পর্তুগিজ গ্রেট ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির চেয়েও দ্রুততম ৩০০ গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে। গত সপ্তাহে ইউরো-২০২৪ বাছাইপর্বের ম্যাচে জিব্রাল্টারকে ১৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ফ্রান্স। ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন এমবাপ্পে। এর মধ্য দিয়ে তিনি দ্রুততম ৩০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছান। 

২৪ বছর ১০ মাস ২৯ দিন বয়সে এ কীর্তি গড়েন এমবাপ্পে। একুশ শতকে বিশ্বের সেরা দুই ফুটবলার রোনালদো ও মেসি ৩০০ গোল করতে এমবাপ্পের চেয়ে বেশি সময় নিয়েছেন। ২০১২ সালে ২৫ বছর ৪ মাস ৩ দিন বয়সে ৩০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছেন মেসি। আর রোনালদো ২৭ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে ৩০০ গোল করতে পারেননি। যদিও ত্রিশের পর চারশরও বেশি গোল করেছেন রোনালদো। ৩৬ বছর বয়সী মেসির বর্তমান ক্যারিয়ার গোল ৮২১, আর ৩৮ বছর বয়সী রোনালদোর গোলসংখ্যা ৮৬৫। এ দুজনকেই গোলে টপকে যেতে পারবেন কি এমবাপ্পে?

এ কীর্তি গড়ার পর ফরাসি গ্রেট থিয়েরি অঁরি ও ১৯৯১ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী জঁ-পিয়েরে পাপিন প্রশংসায় ভাসান এমবাপ্পেকে। ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-২১ ফুটবল দলের কোচ হিসেবে কাজ করা অঁরি বলেন, ‘এ ছেলেটি যা করছে তা আসলে বিস্ময়করই। এটি অবিশ্বাস্য।’

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অঁরির সঙ্গে তুলনা করা হতো এমবাপ্পের। উভয়ই ক্লেয়ারফন্টেইন একাডেমি থেকে বেড়ে ওঠার পর বাম উইঙ্গার হিসেবে মোনাকোয় খেলেছেন, ক্লাবটির হয়ে লিগ শিরোপাও জিতেছেন। অঁরির আরেকটি কীর্তি ছুঁয়েছেন এমবাপ্পে। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছেন তিনি, যা অঁরি জয় করেন ১৯৯৮ সালে। স্কিল আর গতির অপূর্ব সন্নিবেশ এমবাপ্পের মধ্যে। এ কারণে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের সঙ্গেও তুলনা হতো তার।

শুক্রবার রাতে মোনাকোর বিপক্ষে লিগ ম্যাচেও তিনি গোল করেছেন। এটি তার ১৪তম লিগ গোল। মোনাকোকে ৫-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচের প্রস্তুতি সেরেছে পিএসজি। মঙ্গলবার নিউ ক্যাসলের মুখোমুখি হবে প্যারিস জায়ান্টরা।

এমবাপ্পে ২০১৮ সালের পর ২০২২ সালেও বিশ্বকাপ জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন। হ্যাটট্রিক করে বারবার কাঁপিয়েছেন আর্জেন্টিনার স্বপ্নকে। যদিও শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসির সঙ্গে পেরে ওঠেননি তিনি। তবু বিশ্বকে আরেকবার নিজের জাতটা চিনিয়েছেন। এবার ২৪ বছর বয়সেই করলেন ৩০০ গোল, যা অঁরি করেছিলেন ৩০ বছর বয়সে। 

একজন ‘পরিপূর্ণ’ খেলোয়াড় এমবাপ্পেকে নিয়ে অঁরির সনদ, ‘সে গোল করে, গোলে অ্যাসিস্টও করে। সবকিছু কীভাবে করতে হয়, সে জানে। অবশ্যই, এখনো তার উন্নতির জায়গা আছে, কিন্তু সেটা বড় কোনো ইস্যু নয়।’

জিব্রাল্টারের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ১৭তম হ্যাটট্রিক করেছেন এমবাপ্পে। সেসঙ্গে চলতি মৌসুমে ১৯ ম্যাচে করলেন ২১ গোল। ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে ৭৪ ম্যাচ খেলে করলেন ৪৬ গোল। ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা অলিভিয়ার জিরুর চেয়ে আর মাত্র ১০ গোল পেছনে তিনি। পাঁচ গোল করলেই তিনি ধরে ফেলবেন অঁরিকে। 

মার্সেই ও এসি মিলানের সাবেক স্ট্রাইকার পাপিন মনে করেন এখনো উন্নতির অনেক সুযোগ আছে এমবাপ্পের। ফ্রান্সের জার্সিতে ৩০ গোল করা এ ফুটবলার বলেন, ‘যখন আপনি ২৫ বছরের আগেই ৩০০ গোল করে ফেলবেন, তখন সেরাটা আপনার সামনেই পড়ে আছে। এমন পরিপক্বতা, এমন ধারাবাহিকতা খুবই বিরল, বলতে গেলে অনন্য। সে এমনই এক খেলোয়াড়, যে ইনজুরিতে না থাকলে বছরে ৪৫ থেকে ৫৫ গোল করার সামর্থ্য রাখে।’

পেলে করেছেন এক হাজারেরও বেশি গোল। যদিও তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। অনেকে বলে থাকেন, প্রীতি ম্যাচ, সেমি-পেশাদার কিংবা অপেশাদার ফুটবল ম্যাচের গোলও অন্তর্ভুক্ত করেছেন ব্রাজিল গ্রেট। 

এমবাপ্পে কত গোল করতে পারেন? এমন প্রশ্নের জবাবে অঁরি মজা করেন বলেন, এক হাজার! এরপর বলেন, ‘এটা নির্ভর করছে তার সিদ্ধান্তের ওপর। সে এমনই এক খেলোয়াড় ফুটবলই যার ধ্যান-জ্ঞান। সে নিজেকে সব সময় প্রস্তুত রাখে। তার পেশাদারত্ব ও আকাঙ্ক্ষা সব সময়ই প্রবল। ৩০০ গোল? কিছু খেলোয়াড় তো এতটা গোল ট্রেনিংয়েও করতে পারে না।’

এমবাপ্পের নিজের মুখের কথাই শুনুন। ৩০০ গোলকে স্রেফ একটি মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘জানি, আমি কোথায় যাব এবং তিনশরও অনেক বেশি গোল করতে চাই। আমি আমার এ খেলাটিতে সব সময়ই ইতিহাস গড়তে চেয়েছি।’

তিনি বিনয়ের সঙ্গে আরো বলেন, ‘এটা কেবলই প্রক্রিয়ার অংশ। কিছু খেলোয়াড় আছেন যারা কিনা তাদের ক্যারিয়ারে ৮০০-৮৫০ গোল করেছেন। ৩০০ তো হাস্যকর! আমি ক্লাব ও দেশের হয়ে আরো উন্নতির ধারায় থাকার চেষ্টা করব।’