ভারতের মাটিতে ১৩তম আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো চার মাস বাকি। কিন্তু দল নির্বাচন নিয়ে এখনই উন্মাদনা শুরু হয়ে গেল বাংলাদেশে। অবশ্য এটি যতটা না নির্বাচকদের দিক থেকে, তার চেয়েও বেশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের দিক থেকে। নির্বাচক প্যানেল থাকলেও বাংলাদেশের দল নির্বাচনে তিনিই ‘‌সর্বেসর্বা’। অর্থাৎ তার ইচ্ছার প্রতিফলন থাকে দলে। এবারো বিশ্বকাপের দল নিয়ে, প্রতিটি পজিশন নিয়ে নিজের মত দিলেন পাপন। সম্প্রতি মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে এসে সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছেন তিনি। যদিও এতটা আগে বিশ্বকাপের দল নিয়ে ভাবছেন না বলে জানালেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু।  

পাপন সবসময়ই দল নিয়ে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন। বিশ্বকাপের আগে দল নিয়ে তার বক্তব্য নিশ্চিতভাবেই নির্বাচকদের জন্য ইঙ্গিত বহন করবে। বিশেষ করে কথা বলেছেন বাংলাদেশ দলের ৭ নম্বর ব্যাটিং পজিশন নিয়ে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ছয় বোলার নিয়ে খেলছে, সেই সঙ্গে ৭ নম্বর পজিশনে মেহেদী হাসান মিরাজের ওপর আস্থা রাখছে দল। 

বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের একাধিক সিরিজ রয়েছে। জুন মাসে আসছে আফগানিস্তান, তাদের সঙ্গে জুলাই মাসে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপ, এরপর বাংলাদেশ সফরে আসছে নিউজিল্যান্ড। জানা গেছে, এশিয়া কাপের পরই বিশ্বকাপের দল চূড়ান্ত করবে বাংলাদেশ। অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেছেন, দলে খুব একটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে চান না এবং খুব বেশি নতুন মুখও আসবে না। 

পাপনও মনে করেন, শীর্ষ ছয়টি পজিশন বাংলাদেশের মজবুত—তামিম, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, তৌহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান। ব্যাটিংয়ের আর একটি পজিশনের জন্য লড়াই হবে চার-পাঁচজনের মধ্যে। এ লড়াইয়ে নামতে হবে সাবেক টি২০ দলনায়ক অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাকেও। সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজে অবশ্য তিনি খেলার সুযোগ পাননি।

৭ নম্বর ব্যাটিং পজিশন ও মাহমুদউল্লাহর সুযোগ নিয়ে পাপন বললেন, ‘‌আমরা যদি পাঁচজন বোলার খেলাতে চাই, তবে একজন বাড়তি ব্যাটার পাব। ইয়াসির আলী বর্তমানে দলে রয়েছে। এখন আফিফ হোসেন, মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক হোসেন দলে নেই। কিন্তু তাদের যেকোনো সময়ই ডাকা হতে পারে। আমরা যদি পাঁচজন বোলার খেলাতে চাই, তবে একজন অলরাউন্ডার নিতে হবে। আমি জানি না নান্নু (প্রধান নির্বাচক) কী করবে, আমি স্রেফ নিজের কথাটিই বললাম।’

তিনি এ নিয়ে আরো বলেন, ‘‌একাদশে কে খেলবেন, সেই নিশ্চয়তা কারো ক্ষেত্রেই নেই। আফিফ ও মাহমুদউল্লাহ তাদের ব্যাটিংয়ের জন্য জায়গা পেতেও পারে। চোট থেকে ফেরার পর ইয়াসির খুব একটা কিছু করতে পারেনি। আফিফ ও মোসাদ্দেক বোলিং বিবেচনায় এগিয়ে। একই কারণে মাহমুদউল্লাহও। অবশ্য মোসাদ্দেক ও মাহমুদউল্লাহর চেয়ে আফিফ ভালো ফিল্ডার।’

ব্যাক-আপ ওপেনার নিয়েই কথা বলেছেন পাপন। তিনি জানালেন, কেউ চোটে পড়লে যাতে বিকল্প হিসেবে কাজে লাগানো যায় সেজন্যই মোহাম্মদ নাইম শেখ কিংবা এনামুল হক বিজয়ের মধ্যে কেউ একজনকে দলে রাখা হতে পারে। এনামুল সদ্য সমাপ্ত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষ রান সংগ্রাহক। 

বাংলাদেশ দলের পেস পুলে আছেন অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান ছাড়াও এবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম। পাপন বলেন, ‘‌আমার ধারণা তিনজন পেসার খেলবে। সাকিব খেললে তো একজন স্পিনার বাড়তি পাব। চারজন পেসারও খেলতে পারে। ছয় বোলার নিয়ে খেলতে গেলে বাড়তি স্পিনার লাগবে। আমার মনে হয় না কেউ বলবে, মিরাজকে বিশ্বকাপের স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়া উচিত।’

আগামী ১০ জুন বাংলাদেশ সফরে আসবে আফগানিস্তান। তাদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের সেরা দলটাই খেলাতে চান মিনহাজুল। সম্প্রতি নিজ বাসায় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে না। আফগানিস্তান খুব ভালো দল। যেহেতু ওদের বিপক্ষে আমাদের একটা খারাপ অভিজ্ঞতা আছে, গত টেস্ট (২০১৯ সেপ্টেম্বরে, চট্টগ্রামে) ম্যাচটা হেরেছি। কোনো কিছু হালকাভাবে নেয়া হবে না। সেরা দলটাই দেয়া হবে।’

বিশ্বকাপের আগে ব্যস্ত সূচি। তাই এখনই বিশ্বকাপের স্কোয়াড নিয়ে কথা বলতে চান না নান্নু। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ নিয়ে এখন আমি কিছুই বলতে পারব না। কারণ, এখনো চার মাস বাকি। আমার মনে হয়, আমরাই একমাত্র টেস্ট খেলুড়ে দেশ, যারা এখনই বিশ্বকাপ দল নিয়ে কথা বলছে। প্রতিটি সিরিজই গুরুত্বপূর্ণ। চার মাস পর কী হবে, তার চেয়ে আগামীকাল কী হবে, সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা দরকার।’

ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ ৫ অক্টোবর শুরু হয়ে চলবে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। স্বাগতিক ভারতসহ আটটি দেশ সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে, বাকি দুটি দল আসবে বাছাই টুর্নামেন্ট খেলে। সরাসরি বিশ্বকাপে উঠেছে বাংলাদেশও।