমানি বাড়িয়ে আমরা বোঝাতে চেয়েছি যে যেকোনো পর্যায়েই পেশাদার টেনিস ক্যারিয়ারটা যেন টেকসই হয়।’

এবার প্রথম রাউন্ড কোয়ালিফায়ারের প্রাইজমানি ৪০ হাজার ৫০০ ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়েছে। মূল ড্রর প্রথম রাউন্ডে এককের প্রাইজমানি দেড় লাখ ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠলে ২ লাখ ২৫ হাজার, সেমিফাইনালিস্ট ১২ লাখ ৫০ হাজার এবং এককের চ্যাম্পিয়ন ৪১ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার প্রাইজমানি পাবেন।

বিস্ময়কর হলেও সত্য, চলতি আসরসহ ১০ বছরে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রাইজমানি বেড়েছে ১৯২ দশমিক ৪২ শতাংশ বা ৭ কোটি ৮৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার!

১২ জানুয়ারি কোয়ালিফাইং রাউন্ড দিয়ে শুরু হবে এবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, আর মূল ড্রর খেলা শুরু হবে ১৮ জানুয়ারি রোববার।

গত বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ছেলেদের এককে ইতালির ইয়ান্নিক সিনার ও মেয়েদের এককে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাডিসন কিজ শিরোপা জয় করেন। ছেলেদের এককে সার্বিয়ার নোভাক জোকোভিচ রেকর্ড ১০ বার ও মেয়েদের এককে অস্ট্রেলিয়ার মার্গারেট কোর্ট রেকর্ড ১১ বার শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছেন। এবার ১১তম শিরোপার খোঁজে খেলবেন নোভাক জোকোভিচ, যিনি ২৪টি গ্র্যান্ড স্লাম জিতে মার্গারেট কোর্টের সঙ্গে যুগ্মভাবে রেকর্ডের অধিকারী।

এবার মেলবোর্ন পার্কে শিরোপা জিততে পারলে সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম জেতার কীর্তি গড়ার পাশাপাশি ২৮ কোটি টাকা নিয়েও বাড়ি ফিরবেন জোকোভিচ। যদিও এরই মধ্যে তিনি বিশ্বের অন্যতম ধনী অ্যাথলেট হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন। কেবল কোর্ট থেকে প্রাইজমানি বাবদই তিনি আয় করেছেন ১৯ কোটি ডলারেরও বেশি! টেনিসের ইতিহাসে তিনিই সর্বোচ্চ প্রাইজমানি জিতেছেন। ১৩ কোটি ৪৯ লাখ ডলার আয় করে রাফায়েল নাদাল দুইয়ে ও ১৩ কোটি ৫ লাখ ৯৪ হাজার ডলার আয় করে রজার ফেদেরার তিনে অবস্থান করছেন। চারে থাকা অ্যান্ডি মারের আয় ফেদেরারের প্রায় অর্ধেক! নাদাল, ফেদেরার ও মারে এখন অবসরে। সক্রিয় খেলোয়াড়দের মধ্যে কার্লোস আলকারাজ ৬ কোটি, আলেক্সান্ডার জেরেভে ৫ কোটি ৮১ লাখ, ইয়ান্নিক সিনার ৫ কোটি ৬৬ লাখ ও দানিল মেদভেদেভ ৪ কোটি ৮৮ লাখ ডলার প্রাইজমানি আয় করেছেন।

মেয়েদের টেনিসে কেউই ১০ কোটি ডলার প্রাইজমানি জিততে পারেননি। ৯ কোটি ৪৮ লাখ ডলার প্রাইজমানি জিতে সবার ওপরে আমেরিকান গ্রেট সেরেনা উইলিয়ামস, যিনি উন্মুক্ত যুগে সর্বোচ্চ সব মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩টি একক গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জিতেছেন। শিরোপার মতো আয়েও তিনি রাজা। তার অর্ধেক আয়ও নেই আর কারো। ৪ কোটি ৫১ লাখ ডলার প্রাইজমানি জিতে দুইয়ে আছেন বেলারুশিয়ান তারকা আরিনা সাবালেঙ্কা, যিনি চারটি গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা জিতেছেন।

এছাড়া পোল্যান্ডের ইগা সিয়ানতেক ৪ কোটি ৩৬ লাখ, যুক্তরাষ্ট্রের ভেনাস উইলিয়ামস ৪ কোটি ২৮ লাখ, রোমানিয়ার সিমোনা হালেপ ৪ কোটি, বেলারুশের ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা ৩ কোটি ৮৮ লাখ, রাশিয়ার মারিয়া শারাপোভা ৩ কোটি ৮৭ লাখ, চেক রিপাবলিকের পেত্রা কেভিতোভা ৩ কোটি ৭৬ লাখ, ডেনমার্কের ক্যারোলিন ওজনিয়াকি ৩ কোটি ৬৪ লাখ, জার্মানির অ্যাঞ্জেলিক কেরবার ৩ কোটি ২৫ লাখ, যুক্তরাষ্ট্রের কোকো গাফ ২ কোটি ৯৭ লাখ, পোল্যান্ডের আগনিয়েস্কা রাদওয়ানস্কা ২ কোটি ৭৬ লাখ, ইউক্রেনের এলিনা সভিতোলিনা ২ কোটি ৬৬ লাখ, চেক রিপাবলিকের ক্যারোলিনা প্লিসকোভা ২ কোটি ৬১ লাখ, রাশিয়ার সভেতলানা কুজনেতসোভা ২ কোটি ৫৮ লাখ ডলার প্রাইজমানি জিতেছেন। বর্তমানে যারা খেলছেন তাদের মধ্যে শীর্ষ পাঁচে আছেন সাবালেঙ্কা, সিয়ানতেক, ভেনাস, আজারেঙ্কা ও কোকো।