উইম্বলডনে ছেলেদের এককের ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছেন শীর্ষ বাছাই ইতালির ইয়ান্নিক সিনার ও দ্বিতীয় বাছাই স্পেনের কার্লোস আলকারাজ। অল-ইংল্যান্ড ক্লাবে টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিততে নামছেন ২২ বছর বয়সী আলকারাজ।

শুক্রবার রাতে প্রথম সেমিফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের টেইলর ফ্রিটজকে ৬-৪, ৫-৭, ৬-৩, ৭-৬ (৬) গেমে হারান আলকারাজ ও দ্বিতীয় সেমিফাইনালে সার্বিয়ান সুপারস্টার নোভাক জোকোভিচকে ৬-৩, ৬-৩, ৬-৪ গেমে হারান সিনার।

রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল ও নোভাক জোকোভিচকে নিয়ে গড়া ‘বিগ থ্রি’ যুগ-পরবর্তী সময়ে টেনিসের নতুন সেনসেশন এখন আলকারাজ ও সিনার। এ দুজন সর্বশেষ ছয়টি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা ভাগাভাগি করেছেন এবং আজ সপ্তমটি জিতে নিচ্ছেন। এছাড়া ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম বছরের প্রথম তিনটি গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে খেলতে যাচ্ছেন র‍্যাংকিংয়ে এক ও দুই নম্বর খেলোয়াড়। ১২ বারের মুখোমুখিতে আলকারাজ ৮টি ও সিনার ৪টি জিতেছে। যদিও সর্বশেষ ৫ লড়াইয়ের প্রতিটিতে জিতেছেন আলকারাজ।

২৩ বছর বয়সী সিনার অবশ্য এখনই ‘বিগ থ্রি’র সঙ্গে তুলনায় রাজি নন। তিনি বলেন, ‘১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘বিগ থ্রি’ যা করেছেন তার সঙ্গে তুলনা করতে পারেন না। দেড় বছরে ছয়টি গ্র্যান্ড স্লাম, এখনো বড় কিছু নয়।’

সেমিফাইনালে জয় শেষে কথা উঠছিল ফাইনালের প্রতিপক্ষ নিয়ে। এ নিয়ে আলকারাজ বলেন, ‘আমি জয়রথ নিয়ে ভাবছি না। এমনকি ফল নিয়েও ভাবছি না। ভাবছি কেবল আমার স্বপ্ন নিয়ে। আমি এ মুহূর্তে রোববার (ফাইনালের দিন) নিয়ে ভাবছি না, সত্য বলছি। আমি কেবল এ মুহূর্তটা উপভোগ করতে চাই, আরেকটি ফাইনালে ওঠার মুহূর্তটা উপভোগ করতে চাই।’

২০২৩ ও ২০২৪ সালের ফাইনালে তিনি নোভাক জোকোভিচকে হারান। সব মিলিয়ে তিনি পাঁচটি গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনাল খেলে কখনো হারেননি। এক মাস আগেই ফ্রেঞ্চ ওপেনে পাঁচ সেটের ফাইনালে হারান ইতালির ইয়ান্নিক সিনারকে।

২০০৯ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পুরুষ খেলোয়াড় উইম্বলডন ফাইনালে ওঠেননি। এবার সেই চেষ্টাই করছিলেন ফ্রিটজ। যদিও তাকে থামালেন আলকারাজ।

আলকারাজ-সিনার লড়াই মানেই যেন থ্রিলার। গত বছর ইউএস ওপেন ফাইনালেও আলকারাজের কাছে হেরে যান সিনার। আজ থেকে ঠিক ৩৫ দিন আগে রোলাঁ গারোঁয় পাঁচ সেটের ফাইনালে ইতালিয়ান সুপারস্টারকে হারান আলকারাজ। ওই ম্যাচটি সাড়ে ৫ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এই দুই জায়ান্টের আরেকটা লড়াই দেখবে টেনিস বিশ্ব।

জোকোভিচের ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের স্বপ্ন শেষ করে দেয়ার পর ফাইনালের প্রতিপক্ষ আলকারাজকে নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন সিনার। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, সমর্থকরা ফাইনালে কী প্রত্যাশা করবেন? সিনারের উত্তর, ‘গত ফাইনাল তো আমরা দেখেছি—আসলে কী হবে কেউ জানে না। আশা করি, আগের ফাইনালের মতোই এবারো ভালো একটি ম্যাচ হবে। তেমন ভালো ম্যাচ হবে কিনা জানি না, কারণ এটা তো সম্ভব না। তবে আমরা আমাদের সেরা চেষ্টাটা করব।’

রোলাঁ গারোঁর সেই মহাকাব্যিক ফাইনালে দুই সেট পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হন আলকারাজ। এমনকি তিনি এ পথে সিনারের দু দুটি ম্যাচ পয়েন্ট থেকে বেঁচে যান। উভয় খেলোয়াড় একে অন্যের সেরাটা বের করে আনেন। এ লড়াইয়ে দুজনের সব ধরনের শট খেলার সামর্থ্য, অ্যাথলেটিসিজম আর সহিষ্ণুতা দেখান। উইম্বলডন সেমিফাইনাল জয়ের পর রোলাঁ গারোঁর ফাইনাল নিয়ে আলকারাজ বলেন, ‘আমি কিছু ক্লিপস ও কিছু পয়েন্ট দেখলাম, তবে খুব বেশি না। আমি এখনো সেই স্মৃতি নিয়ে ভাবি। আমার এখন পর্যন্ত খেলা সেরা ম্যাচ ছিল সেটি। সে আমার সেরা খেলাটা বের করে এনেছে বলে আমি বিস্মিত হইনি। রোববারও তেমনটি আশা করি।’